গাজায় ইসরায়েলের হয়ে যুদ্ধ করা পশ্চিমাদের বিচার কি সম্ভব?

রাইনা সিদ্দিকী
১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৫:০৬আপডেট : ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৫:০৬

ইসরায়েলের গাজা অভিযানে প্রচুর বিদেশি নাগরিক সামরিক বাহিনীতে যোগ দিয়েছে। যুদ্ধ শুরু থেকে প্রায় ৭২,০০০ জনের বেশি ফিলিস্তিনিকে হত্যা করা হলেও ইসরায়েলের সামরিক বাহিনীতে অন্তত ৫০,০০০-এর বেশি সৈনিকের হাতে আরেকটি দেশের পাসপোর্ট রয়েছে,এমন তথ্য তুলে ধরেছে ইসরাইলের নাগরিক অধিকার সংগঠন হাসলাখা। কাতারভিত্তিক গণমাধ্যম আল জাজিরা এ বিশ্লেষণ তুলে ধরেছে।  

বিভিন্ন দেশ থেকে আসা এই সৈনিকদের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র থেকে সর্বোচ্চ ১২,১৩৫ জন সংখ্যায় রয়েছেন।এছাড়া ফ্রান্সের নাগরিক প্রায় ৬,১২৭ জন, রাশিয়ার প্রায় ৫,০৬৭ জন, এবং ইউক্রেনের ৩,৯০১ জন এতে অন্তর্ভুক্ত। এছাড়া যুক্তরাজ্য, জার্মানি, দক্ষিণ আফ্রিকা ও দক্ষিণ আমেরিকার বিভিন্ন দেশ থেকেও ইসরায়েলিদের সঙ্গে এই বাহিনীতে দায়িত্ব পালন করছেন নাগরিকরা।

বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধাপরাধ ও মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের অভিযোগ ওঠায় আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিকোণে এসব দ্বৈতনাগরিক সদস্যদের দায়ের বিষয়ও জটিল। কাতারের হামাদ বিন খলিফা বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রান্সন্যাশনাল আইন বিশেষজ্ঞ ইলিয়াস বান্টেকাস বলেছেন, আন্তর্জাতিক আইন অনুসারে যেকোনো যুদ্ধাপরাধের দায় নির্ভর করে জাতীয়তা নয়, কাজের ওপর। তবে বাস্তবে এসব ব্যক্তিকে আদালতে আনা ও বিচার করা কঠিন, বিশেষত সময়, আন্তঃরাষ্ট্রীয় সমঝোতা বা রাজনৈতিক চাপের মতো প্রভাবক থাকলে।  

এ পর্যন্ত গাজায় কোনো দ্বৈতনাগরিক সৈনিককে যুদ্ধাপরাধে গ্রেফতার করা হয়নি। তবে মানবাধিকার গ্রুপ, বিশেষ করে উত্তর লন্ডনে অবস্থিত প্যালেস্টিনিয়ান সেন্টার ফর হিউম্যান রাইটস (পিসিএইচআর) এবং পাবলিক ইন্টারেস্ট ল’ সেন্টার (পিআইএলসি) ইতোমধ্যে মেট্রোপলিটন পুলিশকে অভিযোগপত্র জমা দিয়েছে, যেখানে কয়েকজন ব্রিটিশ-ইসরায়েলি নাগরিককে বিভিন্ন ঘটনায় অভিযুক্ত করা হয়েছে।

আইসিসি বা আন্তর্জাতিক ফৌজদারি আদালতের রোম সনদে স্বাক্ষরকারী দেশগুলোর ক্ষেত্রে অভিযোগ উঠলে তাদের বিচারের সুযোগও তৈরি হয়। ফিলিস্তিন ২০১৫ থেকে এই সনদের সদস্য থাকায় আইসিসির অধীনে ন্যায়বিচারের সম্ভাবনা থাকলেও প্রক্রিয়াটি সময়সাপেক্ষ।

এছাড়া একটি বেলজিয়ামভিত্তিক হিন্দ রাজাব ফাউন্ডেশন গাজায় সম্ভাব্য অপরাধীদের শনাক্তে সামাজিক মিডিয়া থেকে তথ্য সংগ্রহ করছে এবং এক হাজারেরও বেশি সম্ভাব্য অভিযুক্তকে আইনি পদক্ষেপের আওতায় নেওয়ার চেষ্টা করছে। তাদের দাবি, আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার নিশ্চিত না হলে অপরাধীদের দায়মুক্তি চলতেই থাকবে।

সব মিলিয়ে, যুদ্ধের জটিলতা শুধু যুদ্ধক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ নয়, আইনি, আন্তর্জাতিক দায়দায়িত্ব, এবং বহু দেশের নাগরিকদের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের দিক থেকেও তা বিশ্বব্যাপী প্রভাব ফেলে।

/আরএস/ /এমবিএম/
সম্পর্কিত
মার্কিন যুদ্ধবিরতি প্রত্যাখ্যান হিজবুল্লাহর, চলছে ইসরায়েলি হামলা
ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্নে মার্কিন চাপ মানছে না ওমান
রাস্তায় তোশক আর মুখে মুখ, দিল্লির আগুনে যেভাবে ‘হিরো’ হলেন স্থানীয়রা
সর্বশেষ খবর
ফ্রিল্যান্সারদের আয় থেকে সাড়ে ৭ শতাংশ কর কাটা নিয়ে যা বলছে এনবিআর 
ফ্রিল্যান্সারদের আয় থেকে সাড়ে ৭ শতাংশ কর কাটা নিয়ে যা বলছে এনবিআর 
কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের আয়ে ৭.৫% কর নেওয়ার অভিযোগ, স্পষ্ট করার দাবি সারজিসের
কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের আয়ে ৭.৫% কর নেওয়ার অভিযোগ, স্পষ্ট করার দাবি সারজিসের
ভাতের সঙ্গে জমবে মজাদার সরষে সবজি
ভাতের সঙ্গে জমবে মজাদার সরষে সবজি
মার্কিন যুদ্ধবিরতি প্রত্যাখ্যান হিজবুল্লাহর, চলছে ইসরায়েলি হামলা
মার্কিন যুদ্ধবিরতি প্রত্যাখ্যান হিজবুল্লাহর, চলছে ইসরায়েলি হামলা
সর্বাধিক পঠিত
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী