বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকে আল্টিমেটাম ট্রাম্পের

Send
বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত : ১১:৪৩, মে ১৯, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১১:৫৪, মে ১৯, ২০২০

আগামী এক মাসের মধ্যে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থায় বড় পরিবর্তন আনার আল্টিমেটাম দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, এটি  করতে তারা ব্যর্থ হলে স্থায়ীভাবে সংস্থাটিতে মার্কিন তহবিল বাতিল করা হবে। এতে যুক্তরাষ্ট্রের সদস্যপদও পুনরায় বিবেচনা করা হবে। সোমবার সংস্থাটির প্রধানকে লেখা এক দীর্ঘ চিঠিতে নিজের এমন মনোভাবের কথা জানিয়ে দিয়েছেন তিনি। এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম সিএনএন।

ট্রাম্পের অভিযোগ, করোনাভাইরাস মোকাবিলায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ভূমিকা যথেষ্ট নয়। ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে চীনের উহান থেকে ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার বিশ্বাসযোগ্য প্রতিবেদনকে তারা অব্যাহতভাবে অবজ্ঞা করেছে। উল্টো দফায় দফায় বেইজিং-এর প্রশংসা করেছে তারা।

চিঠিতে ট্রাম্প লিখেছেন, এটা স্পষ্ট যে আপনার এবং আপনার সংস্থার দফায় দফায় ভুলের কারণে পুরো বিশ্বকে মহামারিতে চরম মূল্য দিতে হচ্ছে। এ থেকে বেরিয়ে এসে সামনে অগ্রসর হওয়ার একমাত্র উপায় হচ্ছে, সংস্থাটিকে চীনের কাছ থেকে স্বাধীনতা অর্জন করা।

ট্রাম্প বলেন, ওয়াশিংটন ইতোমধ্যেই সংস্থাটির সংস্কারের ব্যাপারে আলোচনা শুরু করেছে। তবে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া দরকার। আমাদের অপচয় করার মতো সময় নেই।

এমন সময়ে ট্রাম্প এ হুঁশিয়ারি দিলেন যখন যুক্তরাষ্ট্রে করোনাভাইরাসে ৯০ হাজারেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। আক্রান্তের সংখ্যা  ১৫ লাখ ছাড়িয়ে গেছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধানকে চিঠি পাঠানোর আগে সোমবার ওয়াশিংটনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালেও প্রতিষ্ঠানটির বিষয়ে কথা বলেন ট্রাম্প। এ সময় তিনি আবারও সংস্থাটিকে ‘চীনের পুতুল’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন।

ইতোমধ্যেই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থায় মার্কিন তহবিল স্থগিত করেছেন ট্রাম্প। করোনা মহামারিতে চীনের পক্ষে অবস্থান নেওয়ার অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে এই পদক্ষেপ নিয়েছেন তিনি।

সোমবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, করোনা মোকাবিলায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ভূমিকা খুবই দুঃখজনক। যুক্তরাষ্ট্র তাদের বছরে ৪৫০ মিলিয়ন ডলার পরিশোধ করে। চীন দেয় বছরে ৩৮ মিলিয়ন ডলার। অথচ তাদের কার্যক্রম ‘চীনকেন্দ্রিক’। তারা চীনের পুতুল।

করোনাভাইরাস ইস্যুতে এর আগেও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও চীনের সমালোচনা করেছেন ট্রাম্প। গত ৮ মে ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, সংস্থাটি চীনের পুতুলে পরিণত হয়েছে। চীন যা করছে তা তাদের কাছে সবসময় ঠিক মনে হচ্ছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, আমি মনে করি না এটি সচেতনভাবে করা হয়েছে। হয়তো অযোগ্যতার কারণে হয়েছে। ভাইরাসটি হয়তো ছড়িয়ে পড়েছে। তারা জানতো না কীভাবে বিষয়টি নিয়ে কথা বলবে।

ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে ৪৫০ মিলিয়নের জায়গায় চীন দেয় বছরে ৩৮ মিলিয়ন ডলার। এরপরও বেইজিং তাদের বলে দেয় কী করতে হবে। এটা হতে পারে না।

মহামারির জন্য ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় চীনের ব্যর্থতার অভিযোগে দেশটিকে শায়েস্তা করার উপায় খুঁজছে ট্রাম্প প্রশাসন। ভাইরাসটির উৎস অনুসন্ধানে মার্কিন বিজ্ঞানীদের দেশটিতে প্রবেশ করতে দেওয়ার জন্যও চাপ দিচ্ছে ওয়াশিংটন। তবে এমন দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে বেইজিং। সূত্র: সিএনএন, আল জাজিরা।

/এমপি/

লাইভ

টপ