এবার যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম পরিসংখ্যান দফতরের প্রধান এরিকা ম্যাকএনটারফারকে বরখাস্তের নির্দেশ দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ট্রাম্পের অভিযোগ, ম্যাকএনটারফার রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে মার্কিন শ্রমবাজারের চাকরির সংখ্যাসংক্রান্ত তথ্য বিকৃত করেছেন। এই অভিযোগের ভিত্তিতেই শুক্রবার (১ জুলাই) তাকে বরখাস্ত করেন ট্রাম্প। যদিও ম্যাকএনটারফারের বিরুদ্ধে করা অভিযোগের কোনও প্রমাণ দেননি তিনি। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এ খবর জানিয়েছে।
ম্যাকএনটারফারকে বরখাস্তের আদেশ এমন সময়ে এসেছে, যখন দুর্বল কর্মসংস্থান রিপোর্ট ট্রাম্পের শুল্ক নীতির ওপর আরও উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। এই পদক্ষেপ ওয়াল স্ট্রিটে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে এবং সরকারি পরিসংখ্যান ব্যবস্থায় হোয়াইট হাউসের হস্তক্ষেপের আশঙ্কা বাড়িয়েছে।
মার্কিন শ্রম পরিসংখ্যান দফতরের তথ্যে দেখা যায়, জুলাইয়ে যুক্তরাষ্ট্রে মাত্র ৭৩ হাজার চাকরি তৈরি হয়েছে, যা প্রত্যাশার চেয়ে অনেক কম। পাশাপাশি মে ও জুন মাসের চাকরির তথ্যে বড় সংশোধনী আনা হয়েছে। সংশোধনীতে মে মাসের চাকরির সংখ্যা ১ লাখ ৪৪ হাজার থেকে কমিয়ে ১৯ হাজারে এবং জুন মাসের চাকরির সংখ্যা ১ লাখ ৪৭ হাজার থেকে কমিয়ে ১৪ হাজারে নামানো হয়েছে।
এই বিশাল সংশোধন নিয়ে অভিযোগ তুলেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। যদিও দেশটির শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরো প্রতিমাসেই চাকরির সংখ্যা সংশোধন করে থাকে।
ট্রাম্প নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ক্ষোভ প্রকাশ করে লেখেন, ‘আমাকে ও রিপাবলিকানদের খারাপ হিসেবে উপস্থাপন করার জন্য এই সংখ্যাগুলো জালিয়াতি করে তৈরি করা হয়েছে।’
ট্রুথ সোশ্যালে পৃথক এক পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেন, ম্যাকএনটারফার ‘ডেমোক্র্যাটদের নির্বাচনে জেতাতে’ চাকরির সংখ্যা ইচ্ছাকৃতভাবে কম দেখিয়েছেন।
ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমাদের এমন লোক দরকার, যাঁদের আমরা বিশ্বাস করতে পারি। ম্যাকএনটারফার বাইডেন প্রশাসনে দায়িত্ব পালনকালে চাকরির সংখ্যা বাড়িয়ে দেখিয়েছিলেন।’
তবে এই অভিযোগের পক্ষে তিনি কোনও প্রমাণ দেননি। বরং অর্থনৈতিক বিশ্লেষক ও কর্মকর্তারা এই সিদ্ধান্তকে ‘গুরুতর হস্তক্ষেপ’ হিসেবে দেখছেন।
ট্রাম্পের আদেশের প্রতিক্রিয়ায় বরখাস্ত হওয়া কমিশনার ম্যাকএনটারফার বলেন, ‘এই দায়িত্ব পালন ছিল আমার জীবনের সবচেয়ে বড় সম্মান। আমি গর্বিত যে আমার সহকর্মীরা জাতির জন্য নিরপেক্ষভাবে কাজ করেছেন।’
ম্যাকএনটারফার দুই দশকের বেশি সময় ধরে সরকারি পরিসংখ্যান বিভাগে কর্মরত ছিলেন এবং ২০২৩ সালে বাইডেন প্রশাসন তাকে কমিশনার পদে মনোনয়ন দিয়েছিল, যা সিনেটে প্রায় সর্বসম্মতিক্রমে অনুমোদিত হয়েছিল।
শ্রম পরিসংখ্যান দপ্তরের তথ্যমতে, জুলাই মাসে যুক্তরাষ্ট্রে বেকারত্বের হার ৪ দশমিক ১ শতাংশ থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪ দশমিক ২ শতাংশে। করোনা মহামারির পর এবারই প্রথম চাকরির বাজার এতটা খারাপ হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বছরের শুরু থেকে ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন নতুন শুল্কনীতি ও বৈদেশিক বাণিজ্যে অনিশ্চয়তা ব্যবসায়ীদের বিনিয়োগ ও নিয়োগ পরিকল্পনায় বড় ধাক্কা দিয়েছে।







