গৃহযুদ্ধকালের যৌন নিপীড়নের দায়ে বিচারের মুখে গুয়াতেমালার সেনারা

বিদেশ ডেস্ক
২৯ জানুয়ারি ২০১৬, ১৮:১১আপডেট : ২৯ জানুয়ারি ২০১৬, ১৮:১১

গুয়াতেমালায় গৃহযুদ্ধ চলাকালে নারীদের ওপর যৌন দাসত্ব চাপিয়ে দেওয়ার অভিযোগে বিচারের সম্মুখীন হচ্ছেন এর সঙ্গে জড়িত দেশটির সেনা সদস্যরা। ওই ঘটনায় বিচারের উদ্যোগ এটাই প্রথম। বলা হচ্ছে, এর সঙ্গে সম্পৃক্ত সেনাদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

১১ জন মায়ান নারীর ধর্ষিত ও যৌন দাসত্বের শিকার হওয়ার ৩০ বছর পর এ উদ্যোগ নেওয়া হলো। সশস্ত্র সংঘাতের সময় যৌন দাসত্বের বিচার বিশ্বে এটাই প্রথম। বিচার কার্যক্রমে ৪০ দিনের মতো সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান।

যৌন নিপীড়নের বিচার দাবি করে ২০১২ সালে গুয়াতেমালার এক বিক্ষোভ

আগামী সোমবার শুরু হতে যাওয়া ঐতিহাসিক এ বিচারে সাবেক দুই সেনা কর্মকর্তাকে কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে। তাদের বিরুদ্ধে নারীদের ওপর যৌন ও গৃহস্থালী দাসত্ব এবং লোকজনকে গুম করার দায়ে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে।

অভিযুক্ত দুই সাবেক সেনা সদস্যের একজন সাবেক বেজ কমান্ডার। অন্যজন সাবেক আঞ্চলিক সেনা কর্মকর্তা। তবে তারা নিজেদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। অন্য অভিযুক্তদের সম্পর্কেও তদন্ত চলছে।

আদালতের শুনানির সময় মায়ান আদিবাসী জনগোষ্ঠীর নারীরা

সুদীর্ঘ গৃহযুদ্ধের এক পর্যায়ে ১৯৮২ সালে গৃহযুদ্ধের সময় গুয়াতেমালার পূর্বাঞ্চলীয় সেপুর জারকো এলাকায় প্রথম কৃষক নেতাদের ধরে নিয়ে যাওয়া হয়। গুম-খুনের শিকার হন অনেকে। ওই ঘটনার কয়েক সপ্তাহ পর আবারও একই এলাকায় প্রবেশ করে সেনারা। এ সময় তারা সেখানে নারীদের ওপর নিপীড়ন চালায়। সন্তানের সামনেই নারীদের ধর্ষণ করে সেনারা। পুড়িয়ে দেওয়া হয় তাদের ঘরবাড়ি ও শষ্য ক্ষেত।

এসব নারীদের পরে সেনাঘাঁটি সংলগ্ন খুপরি ঘরে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে যৌন দাসত্বের শিকার হন তারা। এক এক জন নারীকে দিয়ে সেনা ঘাঁটিতে ১২ ঘণ্টার শিফটে কাজ করতে বাধ্য করা হতো। এ সময় তারা রান্নাবান্না, পরিচ্ছন্নতা ও সেনাদের হাতে ধর্ষণের শিকার হতেন।

গুয়াতেমালার গৃহযুদ্ধের ছবি

জাতিগত মায়ান সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করেন তৎকালীন সেনাশাসক জেনারেল ইফরেইন রিওস মনতের। ৩৬ বছরের ওই গৃহযুদ্ধের শিকার হন কয়েক লাখ মানুষ। এদের বেশিরভাগই কুয়িচ অঞ্চলের স্থানীয় মায়া সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত।

১৯৯৯ সালে জাতিসংঘের ট্রুথ কমিশনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ওই যুদ্ধে দেশটির সরকারি বাহিনী ধর্ষণকে একটি অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান।

/এমপি/বিএ/

সম্পর্কিত
দিনের গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক খবর
প্রতিনিধি পরিষদের ইরান যুদ্ধবিরোধী ভোটের প্রতিক্রিয়ায় মুখ খুললেন ট্রাম্প
মার্কিন সেনা হত্যা করলে যুদ্ধবিরতি শেষ, উপদেষ্টাদের জানালেন ট্রাম্প
সর্বশেষ খবর
‘পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ প্রধানমন্ত্রীকে নোবেল দিলে সেটা তারেক রহমান পাবেন’
‘পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ প্রধানমন্ত্রীকে নোবেল দিলে সেটা তারেক রহমান পাবেন’
আফগানিস্তানের সঙ্গে ড্র করলো বাংলাদেশ 
আফগানিস্তানের সঙ্গে ড্র করলো বাংলাদেশ 
বিশ্বের সেরা ১০০ উপন্যাস : বাছাই ও বির্তক
বিশ্বের সেরা ১০০ উপন্যাস : বাছাই ও বির্তক
ঢাকায় পৌঁছেছেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান 
ঢাকায় পৌঁছেছেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান 
সর্বাধিক পঠিত
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: নিজেকে নির্দোষ দাবি ডলারের
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: নিজেকে নির্দোষ দাবি ডলারের
আপা ডাকায় নয়, বাসি মিষ্টি পাওয়ায় জরিমানা করেছি
সংবাদ সম্মেলনে ইউএনও মুনমুন নাহার আশাআপা ডাকায় নয়, বাসি মিষ্টি পাওয়ায় জরিমানা করেছি