ছয় নবজাতকের মৃত্যুর জেরে রাজধানীর আদ-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল করেছে স্বাস্থ্য অধিদফতর। হাসপাতালটিতে ভর্তি থাকা রোগীদের জরুরি ভিত্তিতে ঢাকার সরকারি হাসপাতালগুলোতে রেফার করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। রেফারকৃত রোগীদের জরুরি ভিত্তিতে চিকিৎসা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদফতর।
শুক্রবার (১২ জুন) স্বাস্থ্য অধিদফতর থেকে এক চিঠি ঢাকার সরকারি মেডিক্যাল হাসপাতালগুলোতে পাঠানো হয়।
হাসপাতালগুলো হচ্ছে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল, স্যার সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, মুগদা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল এবং বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউট।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার (১১ জুন) আদ-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল করে হাসপাতালের স্বত্বাধিকারীর কাছে চিঠি পাঠানো হয় বলে জানায় স্বাস্থ্য অধিদফতর। সেদিন অধিদফতর জানায়, কারণ দর্শানোর নোটিশের জবাব সন্তোষজনক না হওয়ায় ‘‘মেডিক্যাল প্র্যাকটিস এবং প্রাইভেট ক্লিনিক এবং ল্যাবরেটরিজ (রেগুলেশন) অধ্যাদেশ, ১৯৮২-এর ১১(২) (খ) ধারা অনুযায়ী আপনার হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল করা হলো।’’
স্বাস্থ্য অধিদফতরের চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, ডা. শেখ মহিউদ্দিনের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান আদ্-দ্বীন হাসপাতাল, ২ বড় মগবাজার, ঢাকায় গত ২৭ মে ছয় নবজাতকের আকস্মিক মৃত্যুর ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে মেডিক্যাল প্র্যাকটিস এবং প্রাইভেট ক্লিনিক এবং ল্যাবরেটরিজ (রেগুলেশন) অধ্যাদেশ, ১৯৮২-এর ১১(১) ধারা অনুযায়ী গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ৪ জুন “লাইসেন্স কেন বাতিল করা হবে না” বলে ৭ জুনের মধ্যে জবাব প্রদানের জন্য নির্দেশ প্রদান করা হয়। সেই পরিপ্রেক্ষিতে গত ৭ জুন আপনার প্রতিষ্ঠান কর্তৃক প্রেরিত চিঠি মোতাবেক কারণ দর্শানোর সময় বৃদ্ধির জন্য আবেদন করলে ৯ জুন পর্যন্ত সময়সীমা বৃদ্ধি করা হয়।
এতে বলা হয়, পরবর্তীকালে ৯ জুন আপনার প্রতিষ্ঠান কর্তৃক পাঠানো চিঠি মোতাবেক যে জবাব ও ব্যাখ্যা প্রদান করা হয়, তা কর্তৃপক্ষের কাছে সন্তোষজনক না হওয়ায় মেডিক্যাল প্র্যাকটিস এবং প্রাইভেট ক্লিনিক এবং ল্যাবরেটরিজ (রেগুলেশন) অধ্যাদেশ, ১৯৮২-এর ১১(২)(খ) ধারা অনুযায়ী আপনার হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল করা হলো।
আইন বলছে, উক্ত অধ্যাদেশের ১২ ধারা অনুযায়ী লাইসেন্স বাতিলের পরবর্তী ৩০ দিনের মধ্যে বাতিল আদেশের বিরুদ্ধে সরকারের কাছে আপিল বা পুনর্বিবেচনা করার আইনি সুযোগ রয়েছে।








