সিরিয়ায় রেসক্রসের ত্রাণ কার্যক্রম আংশিক স্থগিত ঘোষণার কিছু সময় পরেই দেশটিতে জাতিসংঘের সামগ্রিক ত্রাণ কার্যক্রমও স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে। আলেপ্পো শহরের কাছে জাতিসংঘের একটি ত্রাণবহরে দেশটির সরকারি বাহিনীর বিমান হামলার ঘটনায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উদ্বেগ তৈরির পর সাময়িকভাবে সেখানে সব ধরনের ত্রাণ তৎপরতা স্থগিত করেছে জাতিসংঘ। সংস্থাটির একজন কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
আলেপ্পোয় জাতিসংঘের ত্রাণবহরে সিরিয়া সরকারের বিমান হামলাকে ‘যুদ্ধাপরাধ’ বলে মন্তব্য করেছেন জাতিংসংঘের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা।
আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটির প্রধান পিটার মোরার বলেছেন, এই হামলা আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের এক চরম লঙ্ঘন। এ ঘটনায় সিরিয়ার চারটি শহরে ত্রাণবহরের কার্যক্রম স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছে সংস্থাটি। মঙ্গলবার ইন্টারন্যাশনাল কমিটি অব দ্য রেড ক্রস-এর একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ওই কর্মকর্তা জানান, ত্রাণবাহী ট্রাকবহরে হামলা এবং সহিংসতার তীব্রতা বৃদ্ধির ফলে কর্মীদের নিরাপত্তার বিষয়টি পুনর্মূল্যায়নের জন্য এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
এর আগে এক সপ্তাহের ‘ভঙ্গুর’ অস্ত্রবিরতি শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই রাশিয়াকে সঙ্গে নিয়ে আলেপ্পোয় জাতিসংঘের ত্রাণবহরে হামলা চালায় সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের অনুগত বাহিনী।
যুক্তরাজ্যভিত্তিক মানবাধিকার পর্যবেক্ষক সংস্থা সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস জানিয়েছে, আনুষ্ঠানিকভাবে অস্ত্রবিরতি শেষ হওয়ার পর সোমবার আলেপ্পো এবং তার আশে-পাশে চালানো বিমান হামলা চালানো হয়। এতে অন্তত ৩২ জন বেসামরিক সিরীয় নাগরিক নিহত হয়েছেন।
আলেপ্পোয় ত্রাণবহরে বিমান হামলায় বহরের ৩১টি ট্রাকের মধ্যে ১৮টি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সিরিয়ান অবজারভেটরি জানিয়েছে, উরম আল-কুবরা এলাকায় চালানো এ হামলায় ত্রাণকর্মী, ট্রাক চালকসহ অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছেন। সিরিয়ান রেড ক্রিসেন্টের এক কর্মকর্তাও বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। সিরিয়ার রেড ক্রিসেন্ট জানিয়েছে, ত্রাণবহরটি নিয়মিত আলেপ্পো থেকে বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত গ্রামীণ এলাকায় ত্রাণ সরবরাহ করছিল।
সিরিয়া বিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষ দূত স্টিফান ডি মিস্তুরা বলেন, ‘আমাদের ত্রাণবহরে ভয়াবহ হামলা চালানো হয়। বিচ্ছিন্ন নাগরিকদের জন্য ত্রাণ পৌঁছে দিতে এ ত্রাণ বহর অনুমতির দীর্ঘ প্রক্রিয়া ও প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে হয়েছিল।’
এক প্রত্যক্ষদর্শী ফোনে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানান, ত্রাণবহরে অন্তত ৫টি মিসাইল আঘাত হানে। উরম আল-কুবরা এলাকায় রেড ক্রিসেন্টের পার্কিংয়ে বহরটি অবস্থান করছিল।
সাত দিন আগে শুরু হওয়া অস্ত্রবিরতি চুক্তির অন্যতম ছিলো অবরুদ্ধ আলেপ্পোতে ত্রাণ সরবরাহ নিশ্চিত করা। কিন্তু সিরিয়ার সেনাবাহিনী ও বিদ্রোহীরা একে অপরের বিরুদ্ধে চুক্তি ভঙ্গের অভিযোগ করে আসছে।
অস্ত্রবিরতি শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আলেপ্পো ও কয়েকটি শহরে বিমান হামলা চালায় সিরীয় ও রুশ বাহিনী। সিরিয়ার দাবি, বিদ্রোহীরা অস্ত্রবিরতি চুক্তির কোনও ধারাই মানেনি। বিদ্রোহীরাও আসাদ বাহিনীর বিরুদ্ধে অস্ত্রবিরতি ভঙ্গের অভিযোগ করেছে।
অস্ত্রবিরতি চলাকালে মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোটের বিমান হামলায় ৬২ সিরীয় সেনা নিহতের ঘটনায় চুক্তির ভবিষ্যত অনিশ্চয়তায় পড়েছিল। এ ঘটনার পর রুশ-মার্কিন সম্পর্কে উত্তেজনা শুরু হয়। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের জরুরি বৈঠকও আহ্বান করা হয়েছিল।
সিরিয়ায় ২০১১ সালের মার্চ থেকে শুরু হওয়া গৃহযুদ্ধে প্রায় চার লাখ মানুষ নিহত হয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। ঘরহারা হয়েছেন ১০ লাখেরও বেশি মানুষ। সূত্র: বিবিসি, রয়টার্স, আল জাজিরা।
/এমপি/বিএ/








