যুক্তরাজ্যে করোনা টিকার প্রথম ‘হিউম্যান চ্যালেঞ্জ’

Send
বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত : ১৭:০৯, সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৭:১১, সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২০

বিশ্বে প্রথমবারের মতো যুক্তরাজ্যে করোনাভাইরাসের সম্ভাব্য একটি টিকার প্রথম ‘হিউম্যান চ্যালেঞ্জ’ শুরু হতে যাচ্ছে। এই ধাপে সুস্থ স্বেচ্ছাসেবীদের দেহে করোনাভাইরাস প্রবেশ করিয়ে টিকার কার্যকারিতা যাচাই করা হবে। আগামী সপ্তাহে এই হিউম্যান চ্যালেঞ্জ শুরুর ঘোষণা দেওয়া হতে পারে বলে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে বিষয়টি জানা গেছে।

খবরে বলা হয়েছে, সরকারি অর্থায়নে এই গবেষণা ২০২১ সালের জানুয়ারিতে লন্ডনে শুরু হতে পারে। যেসব সুস্থ স্বেচ্ছাসেবীদের দেহে করোনাভাইরাসে সংক্রমিত করা হবে তাদের ঘনিষ্ঠভাবে নজরদারিতে রাখা হবে। দীর্ঘ একমাস তারা কঠোর কোয়ারেন্টাইনে থাকবেন।

টিকা উদ্ভাবনে ‘হিউম্যান চ্যালেঞ্জ’-এর দীর্ঘ ও সফল ইতিহাস রয়েছে। ১৮ শতকের শেষ দিকে এডওয়ার্ড জেনের আট বছরের এক ছেলের শরীরে বসন্তের ভাইরাস প্রবেশ করান। টাইফয়েড, কলেরা ও ম্যালেরিয়ার টিকা উদ্ভাবনের জন্য এমন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে অনেকেই বলছেন, করোনাভাইরাসের কোনও কার্যকর ওষুধ না থাকায় স্বেচ্ছাসেবীদের জীবন ঝুঁকিতে পড়তে পারে।

খবরে বলা হয়েছে, তরুণ, সুঠাম ও সুস্থাস্থ্যের অধিকারীদের জন্য করোনাভাইরাসে সংক্রমিত হলেও ঝুঁকি কম। যুক্তরাজ্যে এখন পর্যন্ত ২ হাজার স্বেচ্ছাসেবী হতে নিবন্ধন করেছেন। ওয়ানডে সুনার নামের একটি প্রচার আন্দোলনের পক্ষ থেকে ব্রিটিশ পার্লামেন্টের পক্ষ থেকে হিউম্যান চ্যালেঞ্জ করার আহ্বান জানানো হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির বিশ্বজুড়ে ৩৭ হাজার স্বেচ্ছাসেবী রয়েছেন যারা করোনাভাইরাসে সংক্রমিত হতে আগ্রহী।

টিকা উদ্ভাবনের অগ্রগতিতে হিউম্যান চ্যালেঞ্জের মাধ্যমে দ্রুত কার্যকারিতা সম্পর্কে জানার সুযোগ তৈরি হয়। করোনার তিন শতাধিক টিকা উদ্ভাবনের প্রচেষ্টা চলমান রয়েছে। এগুলোর মধ্যে বেশিরভাগই এখন পর্যন্ত গবেষণাগারে বিভিন্ন ধাপের পরীক্ষাধীন থাকলেও ৯টি বড় আকারের তৃতীয় ধাপের ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে রয়েছে।

হিউম্যান চ্যালেঞ্জে স্বেচ্ছাসেবীদের দেহে পরীক্ষামূলক কোনও একটি টিকা প্রয়োগ করা হবে। এরপর তাদের দেহে সার্স-কভ-২ ভাইরাসের ডোজ প্রবেশ করানো হবে। এই পরীক্ষার জন্য যুক্তরাজ্যের ওষুধ ও স্বাস্থ্যসেবা পণ্যের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও স্বতন্ত্র এথিকস কমিটির অনুমোদন লাগবে। 

/এএ/

লাইভ

টপ