কাশ্মিরে বিতর্কিত বন্দুকযুদ্ধে অভিযুক্ত ভারতের সেনা সদস্য

Send
বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত : ২০:৫০, সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ২০:৫১, সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২০

কাশ্মিরের সোপিয়ান জেলায় গত ১৮ জুলাই এক বিতর্কিত বন্দুকযুদ্ধে তিন জনকে হত্যার ঘটনায় জড়িত সেনা সদস্যদের অভিযুক্ত করেছে ভারতের সেনাবাহিনী। অভিযুক্ত এসব সদস্যদের বিরুদ্ধে শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরুর কথা জানানো হয়েছে। ভারতের এক প্রতিরক্ষা মুখপাত্র জানিয়েছেন, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহারের প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া গেছে। সম্প্রচারমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ গত ১৮ জুলাই এক সাজানো বন্দুকযুদ্ধে তিন তরুণ নিহত হয়। পরস্পর আত্মীয় এই তিন ভাই সোপিয়ানে কাজের খোঁজে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয়ে যায়। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মরদেহের ছবি প্রকাশের পর তাদের শনাক্ত করে পরিবারের সদস্যরা।

ওই বন্দুকযুদ্ধের ঘটনায় তুমুল প্রতিবাদ শুরু হলে তদন্ত শুরু করে ভারতীয় সেনাবাহিনী। সেনা কর্তৃপক্ষের কাছে অপারেশন আমসিফোরা নামে পরিচিত এই অভিযান নিয়ে চালানো তদন্তে দেখা গেছে সশস্ত্র বাহিনীর বিশেষ ক্ষমতা আইনে বর্ণিত ক্ষমতার অপব্যহার করেছে এতে জড়িত সেনা সদস্যরা।

ভারতের প্রতিরক্ষা মুখপাত্র জানান, তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর অভিযুক্ত সেনা সদস্যদের বিরুদ্ধে শৃঙ্খলাভঙ্গের দায়ে সেনা আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, অপারেশন আমসিফোরায় নিহত তিনজনকে ইমতিয়াজ আহমেদ, আবরার আহমেদ এবং মোহাম্মদ ইবরার হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের রাজৌরি থেকে গ্রেফতার করা হয়। বিবৃতিতে বলা হয়, ‘তাদের ডিএনএ পরীক্ষার ফলাফলের অপেক্ষা করা হচ্ছে। সন্ত্রাসে তাদের যুক্ত থাকা কিংবা এই ধরণের কাজে তাদের সম্পৃক্ততার বিষয়ে পুলিশি তদন্ত চলছে।’

এই ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন কাশ্মিরের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ।

বিতর্কিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত তিন তরুণের মরদেহের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর কাশ্মিরে ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু হয়। পরিবারের সদস্যরা তাদের শনাক্ত করে জানান ১৭ জুলাই তারা সোপিয়ান জেলার চৌগ্রামের একটি ভাড়া বাড়ি থেকে তারা নিখোঁজ হয়ে যায়।

বিতর্ক শুরু হওয়ার পর ঘটনাটি তদন্ত করে দেখার কথা জানায় সেনা ও পুলিশ বাহিনী। ওই বিতর্কিত বন্দুকযুদ্ধের পর স্থানীয়রা জানায়, পুলিশ ও সেনা সদস্যরা স্থানীয়দের ডেকে মরদেহ তিনটিকে শনাক্ত করতে বলে কিন্তু ওই সময়ে কেউই তাদের শনাক্ত করতে পারেনি। ঘটনাস্থল থেকে মাত্র একশ’ মিটার দূরে বসবাসকারী মোহাম্মদ আশরাফ বলেন, মরদেহ শনাক্ত করতে আমাদের ডাকা হয়। আমরা কেউই তাদের চিনতে পারিনি-তারা স্থানীয় ছিলো না। তাদের মুখ, মাথা, চোখ আর বুকে গুলিবিদ্ধ ছিলো।

উল্লেখ্য, বিশ্বের সবচেয়ে বেশি সামরিকায়িত অঞ্চল কাশ্মির। ভারত সরকারের দাবি, গত ৩০ বছর ধরে সেখানে পাকিস্তান সমর্থিত সন্ত্রাস দমনে নিয়োজিত রয়েছে তাদের সেনাবাহিনী।

/জেজে/

লাইভ

টপ
X