ইতালির যে গ্রামে করোনা হানা দিতে পারেনি

Send
বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত : ১৮:৪৬, মার্চ ৩১, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ২২:২৫, মার্চ ৩১, ২০২০

উত্তর ইতালির পিয়েদমোন্ত অঞ্চলে প্রতিদিনই করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে থাকলেও সেখানকার একটি গ্রামে এখনও হানা দিতে পারেনি ভাইরাসটি। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে, মন্তালদো তোরিনেসে গ্রামের অনেক বাসিন্দার বিশ্বাস, ‘অলৌকিক পানি’ তাদের এই ভাইরাস থেকে রক্ষা করেছে। তবে সেখানকার মেয়র বলেছেন, গ্রামের স্বাস্থ্যকর পরিবেশ আর করোনাকে কেন্দ্র করে নেওয়া পদক্ষেপের কারণেই গ্রামটিকে ভাইরাসমুক্ত রাখা সম্ভব হয়েছে।উত্তর ইতালির পিয়েদমোন্ত অঞ্চলে মন্তালদো তোরিনেসে গ্রাম

ইতালির চতুর্থতম উপদ্রুত অঞ্চল পিয়েদমোন্ত। গত রবিবার পর্যন্ত ওই অঞ্চলে আট হাজার ২০৬ জন করোনা আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছে। রাজধানী তুরিনে গত শনিবার পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছে প্রায় তিন হাজার ৬৫৮ জন। তবে তুরিন থেকে প্রায় ১১ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত মন্তালদো তোরিনেসে গ্রামের কেউ এখনও করোনায় আক্রান্ত হয়নি।

ওই গ্রামে ৭২০ জন বাসিন্দার বাস। জনচলতি ধারণা অনুযায়ী, সেখানকার একটি কূপের পানি পান করে ফরাসি শাসক নেপোলিয়ান বোনাপোর্টের সেনাদল নিউমোনিয়া থেকে রক্ষা পেয়েছিল। ১৮০০ সালের জুন মাসে কাছাকাছি মারেনগো অঞ্চলে একটি যুদ্ধের সময় এই গ্রামে তাঁবু গেড়েছিলেন নেপোলিয়ানের সেনাদল। মারেনগোতে অস্ট্রিয়ান সেনাদলের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে জিতেছিলেন নেপোলিয়ান।

মন্তালদো তোরিনেসের মেয়র সার্জিও গাইওত্তি গার্ডিয়ানকে বলেন, ‘বিশ্বাস করা হয়, নেপোলিয়ানের জেনারেলরা নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হন। আর সৌভাগ্যক্রমে বিশুদ্ধ বাতাস, অকৃত্রিম প্রকৃতি এবং এই কূপের পানির কারণে তারা সুস্থ হয়ে ওঠেন।'

মেয়র জানান, 'এখন কূপটির পানি শুধু সেচকাজে ব্যবহার করা যায়। পান করা যায় না’।

মন্তালদো তোরিনেসে গ্রামে মূলত বয়স্ক মানুষের বাস। তবে বেশ কিছু তরুণ পরিবারও এখানে বাস করে। কাজের জন্য অনেকেই প্রাদেশিক রাজধানী তুরিনে যাতায়াত করে থাকেন। তারপরও গ্রামটিতে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ দেখা না যাওয়ার কারণ হিসেবে মেয়র সার্জিও গাইওত্তি বলেন, এখানকার বিশুদ্ধ বাতাস, স্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রা আর মানুষকে সতর্ক রাখতে তাদের উদ্যোগের ফলেই ভাইরাসটি এখনও সেখানে প্রবেশ করতে পারেনি। সংক্রমণ শুরুর আগেই গ্রামের সবাইকে মাস্ক বিতরণ করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

মেয়র সার্জিও গাইওত্তি বলেন, ‘আশপাশে কোথাও কোনও শিল্প কারখানা নেই, এটা মূলত কারিগরদের গ্রাম’। শুরু থেকেই আমি মানুষদের নিরাপদ থাকতে প্রয়োজনীয় সামগ্রীর তালিকা করে দেই। নিয়মিত হাত ধোয়া ও সরাসরি সংযোগ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেই। এলাকার মধ্যে আমরাই প্রথম সব পরিবারকে মাস্ক বিতরণ করেছি’।

/জেজে/বিএ/এমওএফ/

লাইভ

টপ