মাসিক ভাতা বৃদ্ধি, বকেয়া ভাতা পরিশোধ এবং ভাতা নিয়মিত দেওয়ার দাবিতে আন্দোলনে নেমেছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) ও প্রতিষ্ঠানটির অধীন পোস্ট গ্র্যাজুয়েট প্রাইভেট প্রশিক্ষণার্থী পাঁচ শতাধিক চিকিৎসক।
মঙ্গলবার (১৩ জুন) দুপুর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘সি’ ব্লকের সামনে জড়ো হতে থাকেন চিকিৎসকরা। এরপর বেলা ১২টার দিকে বিএসএমএমইউ’র উপাচার্যের কার্যালয় ভবনের নিচে বিক্ষোভ শুরু করেন তারা।
এ সময় চিকিৎসকরা ৫০ হাজার টাকা ভাতা দাবিসহ তিন দফা দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন। তারা বলেন, বর্তমান বাজার মূল্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে মাসিক ভাতা বৃদ্ধি করতে হবে।
চিকিৎসকরা জানান, ২০১৯-২০ সেশন থেকে নন-রেসিডেন্ট কোর্সের ছাত্রছাত্রীদের প্রতি মাসে ২০ হাজার টাকা করে মাসিক ভাতা দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। একই সেশনের শিক্ষার্থীরা সেই ভাতা নিয়মিত পেলেও এর পরের বছর থেকে তা অনিয়মিত হয়ে যায়। ২০২২-২৩ সেশনের নন-রেসিডেন্ট ডাক্তাররা ১২ মাসের মধ্যে মাত্র ৩ মাসের ভাতা পেয়েছেন, বাকি ৯ মাসের ভাতা বকেয়া রয়েছে। কোর্সে থাকাকালীন অন্য কোনও চাকরি, ডিউটি, চেম্বার ইত্যাদি করার অনুমতি না থাকায় এই কোর্সের ডাক্তাররা মানবেতর জীবনযাপন করছেন। একেবারেই শূন্য হাতে ধার-কর্জ করে দিনাতিপাত করতে হচ্ছে বলে দাবি করেন দেশসেরা মেধাবী এই চিকিৎসকরা।
স্লোগানের একপর্যায়ে বিএসএমএমইউ উপাচার্য অধ্যাপক ডা. শারফুদ্দিন আহমেদের কার্যালয় অবরুদ্ধ করে রাখেন আন্দোলনকারীরা। কার্যালয়ের ভেতরে তখন ভিসি অবস্থান করছিলেন। এ সময় উপাচার্যের পক্ষ থেকে চিকিৎসকদের শান্ত করার চেষ্টা করা হলে সরাসরি তারা উপাচার্যের সঙ্গে কথা বলতে চান। দাবি আদায় না হলে তারা সেখানে অবস্থানের ঘোষণা দেন। একপর্যায়ে পুলিশ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তায় নিয়োজিত আনসার সদস্যদের সঙ্গে হাতাহাতি হয় চিকিৎসকদের।
পরে বিএসএমএমইউ’র উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ছাত্রছাত্রীদের ভাতা বৃদ্ধির দাবির পরিপ্রেক্ষিতে আগামী ৭ দিনের মধ্যে সরকারের সঙ্গে আলোচনা করার আশ্বাস দেন। আশ্বাসের পর আন্দোলনকারীরা ভিসি কার্যালয়ে বৈঠকে বসেন।
বৈঠকে আন্দোলনকারীদের প্রতিনিধিরা উপাচার্যকে বলেন, রমজান মাসে আমাদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে আপনি বলেছিলেন ১৫ দিনের মধ্যে দাবি পূরণ করা হবে। আমরা আপনার প্রতি সম্মান রেখে কাজে ফিরে গিয়েছি। আমরা কিন্তু এখন বিক্ষোভ করছি, চিকিৎসা বন্ধ করে আন্দোলন করছি না। আমরা ক্লাসে, রোগীর পাশে থাকতে চাই। আর্থিক অনটনের কারণে যে মানসিক পরিস্থিতি, তা নিয়ে রোগীর পাশে থাকা যায় না। আমাদের ধৈর্য ধরতে বলেছিলেন, আমরা ধরেছি এতদিন।
এ সময় উপাচার্য আন্দোলনকারীদের উদ্দেশে বলেন, ‘নন-রেসিডেন্ট এবং রেসিডেন্টদের ভাতা দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী। তার প্রতি তোমাদের কৃতজ্ঞ থাকা উচিত। আমার এখানে যারাই পড়তে আসছে, তাদের চাকরি দেওয়া হয়েছে। আমি টাকা কালকে পেলে কালকেই দিয়ে দেবো। ৩৬ কোটি টাকা লাগে নন-রেসিডেন্টদের ভাতা দিতে। আমি তো পাইনি টাকা। আমি মন্ত্রী কিংবা সচিবের কাছে যাবো তোমাদের দাবি নিয়ে।’
উপাচার্য বলেন, ‘আমি তো টাকা দেই না, তাহলে আমাকে অবরুদ্ধ কেন। আমি তোমাদের দুই জনকে নিয়ে মন্ত্রীর কিংবা সচিবের কাছে যাবো আশ্বাস দিচ্ছি। তোমরা লেখাপড়ায় ফিরে যাও।’
বৈঠকের পর আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানান, বেঁধে দেওয়া সময়ের মধ্যে দাবি আদায় না হলে আমরা কর্মবিরতিতে যাবো।









