ইসরায়েল রেড ক্রসের কাছে অবশেষে ১৫ জন ফিলিস্তিনির দেহ হস্তান্তর করেছে। বিনিময়ে ইসরায়েল তাদের শেষ বন্দীকে গ্রহণ করেছে। এর মধ্য দিয়ে গাজায় দু বছর ধরে চলা সংঘাতের একটা অংশের সমাপ্তি ঘটলো। কাতারভিত্তিক গণমাধ্যম আল জাজিরা এ খবরটি জানিয়েছে।
হামাসের মুখপাত্র হাজেম কাসেম বলেছেন, “সমস্ত প্রোটোকল প্রস্তুত রয়েছে। সব নথিও প্রস্তুত রয়েছে। বন্দি হস্তান্তর তদারকির জন্য কমিটিগুলো গঠন করা হয়েছে। এটি নিশ্চিত করবে যে গাজার সব খাতে প্রশাসনের সম্পূর্ণ দায়িত্ব প্রযুক্তিগত কমিটির হাতে চলে যাচ্ছে।”
গত ১০ অক্টোবর যুদ্ধবিরতি চুক্তির আওতায় সপ্তাহব্যাপী আলোচনার পর এই হস্তান্তর সম্পন্ন হয়। ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ এখনও নির্ধারণ করছেন দেহগুলো নাসের হাসপাতাল, খান ইউনিসে দেওয়া হবে নাকি গাজা সিটির আল-শিফা হাসপাতালে।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু গত সপ্তাহে শেষ উদ্ধার হওয়া বন্দি, পুলিশ সদস্য র্যান গভিলিকে ইসরায়েলের নায়ক বলে আখ্যায়িত করেছেন এবং ভবিষ্যতে হামলার জন্য ইসরায়েলের শত্রুদের কঠোর ফলাফলের সতর্কতা দিয়েছেন।
যদিও গাজায় থাকা সব বন্দি ফেরত এসেছে, তবু হাজার হাজার ফিলিস্তিনি ইসরায়েলের কারাগারে রয়েছেন, যাদের মাঝে অনেকেই কোনও অভিযোগ ছাড়াই, বিনাবিচারে। জাতিসংঘ ও মানবাধিকার সংস্থার এ বিষয়ক রিপোর্টে কারাগারে নির্যাতন, অবহেলা এবং মৃত্যুর ঘটনা উল্লেখ আছে।
গাজা এখনও মানবিক সংকটে ভুগছে। সিভিল ডিফেন্সের মুখপাত্র মাহমুদ বাসাল বলেন, খাদ্য, আবাসন ও চিকিৎসা সরঞ্জামের অভাবে এই অঞ্চল এক অভূতপূর্ব সংকটের মুখে রয়েছে। এবং ত্রাণ কার্যক্রমের ওপর ইসরায়েল প্রদত্ত অবরোধ পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলছে।গাজায় যুদ্ধবিরতি চুক্তির আওতায় রাজনৈতিক পরিবর্তনও পরিকল্পনায় রয়েছে। এটি প্রযুক্তিগত কমিটির মাধ্যমে পরিচালিত হবে এবং মার্কিন নেতৃত্বাধীন বোর্ড অব পিসের তত্ত্বাবধানে হবে। হামাস জানিয়েছে, তারা সবকিছু হস্তান্তর করতে প্রস্তুত।









