বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির প্রেক্ষিতে আন্ত:ব্যাংক লেনদেনের বৈশ্বিক সংগঠন সুইফট ও ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউ ইয়র্ক কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে তথ্য চেয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের একজন সিনেটর। এর আগে ডেমোক্রেট দলীয় কংগ্রেস সদস্য ক্যারোলিন ম্যালোনি বাংলাদেশের রিজার্ভ চুরির গোটা ঘটনার তদন্ত দাবি করেছিলেন। এবার এ সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য চেয়ে ডেলাওয়ার অঙ্গরাজ্যের সিনেটর এবং হোমল্যান্ড সিকিউরিটি কমিটির শীর্ষ ব্যক্তি টম কার্পার সুইফট এবং ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংককে চিঠি দিয়েছেন। শিগগির এর উত্তর চেয়েছেন তিনি।
উল্লেখ্য, সাংবিধানিকভাবে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি কমিটির তদন্তের এখতিয়ার রয়েছে। এর শীর্ষ ব্যক্তি যে কোনও ঘটনা তদন্তের সাংবিধানিক অধিকার ভোগ করে থাকেন। সেই সাংবিধানিক অধিকারেই সুইফট ও ফেডারেল ব্যাংকের কাছে তথ্য চেয়েছেন টম কার্পার।
আরও পড়ুন: ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকের ভূমিকা নিয়ে মার্কিন কংগ্রেস সদস্যের প্রশ্ন
বাংলাদেশ ব্যাংকের সিস্টেম হ্যাকড করে চলতি বছরের ৫ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকে থাকা বাংলাদেশ ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট থেকে হ্যাকাররা ৯৫১ মিলিয়ন ডলার চুরির চেষ্টা করে। পরে বেশ কিছু পেমেন্ট বন্ধ করে দিয়ে বেশিরভাগ অর্থচুরি ঠেকানো গেলেও ৮১ মিলিয়ন ডলার ফিলিপাইনে স্থানান্তরে সক্ষম হন হ্যাকাররা। ওই অর্থ ফিলিপাইনের আরসিবিসি ব্যাংকের জুপিটার ব্রাঞ্চের চারটি অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর করা হয়। পরে তা চলে যায় ক্যাসিনোতে। ওই ঘটনার পর থেকে সুইফটের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। বাংলাদেশ ব্যাংকে সাইবার হামলার পর যুক্তরাষ্ট্রের বড় বড় ব্যাংকগুলোও তাদের সুইফট ম্যাসেজিং নেটওয়ার্কের নিরাপত্তা জোরদার করে।
ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, সুইফট ও ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে সিনেটর টম কার্পার অনুরোধ করেছেন, তারা যেন চিঠিতে যে প্রশ্নগুলো করা হয়েছে তার উত্তর দেন। ফেব্রুয়ারির ওই সাইবার ডাকাতির পর বিভিন্ন ইস্যুকে সামলানোর অভিজ্ঞতা নিয়ে যেন আর্থিক প্রতিষ্ঠান দুটি আগামী ১৭ জুনের মধ্যে তার প্রতিনিধিদের কাছে বর্ণনা করে তারও অনুরোধ জানিয়েছেন কার্পার। তাছাড়া অন্যান্য সম্ভাব্য সাইবার হুমকিকে সুইফট ও ফেডারেল রিজার্ভ কর্তৃপক্ষ কিভাবে নিরাপদ করার চেষ্টা করছেন তা জানতে চাওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন: সুইফটের সেই টেকনিশিয়ানদের জিজ্ঞাসবাদ করতে চায় সিআইডি
চিঠিতে কার্পার লিখেছেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংকে সাইবার ডাকাতির ঘটনায় সুইফট সিস্টেমের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সুইফট কর্তৃপক্ষ তাদের সদস্য ব্যাংকগুলোর নিরাপত্তা দিতে সক্ষম কিনা, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।’
ওই চিঠিতে সুইফটের কাছ থেকে বেশকিছু তথ্য জানতে চেয়েছেন কার্পার। তিনি জানতে চেয়েছেন, সাইবার নিরাপত্তামূলক হুমকির তথ্যগুলো সদস্য ব্যাংকগুলোর সঙ্গে কিভাবে বিনিময় করা হয়, যেসব সদস্য সিকিউরিটি স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে না তাদের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয় কিনা এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির পর সাইবার নিরাপত্তামূলক নীতিমালায় সুইফট কোনও পরিবর্তন আনার পরিকল্পনা করছে কিনা। এর বাইরেও আরও বেশ কিছু তথ্য জানতে চাওয়া হয়েছে চিঠিতে।
আরও পড়ুন: হ্যাকারদের কাজ সহজ করে দিয়েছিল সুইফট নিজেই: সিআইডি
উল্লেখ্য, কিছু দিন আগে নিউইয়র্ক ফেডারেল রিজার্ভের অ্যাকাউন্ট থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের টাকা চুরির ঘটনায় তদন্তের দাবি করেন মার্কিন এক কংগ্রেস সদস্য। নিউ ইয়র্ক ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকের প্রেসিডেন্ট উইলিয়াম ডুডলি বরাবর একটি চিঠি দিয়ে ডেমোক্রেটদলীয় কংগ্রেস সদস্য ক্যারোলিন ম্যালোনি এই দাবি করেন।
এদিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির কয়েক মাস আগে সুইফট টেকনিশিয়ানদের যে দলটি ঢাকায় এসেছিল, সেই দলের সদস্যদের জিজ্ঞাসবাদ করতে চায় বাংলাদেশ পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ সিআইডি। অসমর্থিত সূত্র আর নিজেদের দেখা একটি ইমেইলকে উদ্ধৃত করে বুধবার খবরটি প্রকাশ করেছে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স। সূত্র: রয়টার্স, ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল, মার্কিন সিনেটের নিজস্ব ওয়েবসাইট
/এফইউ/বিএ/








