আন্তর্জাতিক প্রসাধনী সামগ্রী উৎপাদনকারী জনসন অ্যান্ড জনসনের বেবি পাউডারে ক্যান্সার সৃষ্টিকারক ক্ষতিকর উপাদান অ্যাসবেসটস রয়েছে কিনা তা পরীক্ষা করে দেখবে বাংলাদেশ। শুক্রবার বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই) ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এই তথ্য জানিয়েছে।
শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীনস্ত বিএসটিআই জানায়, এই পরীক্ষা দেশে কিংবা দেশের বাইরে হতে পারে। বিএসটিআই পরিচালক এস.এম ইসহাক আলি রয়টার্সকে বলেন, আমরা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছি। কয়েক দিনের মধ্যেই বাজার থেকে আমরা নমুনা সংগ্রহ করব।
ইসহাক আলি জানান, বেবি পাউডারে অ্যাসবেসটস পাওয়ার আগ পর্যন্ত পণ্যটি বাজারজাত করণ বন্ধ করবে না বাংলাদেশ।
বিএসটিআই’র এই পদক্ষেপের বিষয়ে বাংলাদেশ ও ভারতে জনসন অ্যান্ড জনসন মুখপাত্রদের প্রতিক্রিয়া জানাতে পারেনি রয়টার্স। তবে বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে কোম্পানিটি জানিয়েছে, তাদের উৎপাদিত ট্যালকম পাউডার নিয়মিতই সরবরাহকারী ও স্বতন্ত্র পরীক্ষাগারে পরীক্ষা করা হয় অ্যাসবেসটস মুক্ত কিনা তা নিশ্চিত হওয়ার জন্য। ভারতে উৎপাদিত ট্যালকম পাউডার দেশটিসহ প্রতিবেশী শ্রীলঙ্কা, বাংলাদেশ, নেপাল, ভুটান, মালদ্বীপে বিক্রি হয় এবং তা ভারত সরকারের নিয়ন্ত্রক সংস্থার নির্ধারিত মান নিশ্চিত করে।
গত শুক্রবার রয়টার্স এক প্রতিবেদনে জানায়, বেবি ও ট্যালকম পাউডারে ক্যান্সার সৃষ্টিকারী ক্ষতিকর অ্যাসবেসটসের উপস্থিতির কথা কয়েক দশক ধরেই জানত জনসন অ্যান্ড জনসন। প্রতিষ্ঠানটি এই প্রতিবেদনকে ভুয়া ও একপাক্ষিক বলে আখ্যায়িত করেছে।
জনসন অ্যান্ড জনসনের পণ্য ব্যবহারের কারণে ক্যান্সার হওয়ার দাবি করে সম্প্রতি কোম্পানিটির বিরুদ্ধে কয়েক হাজার অভিযোগ দায়ের করা হয়। এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে অনুসন্ধান চালায় রয়টার্স। আদালতে উত্থাপন করা কোম্পানির বিভিন্ন নথি পর্যালোচনা করে বার্তা সংস্থাটি দেখতে পায়, অন্তত ১৯৭১ সাল থেকে নিজেদের উৎপাদিত পাউডারে অ্যাসবেসটস থাকার কথা জানতো প্রতিষ্ঠানটি। ওই সময় থেকেই শনাক্তযোগ্য পরিমাণ অ্যাসবেসটসের উপস্থিতির বিষয়ে নিশ্চিত ছিল তারা।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং অন্যান্য কর্তৃপক্ষ স্বীকার করে যে, মানব শরীরে অ্যাসবেসটস’র গ্রহনের কোনও নিরাপদ মাত্রা নেই। অ্যাসবেসটস গ্রহণকারী অনেকেরই কখনোই ক্যান্সার হয় না আবার কারও কারও ক্ষেত্রে সামান্য পরিমাণও বহু বছর পরে ক্যান্সার সৃষ্টির জন্য দায়ী। তবে কত সামান্য পরিমাণ তা নির্ধারণ করা হয়নি। জনসন অ্যান্ড জনসনের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরকারীরা অভিযোগ করেছেন, দূষিত ট্যালকম পাউডার ব্যবহার করার সময়ে যে সামান্য পরিমাণ অ্যাসবেসটস তারা গ্রহণ করেছেন তা ক্যান্সার সৃষ্টির জন্য যথেষ্ট।
আদালতে জনসন অ্যান্ড জনসনের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলাগুলোর ফলাফল মিশ্র। গত জুলাইতে ২২ নারীকে ৪৭০ কোটি ডলার ক্ষতিপূরণ দিতে জনসন অ্যান্ড জনসনকে নির্দেশ দেয় আদালত। এই নারীরা দাবি করেছিলেন কোম্পানির ট্যালক পণ্যের কারণে তাদের ডিম্বাশয়ের ক্যান্সার ছড়িয়েছে। কোম্পানির ইতিহাসে সর্বোচ্চ এই ক্ষতিপূরণের আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করেছে জনসন অ্যান্ড জনসন।








