আলোচনার জন্য এটি যথাযথ সময় নয়: আর্মেনিয়া

Send
বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত : ১৪:২৩, অক্টোবর ০১, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৪:২৮, অক্টোবর ০১, ২০২০

আজারবাইজান ও আর্মেনিয়ার প্রতি চলমান সংঘাত পরিহার করে আলোচনার টেবিলে বসার আহ্বান জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়। এরইমধ্যে দেশ দুটির প্রতি যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছে রাশিয়া, ফ্রান্স ও জার্মানি। তবে দুই দেশই এমন আহ্বান প্রত্যাখ্যান করেছে। আর্মেনিয়ার প্রধানমন্ত্রী নিকোল পাশিনিয়ান বলেছেন, এই তীব্র শত্রুতার মুহূর্তে আলোচনার কথা বলা যথাযথ নয়।

কারাবাখ অঞ্চলটি আজারবাইজানের ভূখণ্ড হলেও ইয়েরেভান সরকারের পৃষ্ঠপোষকতা নিয়ে তা নিয়ন্ত্রণ করছে আর্মেনীয় বিচ্ছিন্নতাবাদীরা। মূলত এ নিয়েই সংঘাতের সূত্রপাত। এ সংঘাতে এখন পর্যন্ত নারী ও শিশুসহ শতাধিক মানুষ নিহত হয়েছেন। নিহতদের বেশিরভাগই বিচ্ছিন্নতাবাদী বলে জানা গেছে। এর মধ্যেই বুধবার বিচ্ছিন্নতাবাদীদের নেতা আরায়িক হারুটুনিয়ান বলেছেন, ‌“আমাদের একটি দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধের প্রস্তুতি নিতে হবে।‌‌”

চলমান সংঘাতে প্রাণহানির সংখ্যা বেড়েই চলেছে। আর্মেনিয়ার দাবি, এ সংঘাতে এরইমধ্যে আলবেনিয়ার ১৩০ সেনা নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে আরও দুই শতাধিক। বিপরীতে নিজ দেশের ১০৪ সেনা এবং ২৩ বেসামরিক নাগরিক নিহত হওয়ার কথা স্বীকার করেছে আর্মেনিয়া।

এদিকে নাগোরনো-কারাবাখ অঞ্চলে বিদ্যমান লড়াইয়ে আর্মেনিয়ার দুই হাজার তিনশ’ সেনা নিহত হয়েছে বলে দাবি করেছে আজারবাইজান। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, নিজেদের অঞ্চলে চালানো হামলা প্রতিহত করতে আজারবাইজান সেনাবাহিনীর পাল্টা হামলায় আর্মেনিয়ার এসব সেনা সদস্য নিহত হয়েছে। এছাড়া প্রতিপক্ষের বিপুল সংখ্যক অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম ধ্বংসেরও দাবি করেছে দেশটি।

বিবৃতিতে বলা হয়, গত কয়েক দিনের সংঘাতে আর্মেনিয়ার প্রায় ১৩টি ট্যাংক ও সামরিক যান, দুই শতাধিক আর্টিলারি ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা, প্রায় ২৫টি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ছয়টি কমান্ডান্ট ও অবজারভেশন পোস্ট, পাঁচটি অস্ত্র গুদাম, প্রায় ৫০টি ট্যাংক ধ্বংসকারী গান এবং ৫৫টি গাড়ি ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, নাগোরনো-কারাবাখ অঞ্চলটি আজারবাইজানের ভেতরে অবস্থিত হলেও ইয়েরেভান সরকারের পৃষ্ঠপোষকতা নিয়ে তা নিয়ন্ত্রণ করছে আর্মেনীয় বিচ্ছিন্নতাবাদীরা। ১৯৮০-এর দশকের শেষদিকে অঞ্চলটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আর্মেনিয়া ও আজারবাইজানের মধ্যে সংঘাত শুরু হয়। ১৯৯১ সালে সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের মুহূর্তে সংঘর্ষ চূড়ান্ত আকার ধারণ করে। ১৯৯৪ সালে দুই পক্ষের মধ্যে যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠার আগ পর্যন্ত এই সংঘর্ষে ৩০ হাজার মানুষ নিহত হয়। পরে ২০১৬ এবং এই বছরের শুরুতেও সংঘাতে জড়ায় দুই পক্ষ। সূত্র: আল জাজিরা।

/এমপি/

লাইভ

টপ