ভারতের পথে ফ্রান্সের অত্যাধুনিক রাফাল যুদ্ধবিমানের প্রথম চালান

Send
বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত : ০২:৩০, জুলাই ২৮, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ০৯:১৯, জুলাই ২৮, ২০২০

চীনের সঙ্গে উত্তেজনার মধ্যে ফ্রান্সের তৈরি অত্যাধুনিক রাফাল যুদ্ধবিমানের প্রথম চালান নিজ মাটিতে পেতে যাচ্ছে ভারত। সোমবার (২৭ জুলাই) ফ্রান্সের দক্ষিণাঞ্চলীয় মেরিগনেক ঘাঁটি থেকে রওনা দেওয়া পাঁচটি বিমান আগামী বুধবার (২৯ জুলাই) ভারতে পৌঁছাবে। ওইদিনই হরিয়ানার আম্বালা ঘাঁটিতে ভারতীয় বিমানবাহিনীতে আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্ত হবে ফরাসি প্রতিষ্ঠান দাসল্টের তৈরি এসব যুদ্ধবিমান। মেরিগনেক ঘাঁটি থেকে রওনা দিয়ে সাত ঘণ্টার উড়াল শেষে এসব বিমান ইতোমধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল দাফরায় ফ্রান্সের বিমানঘাঁটিতে নিরাপদে পৌঁছেছে। ভারতীয় সম্প্রচারমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।ফ্রান্সের তৈরি অত্যাধুনিক রাফাল যুদ্ধবিমান

২০১৬ সালে ফ্রান্সের কাছ থেকে প্রায় ৫৯ হাজার কোটি রুপিতে অত্যাধুনিক ৩৬টি রাফাল যুদ্ধবিমান কিনতে চুক্তি স্বাক্ষর করে ভারত। চুক্তি অনুযায়ী ২০২১ সালের মধ্যে সবগুলো বিমান ভারতের কাছে হস্তান্তরের কথা। করোনাভাইরাস মহামারির কারণে বিমান হস্তান্তরে বিলম্ব হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অনেকেই। তবে দুই দেশের কর্তৃপক্ষই বলছে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই এসব বিমান হস্তান্তর সম্ভব হবে।

প্রথম চালানে পাঁচটি রাফাল বিমান হস্তান্তরের পাশাপাশি এগুলো পরিচালনায় ভারতীয় বিমান বাহিনীর ১২ জন পাইলট ও আট প্রকৌশলী কর্মীকে পূর্ণ প্রশিক্ষণ দিয়েছে ফ্রান্স। প্রায় সাত হাজার কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে এসব যুদ্ধবিমান ফ্রান্স থেকে ভারতে পৌঁছাবে। এজন্য এগুলোতে আকাশেই অন্য বিমানের মাধ্যমে পুনরায় তেল প্রবেশ করানো হবে। এছাড়া সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফরাসি ঘাঁটিতে একবার যাত্রা বিরতিও করবে।

ফ্রান্সের ভারতীয় দূতাবাসের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘নির্ধারিত সময়ে দশটি (রাফাল) যুদ্ধবিমান হস্তান্তর সম্পূর্ণ হবে। এরমধ্যে পাঁচটি প্রশিক্ষণ মিশনে ফ্রান্সেই থাকবে। নির্ধারিত সূচি মেনে ২০২১ সালের মধ্যে ৩৬টি বিমানের সবগুলো হস্তান্তর সম্পন্ন হবে।’ ফ্রান্স থেকে বিমান নিয়ে রওনা দেওয়ার আগে ভারতীয় পাইলটদের সঙ্গে দেখা করেন দেশটিতে নিযুক্ত ভারতীয় রাষ্ট্রদূত জাওয়াদ আশরাফ।রওনা দেওয়ার আগে ফরাসি ঘাঁটিতে রাফাল বিমান

উল্লেখ্য, ৫৯ হাজার কোটি রুপিতে ভারত শুধু ৩৬টি যুদ্ধবিমান পাচ্ছে তা নয়। ফ্রান্সের কাছ থেকে আনুষাঙ্গিক অস্ত্রশস্ত্রও পাবে। এরমধ্যে রয়েছে মিটিওর ক্ষেপণাস্ত্র। পৃথিবীতে যত রকমের আকাশ-থেকে-আকাশ ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে, সেগুলির মধ্যে এই মিটিওর ক্ষেপণাস্ত্রকে অন্যতম সেরা হিসেবে ধরা হয়। শব্দের চেয়ে চার গুণ জোরে ছোটে এই ক্ষেপণাস্ত্র। রাফাল যুদ্ধবিমান এই ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে আকাশে ১০০ কিলোমিটারেরও বেশি দূরে থাকা শত্রু বিমানকে ধ্বংস করে দিতে পারে।
ভারতীয় প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, রাফাল এবং মিটিওর-এর এই যুগলবন্দি গোটা দক্ষিণ এশিয়ার সামরিক ভারসাম্যের ছবি বদলে দেবে। রাফায়েল যুদ্ধবিমানের মতো ডাবল ইঞ্জিন মাল্টি-রোল অল ওয়েদার ফাইটার এয়ারক্র্যাফ্ট আকাশে যেভাবে দাপট দেখাতে পারে,ভারতের দুই প্রতিপক্ষ চীন এবং পাকিস্তানের কোনও যুদ্ধবিমানই তার ধারেকাছে আসে না। অনেক উচ্চতা থেকে এবং অনেক দূরত্ব থেকে ভূপৃষ্ঠে থাকা নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারে রাফাল।

ভারতীয় বিশেষজ্ঞদের অনেকেই মনে করেন, বিমানবাহিনীতে রাফাল বিমান যুক্ত হলে দিল্লিকে সমঝে চলবে চীন। সামরিক সূত্রের বরাত দিয়ে এনডিটিভি জানিয়েছে, ভারতে পৌঁছানোর সাত দিনের মধ্যে রাফাল বিমানগুলোকে লাদাখ সীমান্তে মোতায়েন করা হতে পারে। স্বাভাবিকভাবে একটি নতুন যুদ্ধবিমানকে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে মোতায়েন করতে ছয় মাস সময় লাগলেও বেইজিংয়ের সঙ্গে উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে দ্রুততম সময়ের মধ্যে লাদাখের নিয়ন্ত্রণরেখায় রাফাল যুদ্ধবিমান মোতায়েন করতে পারে ভারত।

 

/জেজে/বিএ/

লাইভ

টপ
X