আর্মেনিয়া-আজারবাইজান সংঘাতে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৬৭

Send
বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত : ২২:৩৭, সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ০৯:৫৬, সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২০

বিরোধপূর্ণ নাগোরনো-কারাবাখ অঞ্চলে আর্মেনিয়া ও আজারবাইজানের মধ্যকার সংঘাতে দ্বিতীয় দিনে হতাহতের সংখ্যা বেড়েছে। রবিবার শুরু হওয়া এই সংঘাতে উভয়পক্ষের অন্তত ৬৭ জন নিহত হয়েছেন বলে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা’র খবরে বলা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, ইরান ও ইউরোপীয় শক্তিগুলো লড়াই থামিয়ে আলোচনায় বসার আহ্বান জানিয়েছে।

১৯৮০-এর দশকের শেষদিকে কারাবাখ অঞ্চলে আর্মেনিয়া ও আজারবাইজানের মধ্যে সংঘাত শুরু হয়। ১৯৯১ সালে সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের মুহূর্তে সংঘর্ষ চূড়ান্ত আকার ধারণ করে। ১৯৯৪ সালে দুই পক্ষের মধ্যে যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠার আগ পর্যন্ত এ সংঘর্ষে ৩০ হাজার মানুষ নিহত হয়। কারাবাখ অঞ্চলটি আজারবাইজানের ভেতরে হলেও ইয়েরেভান সরকারের পৃষ্ঠপোষকতা নিয়ে তা নিয়ন্ত্রণ করছে আর্মেনীয় বিচ্ছিন্নতাবাদীরা। মূলত এ নিয়েই সংঘাতের সূত্রপাত।

নাগোরনো-কারাবাখ অঞ্চল নিয়ে দীর্ঘ বিবাদের জেরে ২৭ সেপ্টেম্বর রবিবার সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে দুই দেশ। আজারবাইজানের ভূখণ্ড হলেও আর্মেনিয়া সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় অঞ্চলটি নিয়ন্ত্রণ করে আর্মেনীয় বিচ্ছিন্নতাবাদীরা। নতুন করে সংঘাতের জন্য আর্মেনিয়া ও আজারবাইজান একে অপরকে দায়ী করেছে।

নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৬৭

বেসামরিকসহ সংঘাতে লিপ্ত পক্ষগুলোর নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৭ জনে।

বিচ্ছিন্নতাবাদী নিয়ন্ত্রিত কারাবাখের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যুদ্ধে তাদের আরও ২৭ জন সেনা নিহত হয়েছে। এর আগে ২৮ জন নিহতের কথা জানানো হয়েছিল। এখন পর্যন্ত তাদের মোট নিহতের সংখ্যা ৫৮।

এছাড়া আজারবাইজান ও আর্মেনীয় পক্ষের ৯ বেসামরিক নিহত হয়েছেন। এদের আজারবাইজানের ৭ জন ও আর্মেনিয়ার ২ জন।

আজারবাইজানের কোনও সেনা নিহতের কথা জানা যায়নি। তবে বিচ্ছিন্নতাবাদীদের প্রকাশ করা একটি ভিডিওতে জ্বলন্ত সাঁজোয়া যান থেকে দগ্ধ ও রক্তাক্ত সেনাদের নামতে দেখা গেছে। বলা হয়েছে, এরা আজারবাইজানি সেনা।

বিচ্ছিন্নতাবাদীরা জানিয়েছে, তাদের আহতের সংখ্যা শতাধিক এবং আর্মেনীয় কর্তৃপক্ষ দুই শতাধিক আহতের কথা কথা জানিয়েছে।

ইউরোপীয় আদালতে আর্মেনিয়া

আজারবাইজানকে বেসামরিক নাগরিকদের হামলা ও বেসামরিক স্থাপনায় সামরিক অভিযান বন্ধে নির্দেশনা জারির জন্য ইউরোপীয় মানবাধিকার আদালতের শরনাপন্ন হয়েছে আর্মেনিয়া। সোমবার আদালতের পক্ষে এই আহ্বানের বিষয়টি জানানো হয়েছে।

আদালত জানিয়েছে, তারা অনুরোধটি যাচাই করছে। আর্মেনিয়া ও আজারবাইজান উভয়পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্যবস্তু করার অভিযোগ করে আসছে।

আজারবাইজানের ভূখণ্ড ছাড়তে হবে আর্মেনিয়াকে: এরদোয়ান

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোয়ান বলেছেন, আর্মেনিয়াকে অবিলম্বে আজারবাইজানের ভূখণ্ড ছেড়ে চলে যেতে হবে। ইস্তানবুলে দেওয়া এক ভাষণে তিনি একথা বলেছেন।

চলমান সংঘাতে আজারবাইজানের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে তুরস্ক। এর আগে সোমবার রাশিয়ায় নিয়োজিত আর্মেনিয়ার রাষ্ট্রদূত অভিযোগ করেছেন, আজারবাইজানে দেশটির ঘনিষ্ঠ মিত্র তুরস্ক তাদের ৪ হাজার সেনা পাঠিয়েছে। এ সেনারা এতদিন সিরিয়ায় নিয়োজিত ছিল। এখন তারা নাগোরনো-কারাবাখ অঞ্চলে আর্মেনিয়ার সেনাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে অংশ নিয়েছে।

এর পরপরই প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন আজারবাইজানের প্রেসিডেন্টের সহযোগী গাদঝিয়েভ। অভিযোগ নাকচ করে তিনি বলেন, ‘সিরিয়া থেকে সেনা সরিয়ে আজারবাইজানে মোতায়েন করার গুজব উঠেছে। এটি আর্মেনীয় পক্ষের আরেকটি উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড। একেবারেই বাজে কথা।’

/এএ/

লাইভ

টপ