আবারও নতুন বিতর্কের কেন্দ্রে দিল্লির জওহরলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয়ের (জেএনইউ) ছাত্র সংসদের সভাপতি এবং কথিত রাষ্ট্রদ্রোহে অভিযুক্ত কানহাইয়া কুমার। আফজাল গুরুর ফাঁসির আদেশকে প্রশ্নবিদ্ধ করার পর এবার ভারতীয় সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ তুলেছেন তিনি।
আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সামনে বক্তৃতা দেওয়ার সময় কানহাইয়া বলেছেন, কাশ্মিরে মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং আফস্পার (বিতর্কিত আইন) বিরুদ্ধে তিনি এবার আওয়াজ তুলতে চান। তার দাবি, ‘যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ সিরিয়ার মতো কাশ্মিরি নারীদের ধর্ষণ করছে ভারতীয় সেনা জওয়ানরা। এই পরিস্থিতি বদলাতেই হবে।’
ওই অনুষ্ঠানে সম্প্রতি এসিড হামলার শিকার হওয়া আদিবাসী নেতা সোনি সোরিও যোগ দেন। মঙ্গলবার তিনি হাসপাতাল থেকে সোজা জেএনইউ-তে গিয়ে হাজির হন। আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের প্রতি নিজের সমর্থন জানাতে সেখানে যান সোরি। জেএনইউ-তে পৌঁছালে ছাত্র সংসদের সভাপতি কানহাইয়া কুমার সোরিকে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন। সোরিকে ‘প্রকৃত বীর’ উল্লেখ করে কানহাইয়া বলেন, ‘সোরি তার নিজের অবস্থান থেকে প্রকৃত বীরের মতো স্বাধীনতার জন্য লড়াই করছেন।’
সমাবেশে সোরি বলেন, ‘বস্তারে আধাসামরিক বাহিনীর সদস্যরা যখন আদিবাসীদের পেটায় ও হত্যা করে, তারাও কি বিশ্বাসঘাতক নয়? আর এখানে শুধু স্লোগান দেওয়ার জন্য লোকজনকে ‘দেশদ্রোহী’ হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে, কেন এই দ্বিমুখিতা?’
উল্লেখ্য, ২০ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় বস্তারের কোদেনার এলাকায় তিন অজ্ঞাত ব্যক্তি সোনি সোরির ওপর হামলা চালায়। রাস্তায় জোর করে তার গাড়ি থামিয়ে মুখে এক ধরনের এসিড-জাতীয় কলো তরল পদার্থ ছুঁড়ে মারে।
৯ ফেব্রুয়ারি ক্যাম্পাসে আফজাল গুরুর সমর্থনে আয়োজিত বিতর্কিত কর্মসূচিতে দেশবিরোধী স্লোগান দেওয়ার অভিযোগে ১২ ফেব্রুয়ারি কানহাইয়া কুমারকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এরপর রিমান্ড শেষে তাকে তিহার কারাগারে পাঠানো হয়। ২ মার্চ দিল্লির হাইকোর্ট কানহাইয়ার ছয় মাসের শর্তাধিন জামিন মঞ্জুর করেন। সূত্র: কলকাতা২৪X৭, ওয়ান ইন্ডিয়া, ফার্স্ট পোস্ট।
/এসএ/এএ/








