মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শিকাগোতে সেনা মোতায়েনের পরিকল্পনাকে ক্ষমতার অপব্যবহার বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের অঙ্গরাজ্য ইলিনয়ের ডেমোক্র্যাট গভর্নর জেবি প্রিটজকার। শনিবার (২৩ আগস্ট) মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, অপরাধ, গৃহহীন ও অনথিভুক্ত অভিবাসীদের দমনে ট্রাম্প এ উদ্যোগ নিচ্ছেন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এ খবর জানিয়েছে।
এক বিবৃতিতে গভর্নর জেবি প্রিটজকার জানান, ইলিনয়ে ন্যাশনাল গার্ড পাঠানোর মতো কোনও জরুরি অবস্থা নেই। মার্কিন প্রেসিডেন্ট সংকট তৈরি করার চেষ্টা করছেন।
ট্রাম্প এরইমধ্যে ওয়াশিংটন ডিসিতে প্রায় ২ হাজার সেনা মোতায়েন করেছেন। প্রেসিডেন্ট এটিকে মার্কিন শহরগুলোতে অপরাধ দমনের উদ্যোগ হিসেবে উপস্থাপন করছেন। সেখানে স্থানীয় সরকারও বিরোধী ডেমোক্র্যাটদের নেতৃত্বাধীন।
শুক্রবার ট্রাম্প বলেন, তিনি এই নীতি শিকাগো ও নিউ ইয়র্কে বাস্তবায়ন করবেন—এ দুটি বড় শহরও ডেমোক্র্যাটদের নিয়ন্ত্রণাধীন।
শিকাগোর মেয়র ব্র্যান্ডন জনসন ট্রাম্পের মন্তব্যের জবাবে এক বিবৃতিতে জানান, তিনি শিকাগোতে ন্যাশনাল গার্ড মোতায়েন সম্পর্কিত কোনও তথ্য পাননি।
তিনি বলেন, নগর সরকার সেনা মোতায়েন নিয়ে ‘গুরুতর উদ্বেগ’ প্রকাশ করছে এবং প্রেসিডেন্টের এই পদ্ধতিকে ‘অসংগঠিত, অপ্রয়োজনীয় ও অযৌক্তিক’ বলে অভিহিত করছে।
জনসন আরও বলেন, এই ‘অবৈধ মোতায়েন’ স্থানীয় বাসিন্দা ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার মধ্যে উত্তেজনা বাড়াতে পারে এবং অপরাধ কমাতে শহর যে অগ্রগতি করেছে তা হুমকির মুখে ফেলতে পারে।
গত সপ্তাহেই পেন্টাগন ও মার্কিন সেনাবাহিনী বলেছিল যে মোতায়েনকৃত সেনারা অস্ত্র বহন করবে না। তবে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ ওয়াশিংটন ডিসির রাস্তায় টহলরত ন্যাশনাল গার্ড সদস্যদের অস্ত্রধারী হতে নির্দেশ দিয়েছেন। ট্রাম্প প্রশাসন এটিকে শহরের ‘নিয়ন্ত্রণহীন’ অপরাধ মোকাবিলার প্রচেষ্টা হিসেবে উপস্থাপন করছে।
যদিও ট্রাম্প প্রশাসন এই মিশনকে সাফল্য হিসেবে তুলে ধরছে। তবে জরিপে দেখা যাচ্ছে- এটি ডেমোক্র্যাটপ্রধান ওয়াশিংটনের বহু বাসিন্দার কাছে অত্যন্ত অ-জনপ্রিয়।
এখন পর্যন্ত সেনারা আইন প্রয়োগ কার্যক্রমে অংশ নেয়নি। বরং সেনাদের মোতায়েন করা হয়েছে স্থানীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার কাছে। এর মধ্যে রয়েছে ন্যাশনাল মল, ইউনিয়ন স্টেশন—রাজধানীর প্রধান যাত্রীবাহী রেল পরিবহণ কেন্দ্র।
ওয়াশিংটনের মেয়র মুরিয়েল বাউজার এই সিদ্ধান্ত সম্পর্কে কোনও মন্তব্য করেননি।
শুক্রবার হোয়াইট হাউজের ওভাল অফিসে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ট্রাম্প বলেন, এই মিশন ওয়াশিংটনে ‘সম্পূর্ণ নিরাপত্তা’ এনেছে। সেনাদের পরিদর্শনের এক দিন পর ট্রাম্প বলেন, ডিসি ছিল এক নরককুণ্ড কিন্তু এখন এটি নিরাপদ। এটি শিকাগোতেও সম্প্রসারিত হতে পারে। শিকাগোর নেতৃত্ব মাঝে মাঝে ট্রাম্প প্রশাসনের সাথে দ্বন্দ্বে জড়িয়েছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম জানাচ্ছে, আসন্ন সপ্তাহগুলোতে ১৯টি অঙ্গরাজ্যে প্রায় ১,৭০০ ন্যাশনাল গার্ড সদস্য মোতায়েন হতে পারে। এদের মধ্যে টেক্সাসে সবচেয়ে বেশি সেনা থাকবে।
ওয়াশিংটন ডিসির মিশনকে সফল ঘোষণা করলেও ট্রাম্প বলেন, সেনা মোতায়েনের ৩০ দিনের সময়সীমা শেষ হলে জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করার বিষয়টি বিবেচনা করছেন তিনি।
এছাড়া ট্রাম্প বলেছেন তিনি শহরকে সুন্দর করার জন্য কংগ্রেসের কাছে ২ বিলিয়ন ডলার চাইবেন। এ বছরের শুরুর দিকে রিপাবলিকান-নিয়ন্ত্রিত কংগ্রেস একটি আইন পাস করে ওয়াশিংটনের বাজেট মোট ১.১ বিলিয়ন ডলার কমিয়েছিল।
তবে স্থানীয় কর্মকর্তারা শহরে ফেডারেল হস্তক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।








