জওহরলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয় (জেএনইউ)-এর শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দেওয়া শাস্তির সিদ্ধান্তে স্থগিতাদেশ দিয়েছেন দিল্লি হাইকোর্ট। এর ফলে আপাতত বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের ঘোষিত সাজা তাদের ওপর প্রয়োগ করার সুযোগ থাকছে না।
চলতি বছরের ৯ ফেব্রুয়ারি জেএনইউ প্রাঙ্গণে আফজাল গুরুকে নিয়ে অনুষ্ঠান আয়োজন ও কথিত রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে গত ২৫ এপ্রিল উমর-অনির্বাণসহ অন্তত ২০ জন শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে শাস্তি ঘোষণা করে জেএনইউ কর্তৃপক্ষ। ওই শাস্তির সিদ্ধান্তের পুনর্বিচার চেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের আপিল কর্তৃপক্ষের (অ্যাপেলেট অথরিটি) কাছে আবেদন জানান উমর-অনির্বাণ-কানহাইয়াসহ অন্যান্য শাস্তিপ্রাপ্তরা। পাশাপাশি দিল্লি হাইকোর্টেও যান তারা।
অর্নিবাণ ভট্টাচার্য, উমর খালিদসহ অন্যান্য শাস্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের আবেদনের প্রেক্ষিতে হাইকোর্ট ওই সাজার সিদ্ধান্তে সাময়িক স্থগিতাদেশ প্রদান করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের আপিল কর্তৃপক্ষের পুনর্বিচারের রায় না আসা পর্যন্ত শাস্তি স্থগিত রাখা হয় তাদের।
শুক্রবার দিল্লি হাইকোর্টের বিচারপতি মনমোহনের এজলাস শাস্তির সিদ্ধান্তের ওপর সাময়িক স্থগিতাদেশ প্রদান করেন। দিল্লি হাইকোর্টের বিচারপতি মনমোহন জানান, কানহাইয়াদের মতোই ওই দুই ছাত্রও (উমর খালিদ এবং অনির্বাণ ভট্টাচার্য) একই ছাড় পাওয়ার যোগ্য। তাই বিশ্ববিদ্যালয়ের আপিল কর্তৃপক্ষ চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না নেওয়া পর্যন্ত তাদের বিরুদ্ধে কোনও ধরনের ব্যবস্থা নিতে পারবে না জেএনইউ।
এর আগে ১৩ মে দিল্লি হাইকোর্ট কানহাইয়াসহ কয়েকজন শিক্ষার্থীর শাস্তির স্থগিতাদেশের আবেদন মঞ্জুর করেন। তার আগে আদালতের নির্দেশ মতো অনির্দিষ্টকালীন অনশন প্রত্যাহার করে নেয় ছাত্ররা। সেদিনই আদালত জানিয়েছিল বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ যদি ছাত্রদের শাস্তির সিদ্ধান্তে অনড় থাকে তাহলে ফের আদালতে আবেদন করতে পারবেন শিক্ষার্থীরা। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ছাত্রদের ওপর শাস্তি দুই সপ্তাহের আগে কার্যকর করতে পারবে না।
চলতি বছরের ১৪ মার্চ জওহরলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয়ের (জেএনইউ) এক উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি ক্যাম্পাসে ৯ ফেব্রুয়ারির বিতর্কিত অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য কানহাইয়া কুমার, উমর খালিদ, অনির্বাণ ভট্টাচার্যসহ ৫ শিক্ষার্থীকে বহিষ্কারের শাস্তি দেওয়ার সুপারিশ করে। কমিটির অভিযোগ ওই অনুষ্ঠানে প্রকাশ্যে কথিত ভারত-বিরোধী স্লোগান দেওয়া হয়। তদন্ত কমিটির সেই সুপারিশের ভিত্তিতেই ওই শিক্ষার্থীদের জরিমানা ঘোষণা করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
জেএনইউ ছাত্র সংসদের প্রেসিডেন্ট কানহাইয়া কুমারকে ১০ হাজার রুপি জরিমানা করা হয়। উমর খালিদকে একটি সেমিস্টারের জন্য বহিষ্কার করা হয় ও কুড়ি হাজার টাকা জরিমানা ধার্য করা হয়। অনির্বাণকে ১৫ জুলাই পর্যন্ত বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় এবং বলা হয় ২৩ জুলাইয়ের পর থেকে পাঁচ বছর ক্যাম্পাসে প্রবেশাধিকার থাকবে না অনির্বাণের। তাকে ১৬ থেকে ২২ জুলাইয়ের মধ্যে তার গবেষণার থিসিস জমা দেওয়ার কাজ শেষ করতে হবে। কাশ্মিরের শিক্ষার্থী মুজিব গাট্টুকে দুই সেমিস্টারের জন্য বহিস্কার করা হয়েছে, সঙ্গে ২০ হাজার রুপি জরিমানা। আরও কয়েকজন শিক্ষার্থীকে জরিমানা করা হয়।
উল্লেখ্য, ৯ ফেব্রুয়ারি কাশ্মিরের স্বাধীনতাপন্থী হিসেবে পরিচিত আফজাল গুরুর ফাঁসির বিরোধিতা করে অনুষ্ঠান আয়োজন ও তাতে দেশবিরোধী বক্তব্য ও স্লোগান দেওয়ার অভিযোগ ওঠে কয়েকজন শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে। এরপর দেশদ্রোহিতার অভিযোগে ১২ ফেব্রুয়ারি গ্রেফতার করা হয় বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের সভাপতি বামপন্থী ছাত্রনেতা কানহাইয়া কুমারকে। ২৩ ফেব্রুয়ারি উমর খালিদ ও অনির্বাণ ভট্টাচার্য বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের বাইরে এসে পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেন। পরবর্তীতে দিল্লি হাইকোর্ট তাদের তিনজনকেই অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দেন। সূত্র: তেহেলকা, দ্য হিন্দু, ডিএনএ।
আরও পড়ুন:
এগিয়ে আসছে আইএস, পালানোর রাস্তা খুঁজছেন লক্ষাধিক সিরীয়
১৫০ বিজ্ঞানীর দাবি প্রত্যাখ্যান, অলিম্পিক ব্রাজিলেই
হাডসন নদীতে বিধ্বস্ত হলো দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ব্যবহৃত বিমান
/এসএ/বিএ/








