তুরস্কের ইস্তাম্বুলের ব্লু মস্ক বা সুলতান আহমেদ মসজিদটি তার চোখধাঁধানো নীল রঙের অভ্যন্তরীণ ইজনিক টাইলস এবং ছয়টি মিনার নিয়ে অটোমান স্থাপত্যের এক অনন্য নিদর্শন। তবে এর স্নিগ্ধ পরিবেশের পেছনে লুকিয়ে আছে রক্তপাত, প্রতিযোগিতা ও ধর্মীয় বিতর্কের ইতিহাস।
১৬০৯ থেকে ১৬১৬ সালের মধ্যে নির্মিত এই ঐতিহাসিক মসজিদটি মাত্র ১৩ বছর বয়সে সিংহাসনে বসা সুলতান প্রথম আহমেদের এক বিশাল উদ্যোগের ফসল ছিল।
৩০০ মিটার দূরে অবস্থিত বাইজেন্টাইন আমলের বিখ্যাত হাগিয়া সোফিয়াকে টেক্কা দিতে ১৯ বছর বয়সে স্থাপত্যবিদ সেদেফকার মেহমেদ আগাকে দিয়ে এই মসজিদ নির্মাণ শুরু করান সুলতান। এর সবচেয়ে বড় বিতর্কের জায়গা ছিল ছয়টি মিনার। সে সময়ে ইসলামের সবচেয়ে পবিত্র স্থান মক্কার মসজিদুল হারামেও ছিল ছয়টি মিনার। অটোমান সুলতানের এমন পদক্ষেপে ক্ষুব্ধ হয়ে অনেকে গুঞ্জন ছড়ায় যে, সুলতান নিজেকে মহানবীর (সা.) সমকক্ষ ভাবছেন। এই বিতর্কের নিরসনে সুলতান আহমেদ পরবর্তীতে মক্কার মসজিদে সপ্তম মিনারটি নির্মাণের অর্থায়ন করেন।
লেখক ক্যারোলিন ফিঙ্কেল জানান, ঐতিহাসিক বিবরণ অনুযায়ী, যুদ্ধ থেকে বিপুল অর্থ অর্জিত হলেই কেবল সুলতানদের এমন বিলাসবহুল স্থাপত্য গড়ার কথা ছিল। ১৬০৬ সালের অসংগঠিত যুদ্ধের পর সুলতানের কাছে পর্যাপ্ত অর্থ না থাকা সত্ত্বেও এমন বিশাল ইমারত নির্মাণ করায় তিনি সমালোচিতও হন। তবে কমপ্লেক্সের বাজারের দোকানগুলোর ভাড়া পরবর্তীতে মসজিদের রক্ষণাবেক্ষণে স্থায়ী আয়ের ব্যবস্থা করে।
পাশাপাশি, অটোমান রাজপরিবারের রক্তক্ষয়ী ভাই হত্যার নির্মম ঐতিহ্য ভেঙে নিজের সৎভাইকে মৃত্যুদণ্ড না দিয়ে প্রাসাদের খাঁচা নামের কক্ষে বন্দি রাখার সিদ্ধান্ত নেন সুলতান আহমেদ। ২৭ বছর বয়সে টাইফয়েডে আক্রান্ত হয়ে তার মৃত্যু হলেও, ছয় মিনারের এই স্থাপত্য শত শত বছর ধরে ইস্তাম্বুলের আকাশে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে।
সূত্র: সিএনএন

একটি পুরো দেশের চেয়েও বড় বিশ্বের এই বৃহত্তম বিমানবন্দর
খাবারের পুষ্টিগুণ কমছে, বিকল্প কী






