করোনা ভাইরাস: সার্স থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার আরও সতর্ক সিঙ্গাপুর, তাইওয়ান

Send
বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত : ২১:১৪, জানুয়ারি ২২, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ২১:১৯, জানুয়ারি ২২, ২০২০

২০০৩ সালে হংকংয়ের এক যাত্রী দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার নগর রাষ্ট্র সিঙ্গাপুরে সেভার একিউট রিসপাইরেটরি সিনড্রোমের (সার্স) ভাইরাস বয়ে নিয়ে আসে। এরপরে সেখানে মারাত্মকভাবে ছড়িয়ে পড়ে ভাইরাসটি। আতঙ্কের জেরে বন্ধ করে দেওয়া হয় স্কুল। ক্ষতিগ্রস্থ হয় বাণিজ্য ও পর্যটনকেন্দ্রিক অর্থনীতি। মানুষ দ্রুত মুখোশ কেনা শুরু করে, নয়তো ঘরে অবস্থান নেয়। আক্রান্ত হয় ২৩৮ জন আর মারা যায় ৩৩ জন। সেই ঘটনার পর এবার চীনের উহান শহর থেকে ছড়িয়ে নতুন করোনা ভাইরাস নিয়ে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে দেশটি। নজরদারি উন্নত করার পাশপাশি পর্যাপ্ত ওষুধ ও সরঞ্জাম মজুদ করা হয়েছে। এছাড়া সার্স পরবর্তী সময়ে নির্মাণ করা ৩৩০ শয্যার একটি হাসপাতালও এখন সম্পূর্ণ প্রস্তুত। একই রকম সতর্কতামূলক প্রস্তুতি নিয়েছে তাইওয়ানও।

২০০২-০৩ সালে বিশ্বজুড়ে আতঙ্ক ছড়ায় সার্স ভাইরাস। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) বলছে, ওই সময়ে চীন ছড়িয়ে পড়া এই ভাইরাসে বিশ্বে প্রায় আটশো মানুষের মৃত্যু হয়। এবারে নতুন করে আতঙ্ক ছড়ানো ভাইরাসটির উৎপত্তিও চীন থেকে। দেশটির উহান শহর থেকে ছড়িয়ে পড়া এই ভাইরাসটির উপস্থিতির খবর দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান, থাইল্যান্ড, তাইওয়ান, ম্যাকাও এবং যুক্তরাষ্ট্র থেকেও পাওয়া গেছে।

চীনের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ রয়েছে সিঙ্গাপুরের। বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত বিমানবন্দর সিঙ্গাপুরের চাঙ্গি বিমানবন্দর থেকে সরাসরি ফ্লাইটে উহানের দূরত্ব মাত্র সাড়ে চার ঘণ্টার। ফলে নতুন করে ছড়িয়ে পড়া ভাইরাসটি নিয়ে তাদের উদ্বেগ বেশি।

ভাইরাস সংক্রমণের পর প্রথমে শুধুমাত্র উহান থেকে আসা যাত্রীদের পরীক্ষা করা হলেও এই সপ্তাহে সিঙ্গাপুরের কর্তৃপক্ষ চীন হয়ে ভ্রমণ করা সব যাত্রীকেই পরীক্ষা করা শুরু করেছে। তাদের জন্য জারি করা হয়েছে স্বাস্থ্য সতর্কতা। এছাড়াও নতুন এই ভাইরাসের বিষয়ে সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ, হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ও ল্যাবরেটরিগুলোকে ক্লিনিক্যাল পরামর্শ দিচ্ছে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এবং জাতীয় সংক্রামক রোগ কেন্দ্র।

সিঙ্গাপুরের জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাও সায়ে হক স্কুল অব পাবলিক হেলথের অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর সু লি ইয়াং বলেন, ‘সিঙ্গাপুর এই ধরনের ভাইরাস সংক্রমনের জন্য স্পর্শকাতর। সার্স সংক্রমণের সময় থেকেও দেশটি এখন আরও ভালোভাবে প্রস্তুত’। তিনি বলেন, ‘এখন স্বাস্থ্য সুরক্ষা ব্যবস্থা এবং হাসপাতালগুলো আরও অনেক ভালোভাবে প্রস্তুত। উন্নত নজরদারি, ওষুধ এবং সরঞ্জাম (মুখোশসহ) মজুদ এবং ৩৩০ বেডের জাতীয় সংক্রামক রোগ কেন্দ্র প্রস্তুত হয়েছে’। সার্স মোকাবিলার ব্যর্থতার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে এই কেন্দ্রটি প্রস্তুত করা হয়। তিনি বলেন, ‘সার্স পরবর্তী সময়ে সংকট ব্যবস্থাপনায় পুরো সরকারের মনোভাব উন্নত হয়েছে’।

এছাড়া গত ৩১ ডিসেম্বর ভাইরাসটির প্রাদুর্ভাবের ঘোষণা দেওয়ার পর উহান থেকে আসা যাত্রীদের পরীক্ষা করা বাধ্যতামূলক করে স্বশাসিত অঞ্চল তাইওয়ানের কর্তৃপক্ষ। ২১ জানুয়ারি সেখানে প্রথম বারের মতো এক আক্রান্তকে পাওয়া যায়। উহান থেকে আসা ৫০ বছর বয়সী ওই তাইওয়ানিজ নারীর ভাইরাস সংক্রমণের লক্ষণ দেখা যাওয়ার পর তাকে নির্জন স্থানে সরিয়েছে তাইওয়ানের রোগ নিরোধ কেন্দ্র (সিডিসি)।

সিডিসি বলছে, এখন পর্যন্ত চার হাজার তিনশোরও বেশি যাত্রীকে পরীক্ষা করা হয়েছে। তবে চান্দ্র নববর্ষে তাইওয়ানের লাখ লাখ নাগরিক চীনের মূল ভূখন্ড এবং বিদেশে ভ্রমণ করলে ঝুঁকি আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

তাইওয়ান এবং অস্ট্রেলিয়ার দ্বৈত নাগরিক ক্যাথি চেং আগামী সপ্তাহে নিজের আড়াই বছর বয়সী মেয়েকে নিয়ে তাইওয়ানে যাওয়া নিয়ে উদ্বেগে থাকার কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমি বিমানবন্দরে কর্মরত সিডিসির কাজ নিয়ে আত্মবিশ্বাসী তবে চান্দ্র নববর্ষের পর আমরা যখন অস্ট্রেলিয়ায় আসবো তখনকার বিষয় নিয়ে আমি উদ্বিগ্ন কারণ বড় একটি বিমানবন্দরে আপনি জানতেই পারবেন না কখন কার সংস্পর্শে আসছেন’।

সার্স প্রাদুর্ভাবের সময় তাইওয়ানও মারাত্মক আক্রান্ত হয়। সেখানে আক্রান্ত হয় তিনশোরও বেশি মানুষ। সরকারি হিসেবে দেখা যায় ২০০৩ সালে সার্স সংশ্লিষ্ট ঘটনায় মারা যায় ৭৩ জন।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থ্য ইতোমধ্যে মানুষকে নিয়মিত হাত ভালোভাবে ধোয়া নিশ্চিত করার পরামর্শ দিয়েছে। হাঁচি-কাশির সময় নাক-মুখ ঢেকে রাখা এবং ঠান্ডা এবং ফ্লু আক্রান্ত মানুষদের থেকে দূরে থাকারও পরামর্শ দিয়েছে তারা। এশিয়ার বহু অংশের মানুষ সার্জিক্যাল মুখোশ পরা শুরু করেছে।

/জেজে/

লাইভ

টপ