কেন হাসপাতালের জানালা দিয়ে নিচে লাফ দিচ্ছেন রুশ ডাক্তাররা?

Send
বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত : ১৩:১৫, মে ০৫, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ২১:৫৯, মে ০৫, ২০২০

গত দুই সপ্তাহে রাশিয়ায় সম্মুখ সারির তিন জন চিকিৎসককে হাসপাতালের জানালা দিয়ে নিচে লাফিয়ে পড়তে দেখা গেছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন জানিয়েছে, এদের মধ্যে ২ জন মারা গেছেন। গুরুতর আহত অবস্থায় আরেকজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আর এসব ঘটনায় রাশিয়ার হাসপাতালে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের কাজের পরিবেশ নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে। রুশ সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলছে বিস্তর আলোচনা। এ ব্যাপারে সিএনএন-এর পক্ষ থেকে প্রতিক্রিয়া জানতে চাওয়া হলে সাড়া দেয়নি রুশ পুলিশ।

ভোরোনেজ শহরে অ্যাম্বুলেন্সের ভেতর জরুরি চিকিৎসা দিয়ে থাকেন আলেক্সান্ডার শুলেপভ। গত শনিবার (২ মে) হাসপাতালের জানালা দিয়ে লাফিয়ে পড়েছিলেন তিনি। তার অবস্থা এখন আশঙ্কাজনক। আঞ্চলিক স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, নোভোসমান্সকায়া হাসপাতালের তৃতীয় তলা থেকে লাফিয়ে পড়েছিলেন শুলেপভ। ওই হাসপাতালেই কর্মরত ছিলেন তিনি। নিজের দেহে করোনা শনাক্ত হওয়ার পর সেখানেই তার চিকিৎসা চলছিলো।

চিকিৎসার জন্য শুলেপভকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয় গত ২২ এপ্রিল। একই দিন তিনি ও তার এক সহকর্মী আলেক্সান্ডার কোসিয়াকিন অনলাইনে একটি ভিডিও পোস্ট করেন। সেখানে অভিযোগ করা হয়, করোনা শনাক্ত হওয়ার পরও শুলেপভকে কাজ করতে বাধ্য করা হচ্ছে।

কোসিয়াকিন এর আগে সুরক্ষা সরঞ্জামাদির ঘাটতি নিয়ে হাসপাতাল প্রশাসনের সমালোচনা করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দিয়েছিলেন। ভুয়া খবর ছড়ানোর অভিযোগে পুলিশ তাকে জিজ্ঞাসাবাদও করেছিল। সিএনএন-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এ ব্যাপারে বিস্তারিত বলেছেন কোসিয়াকিন। ‘আমি যতটুকু জানি, শুলেপভ ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে আছে, তার অবস্থা গুরুতর। সর্বশেষ তার সঙ্গে আমার কথা হয়েছিল ৩০ এপ্রিল। আমরা একে অপরের খোঁজ-খবর নিয়েছি তখন। ও ভালো বোধ করছিল এবং হাসপাতাল থেকে ছাড়ার জন্য প্রস্তুত ছিল। তবে হঠাৎ করেই এসব ঘটে গেলো। কেন এসব হলো তা স্পষ্ট নয়। অনেক প্রশ্নের উত্তর আমারও জানা নেই’- বলেন তিনি।

নোভোসমান্সকায়া হাসপাতালের বিবৃতিতে দাবি করা হয়েছে, করোনা শনাক্ত হওয়ার খবর জানানোর পর পরই শুলেপভকে সংক্রামক ব্যাধির ওয়ার্ডে ভর্তি রাখা হয়েছিল। কোসিয়াকিনের সঙ্গে ভিডিও বার্তা দেওয়ার তিন দিন পর শুলেপভ তার বক্তব্য প্রত্যাহার করে নিয়েছিলেন। বলেছিলেন, আবেগতাড়িত হয়ে কোসিয়াকিনের সঙ্গে বিবৃতি দিয়েছিলেন তিনি। হাসপাতালের প্রধান চিকিৎসক ইগোর পোটানিনের সঙ্গে দ্বিতীয় ভিডিও বিবৃতি দেন তিনি। পোটানিন দাবি করেন, তার হাসপাতালে কর্মীদের জন্য পর্যাপ্ত সুরক্ষা সরঞ্জামাদি আছে।

শুলেপভ হলেন গত দুই সপ্তাহে হাসপাতালের জানালা দিয়ে লাফিয়ে পড়া তৃতীয় স্বাস্থ্যকর্মী। এর আগে সাইবেরীয় শহর ক্রাসনোইয়ারস্কের একটি হাসপাতালের জানালা দিয়ে লাফিয়ে পড়েছিলেন সেখানকার ভারপ্রাপ্ত প্রধান চিকিৎসক এলেনা নেপোমনিয়াশছায়া। এক সপ্তাহ ধরে আইসিইউতে চিকিৎসা নেওয়ার পর গত ১ মে মৃত্যু হয় তার। নেপোমনিয়াশছায়াও হাসপাতালের সুরক্ষা সরঞ্জামাদির ঘাটতি নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছিলেন।

গত ২৪ এপ্রিল স্টার সিটির ইমার্জেন্সি মেডিক্যাল সার্ভিসের প্রধান নাতালিয়া লেবেদেভা হাসপাতালের জানালা দিয়ে লাফিয়ে পড়ে গুরুতর আহত হন। পরে চিকিৎসারত অবস্থায় মারা যান তিনি। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, করোনা সন্দেহে তাকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছিলো।

/এফইউ/বিএ/এমওএফ/

লাইভ

টপ