তাইওয়ানের কাছে অস্ত্র বিক্রির অনুমোদন যুক্তরাষ্ট্রের

Send
বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত : ১৬:৪৮, অক্টোবর ২২, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৮:১৬, অক্টোবর ২২, ২০২০

প্রায় একশ’ ৮০ কোটি ডলার মূল্যের অস্ত্র তাইওয়ানের কাছে বিক্রির অনুমোদন দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এর ফলে চীনের সঙ্গে উত্তেজনা আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতর জানিয়েছে, চুক্তিতে তিন ধরনের অস্ত্র ব্যবস্থা রয়েছে। এরমধ্যে রয়েছে রকেট লাঞ্চার, সেন্সরস ও আর্টিলারি। তাইওয়ানের প্রতিরক্ষা দফতর বলছে এসব অস্ত্র তাদের যুদ্ধ সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি যুদ্ধ ঠেকানোয় সহায়তা করবে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

নিজেদের স্বতন্ত্র দেশ দাবি করে থাকে তাইওয়ান। তবে অঞ্চলটিকে নিজেদের বিরুদ্ধাচরণকারী প্রদেশ হিসেবে দেখে থাকে চীন। উভয় অঞ্চলের মধ্য সম্প্রতি উত্তেজনা বেড়েছে। আর দ্বীপাঞ্চলটির কর্তৃত্ব ফিরে পেতে বল প্রয়োগের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেয়নি চীন।

গত সপ্তাহে মার্কিন নিরাপত্তা উপদেষ্টা রবার্ট ও’ব্রায়েন বলেন, তিনি বিশ্বাস করেন না যে তাইওয়ানে আগ্রাসন চালাতে চীন প্রস্তুত রয়েছে। তারপরও ভবিষ্যতের জন্য দ্বীপটির উচিত প্রতিরক্ষা গড়ে তোলা।

চুক্তি অনুযায়ী তাইওয়ানকে ১৩৫টি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র, স্থানান্তরযোগ্য হালকা রকেট লাঞ্চার এবং যুদ্ধবিমানে যুক্ত করার উপযোগী আর্টিলারি সরবরাহ করবে যুক্তরাষ্ট্র। বিবিসি বলছে, আগের যেকোনও সময়ের চেয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাইওয়ানের কাছে বেশি অস্ত্র বিক্রি করেছে।

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ওই অস্ত্র চুক্তি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বেইজিংয়ের সম্পর্কে গভীর প্রভাব ফেলতে পারে। প্রয়োজন মতো এর বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে বেইজিং।

গত কয়েক মাসে তাইওয়ানের সঙ্গে যোগাযোগ নিবিড় করেছে যুক্তরাষ্ট্র। আগস্টে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ পর্যায়ের এক রাজনীতিবিদ তাইওয়ান সফর করেন। সেখানকার প্রেসিডেন্ট তাসাই-ইন ওয়েনসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন তিনি।

এসব বৈঠকের জোরালো প্রতিবাদ জানায় বেইজিং। আর চীন-মার্কিন সম্পর্ককে প্রভাবিত করতে পারে এমন কোনও বার্তা পাঠানোর ব্যাপারে ওয়াশিংটনকে সতর্ক করে দেয় বেইজিং। এছাড়া তাইওয়ান অঞ্চলে সামরিক উপস্থিতিও জোরালো করতে থাকে চীন।

তাইওয়ানের কাছে অস্ত্র বিক্রিসহ অঞ্চলটির সঙ্গে নিরাপত্তা নিশ্চয়তার প্রতিশ্রুতিও রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের। তবে জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও ফিলিপাইনের সঙ্গে যেমন এ সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিক চুক্তি রয়েছে, তাইওয়ানের সঙ্গে তা নেই।

১৯৪০’র দশকের গৃহযুদ্ধের সময় আলাদা হয়ে যায় চীন ও তাইওয়ান। তবে প্রয়োজনে যেকোনও সময় অঞ্চলটির কর্তৃত্ব ফিরিয়ে নেওয়া হবে বলে দাবি করে আসছে বেইজিং। চীনবিরোধী প্রেসিডেন্ট তাসাই ইন-ওয়েন নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই অঞ্চলটির সঙ্গে চীনের বিরোধ বেড়েছে।

/জেজে/এমওএফ/

লাইভ

টপ