প্লাস্টিকমুক্ত ভ্রমণ কেন জরুরি, কীভাবে শুরু করবেন

বাংলা ট্রিবিউন ডেস্ক
২৮ জুলাই ২০২৬, ১৭:০৯আপডেট : ২৮ জুলাই ২০২৬, ১৭:০৯

ভ্রমণে বের হলে আমরা কাপড়, ক্যামেরা, চার্জার কিংবা ওষুধসহ প্রয়োজনীয় অনেক কিছু সঙ্গে রাখি। কিন্তু অজান্তেই এমন কিছু প্লাস্টিক ব্যবহার করি, যা পাহাড়, সমুদ্র, নদী বা বনাঞ্চলের পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর। পানির বোতল, পলিথিন, প্লাস্টিকের কাপ, স্ট্র কিংবা খাবারের মোড়ক এসবের অনেকটাই প্রকৃতিতে বছরের পর বছর থেকে যায়।

তাই এখন বিশ্বজুড়ে টেকসই পর্যটনের ধারণা যত জনপ্রিয় হচ্ছে, ততই গুরুত্ব পাচ্ছে প্লাস্টিকমুক্ত ও পরিবেশবান্ধব ভ্রমণ। সামান্য কিছু অভ্যাস বদলালেই ভ্রমণকে আরও দায়িত্বশীল করা সম্ভব। এটি শুধু পরিবেশ রক্ষার বিষয় নয়, বরং একজন সচেতন ভ্রমণকারীর পরিচয়ও।

নিজের পানির বোতল ব্যবহার করুন

ভ্রমণে সবচেয়ে বেশি ব্যবহারযোগ্য পণ্য হলো প্লাস্টিকের বোতল। তাই সঙ্গে একটি স্টিল বা পুনর্ব্যবহারযোগ্য পানির বোতল রাখুন। প্রয়োজন হলে সেটিতে বারবার পানি ভরে ব্যবহার করতে পারবেন।

কাপড়ের ব্যাগ সঙ্গে রাখুন

স্থানীয় বাজার থেকে কেনাকাটা বা প্রয়োজনীয় জিনিস বহনের জন্য দোকানের পলিথিন না নিয়ে নিজের কাপড়ের ব্যাগ ব্যবহার করুন। এটি হালকা, সহজে বহন করা যায় এবং বারবার ব্যবহার করতে পারবেন।

নিজের কাপ বা খাবারের পাত্র ব্যবহার করুন

চা, কফি বা জুস খাওয়ার জন্য অনেক জায়গায় প্লাস্টিক বা কাগজের কাপ ব্যবহার করা হয়। সম্ভব হলে প্লাস্টিকের কাপের বদলে ট্রাভেল মগ বা নিজের কাপ ব্যবহার করুন। চাইলে ছোট একটি পুনর্ব্যবহারযোগ্য খাবারের পাত্রও সঙ্গে রাখতে পারেন।

প্লাস্টিকের স্ট্র ও চামচ এড়িয়ে চলুন

বর্তমানে অনেক ভ্রমণকারী স্টিল বা বাঁশের তৈরি স্ট্র এবং কাটলারি বহন করেন। তাছাড়া পরিবেশবান্ধব উপকরণের স্ট্র ও কাটলারি এখন সহজেই পাওয়া যায়। এগুলো ব্যবহার করলে একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিকের প্রয়োজন কমে যায়।

আবর্জনা নির্দিষ্ট স্থানে ফেলুন

যেখানে-সেখানে আবর্জনা ফেলবেন না। ডাস্টবিন না থাকলে একটি ছোট ব্যাগে নিজের বর্জ্য জমিয়ে রাখুন। পরে নির্ধারিত জায়গায় ফেলুন। পাহাড়, সমুদ্রসৈকত বা বনভূমিতে কোনও ধরনের আবর্জনা ফেলে আসবেন না।

স্থানীয় পরিবেশবান্ধব পণ্য কিনুন

স্থানীয়ভাবে তৈরি খাবার, হস্তশিল্প বা পরিবেশবান্ধব প্যাকেজিংয়ের পণ্য কিনুন। এতে একদিকে স্থানীয় ব্যবসা উপকৃত হয়, অন্যদিকে প্লাস্টিকের ব্যবহারও কমে।

নিজের প্রয়োজনীয় টয়লেট্রিজ সঙ্গে নিন

অনেক হোটেলে ছোট ছোট প্লাস্টিকের বোতলে শ্যাম্পু, লোশন বা টয়লেট্রিজ দেওয়া হয়। এর বদলে সম্ভব হলে নিজের পুনর্ব্যবহারযোগ্য ছোট বোতলে প্রয়োজনীয় সামগ্রী নিয়ে যেতে পারেন।

প্রকৃতিকে যেমন পেয়েছেন, তেমনই রেখে আসুন

ভ্রমণে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম হলো, প্রকৃতির কোনও ক্ষতি না করা। ফুল ছিঁড়ে না নেওয়া, গাছে নাম না লেখা, বন্য প্রাণীকে বিরক্ত না করা এবং কোনও ধরনের প্লাস্টিক বা বর্জ্য ফেলে না আসাই দায়িত্বশীল ভ্রমণের পরিচয়।

বন্ধুদেরও উৎসাহিত করুন

বন্ধু বা পরিবারের সঙ্গে ভ্রমণে গেলে সবাইকে পুনর্ব্যবহারযোগ্য বোতল, ব্যাগ ও খাবারের পাত্র ব্যবহার করতে উৎসাহ দিন। ছোট একটি উদ্যোগও বড় পরিবর্তন আনতে পারে।

ছোট অভ্যাস, বড় পরিবর্তন

একজন মানুষ হয়তো একটি ভ্রমণে মাত্র কয়েকটি প্লাস্টিকের বোতল বা পলিথিন ব্যবহার কমাতে পারেন। কিন্তু লাখো ভ্রমণকারী একই অভ্যাস গড়ে তুললে পাহাড়, সমুদ্র, নদী ও বনাঞ্চলে প্লাস্টিক বর্জ্য অনেকটাই কমানো সম্ভব। প্রকৃতি রক্ষায় এমন ছোট ছোট উদ্যোগই ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সুন্দর পরিবেশ গড়ে তুলতে সাহায্য করবে।

/এমএএল/
সম্পর্কিত
সুন্দরবনে প্লাস্টিকের স্রোত, যায় মাছের পেটেও: কীভাবে বাঁচবে প্রাণ
কামরাঙ্গীরচরে হাজারো নাগরিকের প্লাস্টিক জমা দিয়ে কেনাকাটা
প্লাস্টিকের চাল ও ডিম: গুজব, বাস্তবতা নাকি খাদ্য নিরাপত্তার নতুন শঙ্কা
সর্বশেষ খবর
দেশে সারের সংকট নেই, দুষ্টু লোকদের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে কৃষক: কৃষিমন্ত্রী
দেশে সারের সংকট নেই, দুষ্টু লোকদের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে কৃষক: কৃষিমন্ত্রী
ব্রিকসকে বৈশ্বিক শাসনব্যবস্থা সংস্কারে ১০ প্রস্তাব তৈরির আহ্বান মোদির
ব্রিকসকে বৈশ্বিক শাসনব্যবস্থা সংস্কারে ১০ প্রস্তাব তৈরির আহ্বান মোদির
মসজিদে পাওয়া অস্ত্র থানায় নিয়ে গেলেন মুয়াজ্জিন, পুলিশ জানালো লুট হয়েছিল
মসজিদে পাওয়া অস্ত্র থানায় নিয়ে গেলেন মুয়াজ্জিন, পুলিশ জানালো লুট হয়েছিল
ছাত্রশক্তির নতুন সভাপতি বাকের, সাধারণ সম্পাদক তাহমিদ
ছাত্রশক্তির নতুন সভাপতি বাকের, সাধারণ সম্পাদক তাহমিদ
সর্বাধিক পঠিত
একসঙ্গে ঝিনুক-কোরাল চাষে সফলতা, অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনা
একসঙ্গে ঝিনুক-কোরাল চাষে সফলতা, অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনা
আমাকে সবসময় টাকা কামানোর মেশিন হিসেবে ব্যবহার করেছে: পপি
আমাকে সবসময় টাকা কামানোর মেশিন হিসেবে ব্যবহার করেছে: পপি
স্বর্ণের দাম বাড়লো, ভরি কত 
স্বর্ণের দাম বাড়লো, ভরি কত 
মেসির রেকর্ড ভাঙলেন আরেক আর্জেন্টাইন
মেসির রেকর্ড ভাঙলেন আরেক আর্জেন্টাইন
দুর্নীতির দায়ে হয়েছিল শাস্তি, এবার ২৫৯৮ কোটি টাকার প্রকল্পের পরিচালক তিনি
দুর্নীতির দায়ে হয়েছিল শাস্তি, এবার ২৫৯৮ কোটি টাকার প্রকল্পের পরিচালক তিনি