ঢাকায় ৯৪ শতাংশই কিউলেক্স মশা

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
২৭ এপ্রিল ২০২২, ১৮:৫৫ আপডেট : ২৭ এপ্রিল ২০২২, ১৮:৫৫

রাজধানী ঢাকায় ৯৪ শতাংশের বেশি কিউলেক্স মশা, বাকি পাঁচ শতাংশের বেশি মশা এডিস প্রজাতির।

বুধবার (২৭ এপ্রিল) স্বাস্থ্য অধিদফতর এক সংবাদ সম্মেলনে প্রাক-মৌসুম জরিপের ফলাফলে এ তথ্য জানায়।

অধিদফতরের জাতীয় ম্যালেরিয়া নির্মূল ও এডিসবাহিত রোগ নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির আওতায় পরিচালিত এক জরিপে এই তথ্য উঠে এসেছে। সেখানে জানানো হয়, গত ২৩ মার্চ থেকে ৩ এপ্রিল পর্যন্ত ১০ দিন ধরে প্রাক-মৌসুম জরিপ চালানো হয়েছে ঢাকার ৯৮টি ওয়ার্ডের ১১০টি স্থানে।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকায় ৪০টি এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় ৪০টি, মোট ৮০টি স্থানে পূর্ণাঙ্গ মশার ধরার ফাঁদ পাতা হয়।

অধিদফতর বলছে, এসব ফাঁদে দুই হাজার ৮১৪টি মশা ধরা পড়ে। এরমধ্যে দুই হাজার ৬৭১টি কিউলেক্স ও অন্যান্য প্রজাতির মশা। এডিস মশা পাওয়া যায় ১৪৩টি।

ফাঁদে যেসব মশা ধরা পড়েছে তার মধ্যে ৯৪ দশমিক ৯ শতাংশ কিউলেক্স মশা। বাকি পাঁচ দশমিক এক শতাংশ এডিস মশা।

জরিপের তথ্য অনুযায়ী, ডিএসসিসি এলাকায় ১০৬টি এবং ডিএনসিসি এলাকায় ৩৭টি এডিস মশা পাওয়া গেছে। উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকায় আবার কিউলেক্স মশার ঘনত্ব বেশি। উত্তরে ১৫৪২টি এবং দক্ষিণে ১১২৯টি কিউলেক্স মশা পাওয়া গেছে।

এডিস মশা প্রাণঘাতী ডেঙ্গু রোগের জন্য দায়ী। আর কিউলেক্স মশা ফাইলেরিয়া, ম্যালেরিয়ার মতো রোগের জন্য দায়ী।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের জরিপ অনুযায়ী, দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় এডিস মশার ঘনত্বের পরিমাপক ব্রুটো ইনডেক্স কিছুটা বেশি।

ডিএসসিসির ৪৫ নম্বর ওয়ার্ডে ব্রুটো ইনডেক্স পাওয়া গেছে ২৩ দশমিক ৩৩ শতাংশ। এছাড়া ৩৮ ও ৪০ নম্বর ওয়ার্ডে এডিস মশার ঘনত্ব ২০ শতাংশ।

মশার ঘনত্ব ২০ শতাংশের বেশি হলে ঝুঁকিপূর্ণ উপস্থিতি বিবেচনা করা হয়।

ডিএসসিসির ২১, ১৫, ২৩, ১৩ নম্বর ওয়ার্ডে ব্রুটো ইনডেক্স ১০ শতাংশের বেশি এবং ৮, ১৪, ২০, ৩৫, ৪৬ এবং ৫১ নম্বর ওয়ার্ডে ব্রুটো ইনডেক্স পাওয়া গেছে ১০ শতাংশ।

ডিএনসিসি’র ২০, ৩২ এবং ৬ নম্বর ওয়ার্ডে ব্রুটো ইনডেক্স পাওয়া গেছে ১০ থেকে ১৯ শতাংশের মধ্যে। এছাড়া ১০, ১৩, ১৬,২৭, ৩০ এবং ৩৫ নম্বর ওয়ার্ডে ব্রুটো ইনডেক্স ১০ শতাংশ পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদফতর।

রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার পরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. নাজমুল ইসলাম অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন।

অধ্যাপক ডা. নাজমুল ইসলাম বলেন, ২০১৯ সালে দেশে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে তা এবার হতে দেওয়া যাবে না। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা থাকলে মশার বিস্তার রোধ করা সম্ভব হবে।

“এজন্য মশার প্রজননক্ষেত্র তৈরি হতে দেওয়া যাবে না। মশা যদি ডিম না পাড়ে তাহলে ডেঙ্গু ছড়িয়ে যাওয়ার আশঙ্কা এমনিতেই কমে আসবে। আমরা এই জায়গাটায় সবাইকে নিয়ে কাজ করতে চাই।”

এ সময় স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আহমেদুল কবীর, অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার লাইন ডিরেক্টর অধ্যাপক ডা. রোবেদ আমিন, অধিদফতরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার সাবেক পরিচালক ডা. বে-নজীর আহমেদ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. কবিরুল বাশার, আইইডিসিআরের পরিচালক ডা. তাহমিনা শিরিনসহ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

/জেএ/এমএস/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
রাজধানীতে কার্যক্রম নিষিদ্ধ যুবলীগের ৫ নেতাকর্মী গ্রেফতার 
রাজধানীতে কার্যক্রম নিষিদ্ধ যুবলীগের ৫ নেতাকর্মী গ্রেফতার 
বিএনপি থেকে বহিষ্কার পল্লবীর আলোচিত মামুন 
বিএনপি থেকে বহিষ্কার পল্লবীর আলোচিত মামুন 
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঁচ শিক্ষককে প্রাণনাশের হুমকি, চাঁদা দাবি
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঁচ শিক্ষককে প্রাণনাশের হুমকি, চাঁদা দাবি
বাজারে কাটছাঁট-ক্রেডিট কার্ড-ঋণ: বাড়তি ব্যয় সামলাতে যত কৌশল করছে মানুষ
বাজারে কাটছাঁট-ক্রেডিট কার্ড-ঋণ: বাড়তি ব্যয় সামলাতে যত কৌশল করছে মানুষ
সর্বাধিক পঠিত
বাংলাদেশে ইউরেনিয়াম আনতে আকাশসীমার অনুমতি কেন দিচ্ছে না, জানালো পাকিস্তান
বাংলাদেশে ইউরেনিয়াম আনতে আকাশসীমার অনুমতি কেন দিচ্ছে না, জানালো পাকিস্তান
চাঁদপুর-বরিশালের ইলিশের নামে কোথাকার মাছ খাচ্ছেন জানেন?
চাঁদপুর-বরিশালের ইলিশের নামে কোথাকার মাছ খাচ্ছেন জানেন?
শহীদ আবু সাঈদের ঘর ও কবরস্থান উন্নয়নে এক কোটি টাকা দেওয়ার ঘোষণা
শহীদ আবু সাঈদের ঘর ও কবরস্থান উন্নয়নে এক কোটি টাকা দেওয়ার ঘোষণা
প্রায় দেড় কোটি রুপি জরিমানা দিয়ে দায়মুক্তি পেলো আদানি গ্রুপ
প্রায় দেড় কোটি রুপি জরিমানা দিয়ে দায়মুক্তি পেলো আদানি গ্রুপ
ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনে বিএনপির দুই নেতারই মনোনয়নপত্র বৈধ
ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনে বিএনপির দুই নেতারই মনোনয়নপত্র বৈধ