লাদাখ ইস্যুতে ফের আলোচনায় চীনা ও ভারতীয় বাহিনী

Send
বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত : ১৬:৪২, জুলাই ১৪, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৭:৩৬, জুলাই ১৪, ২০২০

লাদাখ ইস্যুতে মঙ্গলবার ফের আলোচনার টেবিলে বসেছে চীনা ও ভারতীয় বাহিনী। দুই বাহিনীর কোর কমান্ডার পর্যায়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দু জানিয়েছে, নিয়ন্ত্রণরেখার ভারতীয় অংশে সকাল সাড়ে ১১টার দিকে এ বৈঠক শুরু হয়েছে।

পূর্ব লাদাখের চুশুল মলডোতে গত মে মাস থেকে এটি চতুর্থ পর্যায়ের বৈঠক। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর খবরে বলা হয়েছে, এদিনের বৈঠকে লাদাখের প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখার বাকি অংশ থেকে উভয় দেশের সেনা প্রত্যাহারের বিষয়ে আলোচনা হবে।
এদিনের আলোচনায় দিল্লির প্রতিনিধিত্ব করছেন ভারতীয় বাহিনীর ১৪ কোরের কমান্ডার লেফটেনান্ট জেনারেল হরেন্দ্র সিং। চীনের প্রতিনিধিত্ব করছেন দক্ষিণ জিংজিয়াং মিলিটারি প্রদেশের কমান্ডার মেজর জেনারেল লিউ লিন।
গালওয়ানের নিয়ন্ত্রণরেখা থেকে লাল ফৌজ ও ভারতীয় সেনা কয়েক কিমি পিছিয়ে গিয়েছে। কমেছে উত্তেজনা। তবে দেপসাং এলাকা-প্যাংগং থেকে চীনা বাহিনী এখনও সরেনি। ফলে মুখোমুখি দাঁড়িয়ে দুই দেশের বাহিনী।
বৈঠকে, দেপসাং এলাকা ও প্যাংগং লেকের ফিঙ্গার-৮ থেকে চিনা সেনার প্রত্যাহার নিয়ে আলোচনায় অধিক আগ্রহী দিল্লি। গালওয়ান উপত্যকায় বিভিন্ন পেট্রোলিং পয়েন্টকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া বাফার এলাকায় নজরদারির প্রোটোকল তৈরি নিয়েও আলোচনার কথা রয়েছে।
দুই দেশের বিরোধ রয়েছে এমন এলাকায় সেনা যাতে আরও সরে যায় তা নিয়ে আলোচনা হবে। এছাড়া এখন যে সংখ্যক সেনা মোতায়েন রয়েছে; সেই সংখ্যা কমানোর কথা বলা হতে পারে।
ভারতের সেনা সূত্র জানিয়েছে, দেপসাং সমতলে ভারতীয় বাহিনীকে নজরদারিতে বাধা দিচ্ছে চীনা সেনারা। অঞ্চলটি কৌশলগতভাবে খুবর গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় সেখান থেকে সেনা সরানোর জন্য বেইজিং-এর ওপর চাপ প্রয়োগ করতে চায় দিল্লি।
সীমান্তে সমরাস্ত্র, এয়ার ডিফেন্স রাডার, জ্যামার, রকেটসহ সামরিক সরঞ্জাম ব্যবহার নিয়েও কথা হবে দুই দেশের।
নিয়ন্ত্রণরেখার ভারতীয় অংশে চীনা বাহিনীর স্থাপত্য নির্মাণ ধরা পড়ার পরই ভারতও অঞ্চলটিতে সামরিক উপস্থিতি জোরদার করে। দুই দেশের সেনা সরানোর প্রক্রিয়া শুরু হলে ভারতীয় সেনারাও সেখান থেকে সরে আসবে।
বৈঠকের বিষয়ে এনডিটিভি-র সঙ্গে কথা বলেছেন ভারতের নর্দান আর্মির প্রাক্তন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত) ডি এস হুডা। তিনি বলেন, মঙ্গলবারের বৈঠক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এতে প্যাংগং সো এবং ডেসপ্যাং এলাকার বিষয়টি তুলবে ভারত; যেখানে চীনা বাহিনী অনধিকার প্রবেশ করেছে। তিনি বলেন, ‘দুটি জায়গায় স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনার পক্ষে জোর দেওয়ার উচিত ভারতীয় বাহিনীর। কারণ তার থেকে কম কিছু হলে আমাদের আঞ্চলিকভাবে সমস্যার মুখে পড়তে হবে।’
এর আগে গত ৬ জুন চীন ও ভারতীয় বাহিনীর মধ্যে প্রথম কোর কমান্ডার পর্যায়ে বৈঠক হয়েছিল। কিন্তু সেই বৈঠকের পর গালওয়ান উপত্যকায় চীনা বাহিনীর হাতে অন্তত ২০ ভারতীয় সেনা নিহত হয়। এ ঘটনায় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠে। এর মধ্যেই গত ২২ ও ৩০ জুন প্রায় ১১ ঘণ্টা ধরে বৈঠক করেন দু'পক্ষের কোর কমান্ডাররা। তবে ফিঙ্গার এরিয়া এবং ডেসপ্যাং এলাকায় চীনা সেনার অবস্থানের কারণে আগের তিনবারের তুলনায় এবার দিল্লির দরকষাকষির মাত্রা বেশি হবে বলে মনে করছেন দেশটির কর্মকর্তারা।

/এমপি/

লাইভ

টপ