জাপানে অনুষ্ঠিত জি-সেভেন সম্মেলনের ঘোষণায় আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে, ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) থেকে যুক্তরাজ্যের বেরিয়ে যাওয়ার (ব্রেক্সিট) ফলে মারাত্মক হুমকির মুখে পড়বে বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি। বৃহস্পতিবার সম্মেলনের চূড়ান্ত ঘোষণায় এ আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।
জি-সেভেন সম্মেলনের বিশ্বের শিল্পোন্নত সাতটি দেশ অংশগ্রহণ করছে। সম্মেলনের চূড়ান্ত ঘোষণায় আশঙ্কা প্রকাশ করে বলা হয়েছে, ইইউ ছেড়ে যুক্তরাজ্যের বেরিয়ে যাওয়ার ফলে বৈশ্বিক বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান খাতে নিম্নমুখীতার প্রবণতা বৃদ্ধি পাবে। ঘোষণায় বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধিকে টিকিয়ে রাখাকে বিশ্বের অর্থনীতি ও নিরাপত্তার জন্য প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
২৩ জুন দেশটির জনগণের গণভোটের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে যুক্তরাজ্য ইউরোপীয় ইউনিয়নে থাকবে কি থাকবে না। যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন ২৮দেশের ইউরোপীয় ইউনিয়নের থাকার পক্ষে প্রচারণা চালিয়ে আসছেন। সম্প্রতি পরিচালিত এক জনমত জরিপে দেখা গেছে, ইইউতে থাকার পক্ষেই যুক্তরাজ্যের মানুষের অবস্থান।
টানা দুদিনের আলোচনা শেষে কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন, ইতালি, জার্মানি, ফ্রান্স ও জাপানের নেতারা বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধিকে সর্বাধিক অগ্রাধিকার হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।
এর আগে বৃহস্পতিবার জাপানের ইসেশিমায় শুরু হয়েছে শিল্পোন্নত সাত দেশের অংশগ্রহণে জি-সেভেন সম্মেলন। উদ্বোধনের পর বিশ্বনেতাদের নিয়ে ইসেশিমায় অবস্থিত দুই হাজার বছরের পুরনো একটি মন্দির পরিদর্শনে যান শিনজো অ্যাবে। এ সময় তারা সেখানে বৃক্ষরোপণ অভিযানেও অংশ নেন। এ মন্দিরটি জাপানের শিন্তো ধর্মাবলম্বীদের পবিত্র তীর্থস্থান।
দিনের শুরুতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা, ব্রিটিশ ডেভিড ক্যামেরন, জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মার্কেল, কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো, ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ফ্রাঁসোয়া ওলাঁদ এবং ইতালির প্রধানমন্ত্রী মাত্তিও রানজিকে স্বাগত জানান জাপানের প্রধানমন্ত্রী।
এই সম্মেলনে বিশ্ব অর্থনীতির পাশাপাশি স্বাস্থ্য, সন্ত্রাসবাদ, দক্ষিণ চীন সাগর ইস্যু, সাইবার নিরাপত্তা, নারীর ক্ষমতায়ন, শরণার্থী সংকট, সমুদ্রসীমার নিরাপত্তার মতো বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করা হবে। সূত্র: বিবিসি।
আরও পড়ুন:
- দেশব্যাপী শ্রমিক ধর্মঘটে উত্তাল ফ্রান্স
- রাশিয়কে ছাড়া বিশ্বকে নেতৃত্ব দিতে পারবে না ইইউ: পুতিন
- হাসিনা হাত বাড়ালেন, এবার পালা মমতার
/এএ/







