চলতি বছরের কান চলচ্চিত্র উৎসবে আবারও উঠে এসেছে গাজা যুদ্ধ ও ফিলিস্তিন ইস্যু। অভিনেতা, চিত্রনাট্যকার ও নির্মাতাদের অনেকে প্রকাশ্যে কথা বলেছেন গাজায় চলমান যুদ্ধ, ফিলিস্তিনের পরিস্থিতি এবং রাজনৈতিক অবস্থান নেওয়া শিল্পীদের ঝুঁকি নিয়ে।
২০২৩ সালে গাজা যুদ্ধ শুরুর পর থেকে কান উৎসবের প্রতিটি আসরেই সিনেমার পাশাপাশি আলোচনার কেন্দ্রে ছিল এই সংঘাত। সংবাদ সম্মেলন, লালগালিচা ও বিভিন্ন জনসম্মুখ আলোচনায় বারবার উঠে এসেছে বিষয়টি।
কেট ব্ল্যানচেট
কানের একটি উন্মুক্ত আলোচনায় ফিলিস্তিনিদের পক্ষে কথা বলায় এক দর্শক কেট ব্ল্যানচেটকে ধন্যবাদ জানান। এর জবাবে এই অস্ট্রেলীয় অভিনেত্রী বলেন, ‘এটি অত্যন্ত দুঃখজনক বিষয় যে চলচ্চিত্র উৎসবগুলো হঠাৎ করেই যুদ্ধ, সংঘাত ও গণহত্যা নিয়ে কথা বলার একমাত্র জায়গায় পরিণত হয়েছে; যেন এগুলো এখানেই সমাধান হয়ে যাবে।’
উল্লেখ্য, ব্ল্যানচেট এর আগে গাজায় সহিংসতা বন্ধের আহ্বান জানিয়ে ‘আর্টিস্টস ফর সিজফায়ার’ চিঠিতে স্বাক্ষর করেছিলেন।
হাভিয়ের বারদেম
গাজা যুদ্ধ এবং ইসরায়েলের সমালোচনা করা শিল্পীদের প্রতি যে আচরণ করা হচ্ছে, তা নিয়ে উৎসবের সবচেয়ে মুখর ব্যক্তিত্বদের একজন স্প্যানিশ অভিনেতা হাভিয়ের বারদেম। বার্তা সংস্থা এএফপি-কে তিনি বলেন, গাজা যুদ্ধের বিরুদ্ধে জনসমক্ষে প্রচারণা চালানো সত্ত্বেও তিনি ‘আগের চেয়ে অনেক বেশি কাজ পাচ্ছেন’। সেই সাথে তিনি বিশ্বাস করেন যে, এই সংঘাতকে ঘিরে তৈরি হওয়া ‘পুরোনো বয়ান’ এখন পাল্টাচ্ছে।
রদ্রিগো সোরোগোয়েন পরিচালিত প্রতিযোগিতামূলক বিভাগের সিনেমা ‘দ্য বিলাভেড’-এর সংবাদ সম্মেলনেও বারদেম বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন। চলচ্চিত্রে বিধ্বংসী পুরুষত্ব ফুটিয়ে তোলার বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে বারদেম এই থিমটিকে রাজনীতির সাথে যুক্ত করেন। তিনি ডোনাল্ড ট্রাম্প, ভ্লাদিমির পুতিন এবং বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নাম উল্লেখ করে বলেন, এই ধরনের ক্ষতিকর পুরুষালি আচরণই মধ্যপ্রাচ্য ও ইউক্রেনসহ বিশ্বজুড়ে চলমান সংঘাতগুলো উসকে দিচ্ছে।
এক দশকেরও বেশি সময় ধরে ফিলিস্তিনের পক্ষে সোচ্চার বারদেম। চলতি বছরের শুরুর দিকে অ্যাকাডেমি অ্যাওয়ার্ডসে (অস্কার) সেরা আন্তর্জাতিক ফিচার চলচ্চিত্রের পুরস্কার প্রদানের সময় তিনি বলেছিলেন, ‘যুদ্ধকে না বলুন এবং ফিলিস্তিনকে মুক্ত করুন।’
পল লাভের্টি
এ বছরের কানের জুরি সদস্য ও স্কটিশ চিত্রনাট্যকার পল লাভের্টি উৎসবের উদ্বোধনী সংবাদ সম্মেলনে গাজা যুদ্ধের তীব্র সমালোচনা করেন। একই সাথে যারা এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলছেন, সেই শিল্পীদের কালো তালিকাভুক্ত করারও নিন্দা জানান তিনি।
লাভের্টি বলেন, ‘গাজায় নারী ও শিশু হত্যার বিরোধিতা করার কারণে সুসান সারান্ডন, হাভিয়ের বারদেম এবং মার্ক রাফালোর মতো তারকাদের কালো তালিকাভুক্ত হতে দেখাটা কি দারুণ কৌতূহলোদ্দীপক নয়? হলিউডের যেসব মানুষ এটি করছে, তাদের ধিক্কার জানাই।’
ব্রিটিশ চলচ্চিত্র নির্মাতা কেন লোচের সাথে দীর্ঘ কাজের জন্য পরিচিত লাভের্টি আরও বলেন, কঠিন রাজনৈতিক বিষয়গুলো এড়িয়ে যাওয়ার চেয়ে শিল্পীদের চারপাশে ঘটে যাওয়া বিশ্বের সাথে যুক্ত থাকার এক ধরণের দায়িত্ব রয়েছে।
হ্যানা আইনবাইন্ডার
‘হ্যাকস’ সিরিজের তারকা হ্যানা আইনবাইন্ডার কানে ফিলিস্তিন প্রসঙ্গে কথা বলেন এবং রাজনৈতিক মতামতের কারণে অভিনয়শিল্পীদের ক্যারিয়ারে যে ধরনের পেশাগত পরিণতি ভোগ করতে হতে পারে, তা নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
ভ্যারাইটি সাময়িকীকে আইনবাইন্ডার বলেন, ‘আমি সুসান সারান্ডন এবং মেলিসা বারেরার মতো মানুষদের সাথে কাজ করতে পেরে সত্যি আনন্দিত, যারা আমার চেয়েও অনেক বেশি পরিণতি ভোগ করেছেন। তবে কথা না বলার মাশুল আরও অনেক বেশি।’
দ্য গার্ডিয়ান-এর সাথে আলাপকালে তিনি জানান, ক্যারিয়ারের ঝুঁকির চেয়ে নীরব থাকার নৈতিক মাশুল অনেক বেশি বড়। ফিলিস্তিনের পক্ষে অবস্থান নেওয়ার জন্য তিনি সারান্ডন, বারেরা, রাফালো ও বারদেমের মতো তারকাদের প্রতি নিজের শ্রদ্ধাবোধ ব্যক্ত করেন।
এর আগেও বড় বড় মঞ্চে ফিলিস্তিনের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন আইনবাইন্ডার। বিশেষ করে অ্যামি অ্যাওয়ার্ডসে পুরস্কার গ্রহণের পর তিনি তার বক্তব্য শেষ করেছিলেন ‘ফিলিস্তিনকে মুক্ত করুন’ স্লোগান দিয়ে।
সূত্র: দ্য ন্যাশনাল









