মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিতর্কিত এইচ-১বি ভিসার ১ লাখ ডলার বা এক লক্ষ মার্কিন ডলারের ফি দ্বিতীয়বারের মতো স্থগিত করেছেন দেশটির এক ফেডারেল বিচারক। উচ্চ দক্ষতার বিদেশি কর্মীদের জন্য নির্ধারিত এই ফি নিয়ে আইনি লড়াইয়ের মধ্যে এই রায় এলো। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।
ক্যালিফোর্নিয়ার অকল্যান্ডের মার্কিন জেলা জজ হেউড গিলিয়াম রায়ে বলেছেন, ট্রাম্পের এই ফি কার্যকরের আগে প্রয়োজনীয় নিয়মকানুন তৈরির প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে ব্যর্থ হয়েছে ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস এবং স্টেট ডিপার্টমেন্ট। ডেমোক্র্যাট দলীয় সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার নিয়োগ করা বিচারক গিলিয়াম, ইউনিয়ন, নিয়োগকর্তা এবং অলাভজনক প্রতিষ্ঠানের একটি জোটের করা আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এই আদেশ দেন। অক্টোবরে দায়ের করা মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত এই ফি কার্যকরের ওপর নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে।
এর আগে জুনে বোস্টনের একজন ফেডারেল বিচারক ২০টি অঙ্গরাজ্যের করা আলাদা এক মামলায় এই ফি সাময়িকভাবে স্থগিত করেছিলেন। এরপর জুলাই মাসে বোস্টনভিত্তিক একটি আপিল আদালত সেই সিদ্ধান্ত বহাল রাখে।
এদিকে গত আগস্টে ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি প্রায় ১ লাখ ৩ হাজার ডলারের একটি স্থায়ী ফি চালুর উদ্যোগ নিয়েছে, যা চূড়ান্ত হলে আদালতেও চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে। তবে ট্রাম্প কর্তৃক ধার্য করা ফি নিয়ে চলা মামলার আইনি বিষয়ের চেয়ে এটি ভিন্ন হবে, কারণ এসব মামলায় মূলত প্রেসিডেন্ট একচ্ছত্রভাবে এমন ফি নির্ধারণ করতে পারেন কি না, সেই ক্ষমতা নিয়েই প্রশ্ন তোলা হয়েছে।
মূলত ১ লাখ ডলারের এই ফি ২১ সেপ্টেম্বর শেষ হওয়ার কথা থাকলেও রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সম্প্রতি এর মেয়াদ আরও এক বছর বাড়িয়ে দেন। হোয়াইট হাউস তাৎক্ষণিকভাবে এ বিষয়ে কোনও মন্তব্য করেনি।
মামলার বাদীদের আইনি প্রতিনিধিত্বকারী বামপন্থী দল 'ডেমোক্রেসি ফরোয়ার্ড' এই রায়কে স্বাগত জানিয়েছে। গ্রুপটির আইনজীবী স্টিভ ব্রেসলার এক বিবৃতিতে বলেন, আজকের এই সিদ্ধান্ত এমন একটি ব্যবস্থাকে সুরক্ষা দিয়েছে যা রাতারাতি বিশৃঙ্খলার মধ্যে পড়ে গিয়েছিল।
যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় ব্যবসায়িক লবিং গ্রুপ 'ইউএস চেম্বার অব কমার্স' এই ফিকে চ্যালেঞ্জ করে তৃতীয় আরেকটি মামলা দায়ের করেছে। ট্রাম্পের ফি নির্ধারণের কোনও এখতিয়ার নেই- এমন দাবি খারিজ করে দেওয়া বিচারকের রায়ের বিরুদ্ধে চেম্বারটি আপিল করেছে।
এইচ-১বি কর্মসূচির মাধ্যমে মার্কিন নিয়োগকর্তারা বিশেষায়িত ক্ষেত্রে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত বিদেশি কর্মীদের নিয়োগ করতে পারেন। বিশেষ করে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো এই ভিসাধারী কর্মীদের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। এই কর্মসূচির আওতায় প্রতি বছর ৬৫ হাজার ভিসা দেওয়া হয় এবং উন্নত ডিগ্রিসম্পন্ন কর্মীদের জন্য আরও ২০ হাজার ভিসা থাকে, যা তিন থেকে ছয় বছরের জন্য অনুমোদিত হয়।
ট্রাম্পের নির্দেশে এইচ-১বি ভিসা পাওয়ার খরচ ব্যাপকভাবে বেড়ে গেছে, যা বিভিন্ন বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে সাধারণত ২ হাজার থেকে ৫ হাজার ডলারের মধ্যে হয়ে থাকে। এই ফি আরোপের সময় ট্রাম্প ফেডারেল অভিবাসন আইনের ক্ষমতার অপব্যবহার করে এমন কিছু বিদেশি নাগরিকের প্রবেশ সীমাবদ্ধ করার কথা বলেন যা মার্কিন স্বার্থের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। তিনি দাবি করেন যে ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলো এইচ-১বি কর্মসূচির অপব্যবহার করছে এবং সস্তা বিদেশি শ্রমিক দিয়ে আমেরিকান কর্মীদের প্রতিস্থাপন করছে।
এছাড়া ট্রাম্প প্রশাসন এইচ-১বি আবেদনকারীদের কঠোর যাচাই-বাছাই এবং উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন ও বেশি বেতনভোগী কর্মীদের অগ্রাধিকার দেওয়ার জন্য একটি নতুন ভিসা প্রক্রিয়া প্রস্তাব করেছে।
ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে ‘বের করে দিলেন’ রুবিও
প্রাণ বাঁচিয়ে ‘হিরো’ ভারতীয় পাইলট, প্রশংসায় ভাসালেন নেতানিয়াহু-মোদি