মার্কিন চাপে ইসরায়েলের সঙ্গে নিরাপত্তা চুক্তির পথে সিরিয়া

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ২১:১৪আপডেট : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ২২:২০

যুক্তরাষ্ট্রের চাপে ইসরায়েলের সঙ্গে নিরাপত্তা চুক্তির দিকে এগোচ্ছে সিরিয়া। তবে এটি পূর্ণাঙ্গ শান্তিচুক্তি নয়, বরং আংশিক একটি সমঝোতা হতে পারে। এর মাধ্যমে সম্প্রতি ইসরায়েলের দখল করা ভূমি ফেরত পাওয়ার আশা করছে দামেস্ক। তবে আলোচনার অগ্রগতি এখনও অনিশ্চিত। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।

বিষয়টির সঙ্গে যুক্ত একাধিক সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে, সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ অধিবেশনের আগে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কূটনৈতিক অগ্রগতি ঘোষণা করতে চান। এ জন্যই ওয়াশিংটন দুই পক্ষকে দ্রুত আলোচনায় বসতে চাপ দিচ্ছে।

সূত্রগুলোর মতে, সিরিয়ার প্রস্তাবের মূল লক্ষ্য ইসরায়েলি সেনাদের প্রত্যাহার, ১৯৭৪ সালের যুদ্ধবিরতির ভিত্তিতে নিরস্ত্রীকরণ অঞ্চল পুনর্বহাল এবং বিমান ও স্থল হামলা বন্ধ করা। তবে গোলান মালভূমির প্রশ্নটি আলোচনায় আসেনি। সিরিয়ার এক কর্মকর্তা বলেছেন, এটি ভবিষ্যতের জন্য রেখে দেওয়া হয়েছে।

১৯৪৮ সালে ইসরায়েল প্রতিষ্ঠার পর থেকেই দেশটির সঙ্গে সিরিয়ার আনুষ্ঠানিক যুদ্ধাবস্থা চলছে। যদিও মাঝেমধ্যে অস্ত্রবিরতি হয়েছে, কিন্তু কোনও পূর্ণাঙ্গ শান্তিচুক্তি হয়নি।

ইসরায়েলের কঠোর অবস্থানের কারণে আলোচনায় এখনও অনিশ্চয়তায় রয়েছে। এক ইসরায়েলি নিরাপত্তা সূত্র বলেছে, এটি ট্রাম্পের ব্যক্তিগত উদ্যোগ। তিনি মধ্যপ্রাচ্যে বড় কোনও সাফল্যের স্থপতি হিসেবে নিজেকে উপস্থাপন করতে চান। কিন্তু ইসরায়েল তেমন ছাড় দিচ্ছে না।

তবে যুক্তরাষ্ট্র বলছে, ইসরায়েল, সিরিয়া এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে স্থায়ী স্থিতিশীলতা আনবে এমন যেকোনও উদ্যোগকে তারা সমর্থন করবে।

আলোচনায় আস্থার বড় ঘাটতি দেখা দিয়েছে। সিরিয়ার দক্ষিণাঞ্চলে সাম্প্রদায়িক সহিংসতা ও ইসরায়েলি হামলা আলোচনার পরিবেশকে আরও কঠিন করেছে। এক পশ্চিমা কূটনীতিক বলেছেন, প্রাথমিক আলোচনায়ও দুইপক্ষের মধ্যে বিশ্বাসের ভিত্তি তৈরি হয়নি।

সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা মার্কিন উৎসাহে আলোচনায় গতি আনলেও বিস্তৃত শান্তিচুক্তির বিষয়ে এখনই প্রস্তুত নন। সিরিয়ার এক কর্মকর্তা বলেছেন, গোলানের বিষয়ে কোনও আপস মানে তার (শারা) শাসনের অবসান।

দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলি আগ্রাসন সিরিয়ার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, ইসরায়েলি সেনারা গ্রামে গ্রামে গিয়ে তল্লাশি চালাচ্ছে এবং সামরিক উপস্থিতি বাড়াচ্ছে। ইসরায়েল বলছে, এসব অভিযান সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ঠেকানোর জন্য।

এদিকে, সুইদায় দ্রুজ জনগোষ্ঠীর ওপর সিরীয় বাহিনীর অভিযানের সুযোগ কাজে লাগাচ্ছে ইসরায়েল। স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে, তারা দ্রুজ মিলিশিয়াদের অস্ত্র ও অর্থ সহায়তা দিচ্ছে। রয়টার্স স্বাধীনভাবে এসব দাবি যাচাই করতে পারেনি।

বিশ্লেষকদের মতে, শারার সামনে দ্বিমুখী চাপ রয়েছে। একদিকে, ইসরায়েলের আগ্রাসন ঠেকাতে সমঝোতা দরকার; অন্যদিকে, দেশীয় জনমত ইসরায়েলবিরোধী। তাছাড়া, অর্থনৈতিক সহায়তা ও পুনর্গঠনের জন্যও পশ্চিমা ও উপসাগরীয় রাষ্ট্রগুলোর সমর্থন চাইছে দামেস্ক।

সাবেক তুর্কি কূটনীতিক এরদেম ওজান বলেন, শারা হয়তো অর্থনৈতিক সুবিধা পেতে বাস্তববাদী ছাড় দিতে পারেন। তবে ক্ষমতার বৈধতা রক্ষার জন্য তাকে জাতীয়তাবাদী মনোভাবের সঙ্গেও ভারসাম্য রাখতে হবে।

 

/এএ/এমওএফ/
সম্পর্কিত
রাস্তায় তোশক আর মুখে মুখ, দিল্লির আগুনে যেভাবে ‘হিরো’ হলেন স্থানীয়রা
উচ্চ ক্ষমতার কার্বন ফাইবারের বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু চীনে
শেষ মুহূর্তেও একে অপরকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরেছিলেন তারা
সর্বশেষ খবর
শুরু হচ্ছে বেসরকারি শিক্ষকদের অবসর ভাতা পরিশোধ
শুরু হচ্ছে বেসরকারি শিক্ষকদের অবসর ভাতা পরিশোধ
২০০ টাকায় দেখা যাবে বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া সিরিজ
২০০ টাকায় দেখা যাবে বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া সিরিজ
‘ক্রিয়েটিভ ইকোনমি’ কী, কেন এত গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার 
‘ক্রিয়েটিভ ইকোনমি’ কী, কেন এত গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার 
আসামিপক্ষের আইনজীবী নিয়ে সমালোচনা, যা বললেন মূসা কালিমুল্লাহ
শিশু রামিসা হত্যা মামলাআসামিপক্ষের আইনজীবী নিয়ে সমালোচনা, যা বললেন মূসা কালিমুল্লাহ
সর্বাধিক পঠিত
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী