মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির ও দলটির প্রার্থী হিলারি ক্লিনটনের প্রচারণা টিমের চেয়ারম্যানের ই-মেইল ফাঁস করে বেশ চাপের সম্মুখীন হয়েছিল বিকল্প ধারার সংবাদমাধ্যম উইকিলিকস। মঙ্গলবার মার্কিন নির্বাচনে ভোট গ্রহণের দিন উইকিলিকসের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান সম্পাদক জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জ এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছেন। বিবৃতিতে মার্কিন নির্বাচন নিয়ে নিজের অবস্থান জানান তিনি।
বিবৃতিতে অ্যাসাঞ্জ বলেন, ‘নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রার্থী হিলারি ক্লিনটন শিবিরের ইমেইল ফাঁসের কারণে গত কয়েকমাস ধরে তিনি এবং উইকিলিকস প্রচুর চাপের সম্মুখীন হয়েছেন। অ্যাসাঞ্জ দাবি করেন, ওবামা প্রশাসনসহ হিলারি শিবির এবং অনেক উদারনৈতিকরাও তাদের চাপ দিয়েছেন।’
কেন উইকিলিকস ডেমোক্র্যাটির পার্টির গোপন ইমেইল ফাঁস করেছে, তার উত্তরও দিয়েছেন অ্যাসাঞ্জ। তিনি বলেন, ‘উইকিলিকস এমন একটি প্রতিষ্ঠান, যা সঠিক তথ্য গ্রহণ ও প্রকাশের অধিকারের নীতির ওপর প্রতিষ্ঠিত। আর ওই প্রতিষ্ঠানের কর্মী ও প্রাতিষ্ঠানিক লক্ষ্য আমার থেকেও অনেক অগ্রসর। আমাদের প্রতিষ্ঠান জনগণের তথ্যপ্রাপ্তির অধিকারকে ধারণ করে। এজন্যই ২০১৬ সালের মার্কিন নির্বাচনে যে প্রার্থীই জয়ী হোন না কেন, মার্কিন জনগণকে সঠিক তথ্য প্রদান করাটাই ছিল আমাদের মূল কাজ।’
বিবৃতিতে অ্যাসাঞ্জ আরও দাবি করেন, ‘মার্কিন নির্বাচন সম্পর্কিত নথি প্রকাশের সঙ্গে সেখানকার জনগণ ওতপ্রোতভাবে জড়িত। লাখ লাখ মার্কিনি উইকিলিকসের ওই প্রকাশনা পড়েছেন।’
অ্যাসাঞ্জ জানান, তাদের কাছে হিলারি শিবির ছাড়া অন্য কারও নির্বাচনি প্রচারণা সম্পর্কিত দলিল-পত্র নেই। তাই তারা অন্যদের প্রচারণার তথ্য প্রকাশ করতে পারেননি।
উইকিলিকসের দায়বদ্ধতা এবং সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার প্রশ্নে অ্যাসাঞ্জ বলেন, ‘অন্যান্য প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের মতোই উইকিলিকস তার অর্থদাতাদের কাছে দায়বদ্ধ। আর সেই অর্থদাতা হলেন আপনারা (সাধারণ মানুষ)। সাধারণ মানুষের অনুদান এবং বই বিক্রিই আমাদের অর্থের উৎস। এর ফলে নিজেদের মূলনীতির ভিত্তিতে স্বতন্ত্র এবং মুক্তভাবে আমরা কাজ করতে পারি। যা অন্যান্য সংবাদমাধ্যমের ক্ষেত্রে সম্ভব হয় না। তবে এর মানে এই নয় যে, আমাদের কাছে সিএনএন, এমএসএনবিসি বা হিলারি শিবিরের মতো বিশাল অর্থের উৎস রয়েছে। আর তা দিয়ে সব সমালোচনার জবাব দেওয়াও সম্ভব নয়। যদি সংবাদমাধ্যম জনগণের কাছে দায়বদ্ধ থাকতো, তাহলে আমরা সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার কথা বলতাম না।’
উইকিলিকস আগামীতেও ক্ষমতাশালীদের বিভিন্ন তথ্য জনগণের সামনে প্রকাশ করবে বলে অ্যাসাঞ্জ ওই বিবৃতিতে জানিয়েছেন।
প্রসঙ্গত, উইকিলিকস এবার মার্কিন নির্বাচনের প্রচারণার শুরু থেকে বিপুল নথি ফাঁস করেছে। ডেমোক্র্যাট প্রার্থী হিলারি ক্লিনটন এবং ডেমোক্র্যাট ন্যাশনাল কনভেনশনের বিপুল পরিমাণ গোপন তথ্য ফাঁস করে তোলপাড় সৃষ্টি করে উইকিলিকস। মার্চ মাসে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী হিলারি ক্লিনটনের ৩০ হাজারেরও বেশি ইমেইল ফাঁস করে উইকিলিকস। জুলাইয়ে ডেমোক্র্যাটিক ন্যাশনাল কমিটির কনভেনশনের আগে কমিটির সদস্যসহ বেশ কয়েকজনের ১৯ হাজারেরও বেশি ইমেইল ফাঁস করে উইকিলিকস। হিলারির প্রতিদ্বন্দ্বী বার্নি স্যান্ডার্সকে দমিয়ে রাখতে কমিটির নেতারা কি ছক কষেছিলেন, তা জানা যায় ওইসব মেইল থেকে। সম্প্রতি হিলারির প্রচারণা শিবিরের উপদেষ্টা জন পোডেস্টার ইমেইলও ফাঁস করা হয়। অক্টোবরে প্রকাশিত হিলারির ১ হাজার ৭০০ ই-মেইল থেকে স্পষ্ট হয়েছে যে তিনি লিবিয়া ও সিরিয়ায় অস্ত্র পাঠানো এবং আইএস ও আলকায়েদার কাছে অস্ত্র বিক্রির ঘটনায় সরাসরি জড়িত ছিলেন। সর্বশেষ গোল্ডম্যান শ্যাস-এ দেওয়া হিলারির ভাষণ প্রকাশ করে উইকিলিকস। আর নির্বাচনের দুই দিন আগে তারা আবারও ডেমোক্র্যাটিক ন্যাশনাল কনভেনশনের ইমেইল ফাঁস করতে শুরু করে।
ডেমোক্র্যাট দল ও যুক্তরাষ্ট্র ডিএনসির ই-মেইল ফাঁসের জন্য রাশিয়াকে দায়ী করে আসছে। এ অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে রাশিয়া ও উইকিলিকস। মার্কিন নির্বাচনকে প্রভাবিত করায় লন্ডন দূতাবাসে অ্যাসাঞ্জের ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে ইকুয়েডর। সূত্র: উইকিলিকস।
/এসএ/এএ/







