বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর কাছ থেকে সিরিয়ার প্রতি ইঞ্চি ভূখণ্ড মুক্ত করার অঙ্গীকার করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদ। মঙ্গলবার পার্লামেন্টে দেওয়া ভাষণে নিজের এ প্রত্যয়ের কথা জানান সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট। তার ওই ভাষণ সিরিয়ার টেলিভিশনে সম্প্রচার করা হয়।
বাশার আল আসাদ বলেন, আলেপ্পো বিদেশি মদদপুষ্ট সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর গোরস্তানে পরিণত হবে। সেখানকার আর কোনও ভূমি দখল করতে পারবে না দায়েশ (আইএস)।
সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বলেন, যেভাবে আমরা ইতোমধ্যে অনেক অঞ্চল মুক্ত করেছি; সেভাবেই দেশের প্রতি ইঞ্চি ভূমি তাদের (বিদ্রোহী ও আইএস) হাত থেকে মুক্ত করা হবে। জয়ই হচ্ছে আমাদের একমাত্র বিকল্প। অন্যথায় সিরিয়া থাকবে না।
ভাষণে সিরিয়ার নতুন সংবিধান প্রণয়ন নিয়েও কথা বলেন দেশটির প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, ভবিষ্যতে পার্লামেন্টে নতুন সংবিধান নিয়ে আলোচনা হবে। রাজনৈতিক উপায়ে সিরিয়া সংকটের নিষ্পত্তি হলে তাতে সন্ত্রাসবাদ নির্মূল হয়ে যাবে। সংকট নিরসনে অন্য কোনও উপায় কাজ করবে না।
আইএসের হাত থেকে সিরিয়ার সরকারি বাহিনী কর্তৃক পালমিরা পুনর্দখলের কথাও উল্লেখ করেন প্রেসিডেন্ট আসাদ। ‘মরুর মুক্তা’ হিসেবে পরিচিত পালমিরা প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনে সমৃদ্ধ। পালমিরা ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ। ২০১৫ সালের মে মাসে পালমিরা দখল করে আইএস। তারা সেখানকার বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকাভুক্ত মন্দিরসহ অনেক স্থাপনা ধ্বংস করে।
২০১১ সালের ১৫ মার্চ সিরিয়ায় শুরু হয়েছিল সরকার বিরোধী আন্দোলন। প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের পদত্যাগের দাবিতে শুরু হওয়া এ আন্দোলন এক পর্যায়ে রূপ নেয় গৃহযুদ্ধের। তবে এই গৃহযুদ্ধে সেখানকার মানুষের দুঃখ-দুর্দশা এখন চাপা পড়ে গেছে আইএসের বর্বর নারকীয় কর্মকাণ্ডের নিচে।
পাঁচ বছর ধরে চলা এ গৃহযুদ্ধে এখন দেশটির অনেক অংশ সরকারবিরোধী বিদ্রোহী গোষ্ঠী আর আইএসের দখলে। বর্বর সব কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে আইএস পুরো বিশ্বের নজর কাড়তে সমর্থ হয়েছে। এরই মধ্যে গোষ্ঠীটি বহু মানুষকে হত্যা করেছে। আরও যেসব বর্বরোচিত কাণ্ড ঘটিয়েছে, এরমধ্যে রয়েছে ‘অবিশ্বাসী’ ও ‘চর’ আখ্যা দিয়ে হত্যা করে লাশ ঝুলিয়ে রাখা, সমকামীদের ছাদ থেকে ফেলে হত্যা, লোকজনকে জিম্মি করে খাঁচায় ভরে নিয়ে যাওয়া, নারীদের দাসে পরিণত করা, জর্ডানের এক পাইলটকে পুড়িয়ে হত্য, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর হামলা, প্রাচীন ঐতিহাসিক সব শিল্পকর্ম ধ্বংস।
প্যারিসভিত্তিক ইনস্টিটিউট ফর ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক রিলেশনস এর গবেষক করিম বিতার বলেন, ভয়াবহ সব কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে আইএস পশ্চিমাদের বোঝাতে সমর্থ হয়েছে যে তারা অনেক দূর এগিয়েছে। যার অর্থ তারাই এখন চূড়ান্ত শত্রু। অন্যরা তাদের তুলনায় তেমন কিছুই নয়।
২০১৩ সালে সিরিয়ায় আইএস জঙ্গি তৎপরতা সবার নজর কাড়ে। প্রাথমিক পর্যায়ে সিরীয় সেনাবাহিনীকে অনেকটা এড়িয়ে গেলেও পরের বছর থেকে সরকারের বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে তারা। গত জুনে সিরিয়া ও প্রতিবেশী দেশ ইরাকের বেশ খানিকটা অংশ দখল করে আইএস নিজেদের খিলাফত ঘোষণা করে। বর্তমানে আইএসের প্রধান লক্ষ্য—ইরাকের সুন্নি অঞ্চল ও বাশারের পতন ঘটিয়ে সিরিয়ার বিস্তৃত অঞ্চল নিয়ে খিলাফতের ব্যাপ্তি ঘটানো। সূত্র: আল জাজিরা, বিবিসি।
/এমপি/







