বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যমতে, যারা আত্মহত্যা করে, তাদের মধ্যে ৮০ শতাংশই মানসিক রোগের কারণে। তাদের ভেতরে আবার বেশিরভাগের রয়েছে ডিপ্রেসিভ ডিজঅর্ডার, বাকিদের মধ্যে সিজোফ্রেনিয়া, পারসোনালিটি ডিজঅর্ডার আর রয়েছে মাদকাসক্ত। তাই চেষ্টা করলেই আত্মহত্যা ঠেকানো যায় এবং আত্মহত্যা প্রতিরোধযোগ্য। আর এ বিষয়ে এবার কাজ করবে সোসাইটি ফর সুইসাইড প্রিভেনশন বাংলাদেশ (এসএসপিবি)। এসএসপিবির কার্যনিবার্হী কমিটির প্রথম আলোচনা সভায় এ কথা বলেন কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ডা. মো. ওয়াজিউল আলম চৌধুরী।
সোমবার (১৭ জুলাই) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়।
সম্প্রতি অধ্যাপক ডা. মো. ওয়াজিউল আলম চৌধুরীকে সভাপতি ও ডা. মো. তারিকুল আলমকে সাধারণ সম্পাদক করে সোসাইটি ফর সুইসাইড প্রিভেনশন বাংলাদেশ (এসএসপিবি) এর ২০২৩-২৪ সালের কার্যনিবাহী কমিটি গঠন করা হয়।
রবিবার (১৬ জুলাই) এই কমিটির প্রথম আলোচনা সভায় এসএসপিবির উদ্দেশ্য, লক্ষ্য, কর্মপরিকল্পনা এবং বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন মানসিক রোগ বিষেশজ্ঞ চিকিৎসকেরা।
উল্লেখ্য, ২০১৬ সালে ইন্টারন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন ফর সুইসাইড প্রিভেনশন (এআইএসপি) এর তালিকাভুক্ত হয় সোসাইটি ফর সুইসাইড প্রিভেনশন বাংলাদেশ (এসএসপিবি)।
কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ডা. মো. ওয়াজিউল আলম চৌধুরী বলেন, আত্মহত্যা প্রতিরোধযোগ্য। প্রতিরোধযোগ্য হওয়ার পরেও যদি আমরা প্রতিরোধের চেষ্টা না করি তাহলে সেটা হবে অন্যায়, আমাদের মোরাল অবলিগেশন এটা।
তিনি বলেন, আমাদের সমাজে যিনি একবার আত্মহত্যার চেষ্টা করে বেঁচে যান, তিনি আর আত্মহত্যা করেন না-এটা একটা মিথ এবং সমাজের অন্যতম একটি ভুল ধারণা। এই ভুল ধারণাও আমাদেরকে দূর করতে হবে। আমরা চেষ্টা করবো সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে আত্মহত্যা প্রতিরোধ বিষয়ে সচেতনতা তৈরি করতে। মানুষ আত্মহত্যা করে মারা যাবে কেন? যেহেতু এটি একটি প্রতিরোধযোগ্য মৃত্যু-এ নিয়েই এই কমিটি কাজ করবে দেশজুড়ে। এ জন্য পারিবারিক, প্রাতিষ্ঠানিকসহ যেখানে যেখানে কাজ করা দরকার, আমরা সেখানে সেভাবেই কাজ করবো।
এই মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞ আরও বলেন, আমাদের মানুষের কাছে যেতে হবে, মানুষকে বলতে হবে, বোঝাতে হবে। তাহলে ধীরে ধীরে আত্মহত্যা প্রতিরোধের দিকে এগিয়ে যাওয়া যাবে।









