বেলুচিস্তানের ড্রোন হামলায় পাকিস্তান সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা পাকিস্তানের এ অভিযোগকে পাত্তা না দিয়ে বলেছেন, মার্কিন বাহিনী পাকিস্তানের অভ্যন্তরে সন্ত্রাসীদের ধ্বংস করতে এ ধরনের আরও হামলা চালাবে। ওবামার এ ঘোষণা এটাই ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, ওয়াশিংটন পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে ধৈর্য্য হারিয়ে ফেলেছে। যুক্তরাষ্ট্র এখন আফগানিস্তানের ওপর নির্ভর করছে বেশি।
শনিবার আফগান সীমান্তবর্তী পাকিস্তানের প্রত্যন্ত এলাকায় ড্রোন হামলায় তালেবান প্রধান মোল্লা আখতার মনসুর নিহত হয়েছেন। একটি গাড়িতে থাকা মনসুর ও তার এক সহযোগীকে লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্র বেশ কয়েকটি ড্রোন ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। ২০১১ সালে পাকিস্তানের সামরিক শহর অ্যাবোটাবাদে যুক্তরাষ্ট্রের গোপন অভিযানে আল কায়েদার শীর্ষ নেতা ওসামা বিন লাদেন নিহত হওয়ার পর এটিই পাকিস্তানে চালানো যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অভিযান।এ সম্পর্কে আগে থেকে পাকিস্তান সরকারকে কিছুই জানায়নি যুক্তরাষ্ট্র। হামলার পর পাকিস্তানকে জানানো হয়েছে।
কাকতালীয়ভাবে এমন সময় পাকিস্তান না জানিয়ে দেশটির অভ্যন্তরে ড্রোন হামলা এবং ওবামা সতর্কতা জানালেন যখন ইরান, ভারত ও আফগানিস্তান আলোচনায় বসেছে। এছাড়া পাকিস্তানকে পাশ কাটিয়ে বাণিজ্যিক রুট তৈরির জন্য ইরানের ছাবাহারে একটি বন্দর নির্মাণে ত্রিপাক্ষিক চুক্তি স্বাক্ষরও হয়েছে।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি ড্রোন হামলার পর পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করেছেন। হামলার বিষয়ে আফগানিস্তানের সহযোগিতার বিষয়টিও নওয়াজের কাছে তুলে ধরেছেন কেরি। তিনি বলেন, মনসুরকে আমরা নিজেদের জন্য ও আফগান নাগরিকদের জন্য হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করেছিলাম। এ হামলায় বিশ্বকে একটি স্পষ্ট বার্তা দেয় যে, আমরা আফগানিস্তানের সঙ্গে এ বিষয়ে কাজ করে যাব।
পাকিস্তানকে না জানিয়ে দেশটির অভ্যন্তরে ড্রোন হামলার পর যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কোনও দুঃখ প্রকাশ কিংবা ক্ষমাও চাওয়া হয়নি। ভিয়েতনাম সফরে থাকা ওবামা বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রকে লক্ষ্য করে যারা সন্ত্রাসী হামলা চালাচ্ছে বা পরিকল্পনা করছে, সেসব চরমপন্থীদের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে। একই লক্ষ্য নিয়ে আমরা পাকিস্তানের সঙ্গে কাজ করে যাব। কিন্তু বিভিন্ন দেশে হুমকি দেওয়া সন্ত্রাসীদের কোনও স্বর্গরাজ্য করতে দেব না।
এ ড্রোন হামলাকে আফগানিস্তানে উন্নয়ন ও শান্তির আনার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফল হিসেবেও উল্লেখ করেছেন ওবামা। তিনি জানান, মনসুর আফগান সরকারের নেওয়া শান্তি আলোচনাকে বারবার প্রত্যাখ্যান করেছেন। ওবামা বলেন, তালেবানদের উচিত দীর্ঘদিনের সংঘাত ভুলে শান্তি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আফগানিস্তানের পুনর্গঠন কাজে অংশীদার হওয়া। এর ফলে দীর্ঘমেয়াদে আফগানিস্তানে শান্তি ও স্থিতিশীলতা আসবে।
এদিকে, পাকিস্তানের পক্ষ থেকে বিবৃতি দাবি করা হয়েছে, ইরান থেকে ফেরার পথে ড্রোন হামলায় মনসুর নিহত হয়েছেন। তবে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বিষয়টি অস্বীকার করে বলেছেন, আফগানিস্তানে শান্তি ও স্থিতিশীলতার পক্ষে ইতিবাচক যে কোনও উদ্যোগকে স্বাগত জানায় ইরান।
এমন পরিস্থিতিতে ধারণা করা হচ্ছে, আঞ্চলিকভাবে এক ঘরে হয়ে যাচ্ছে পাকিস্তান। এ অঞ্চলে শুধু চীনই পাকিস্তানের বন্ধু থাকছে। সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া।
আরও পড়ুন:
- ১৪০০ কিলোমিটার রাস্তায় যুক্ত হচ্ছে ভারত-থাইল্যান্ড-মিয়ানমার
- কেনিয়ায় নির্বাচন কমিশনের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ, নিহত ৩
- তুরস্ক, কাতার, সৌদি আরব বোমা হামলায় জড়িত: সিরিয়ার দাবি
/এএ/







