X
রবিবার, ২৭ নভেম্বর ২০২২
১২ অগ্রহায়ণ ১৪২৯
সালাউদ্দিনের স্মৃতিতে

কেমন ছিল মুক্তিযুদ্ধের সেই দিনগুলো

তানজীম আহমেদ
২১ জুলাই ২০২১, ১৮:০১আপডেট : ২১ জুলাই ২০২১, ২৩:০৬

মুক্তিযুদ্ধে অস্ত্র হাতে পাক হানাদার বাহিনীদের বিরুদ্ধে লড়াই করেছে একদল বীর বাঙালি। আরেকটি দল ছিল, যারা অস্ত্র হাতে যুদ্ধ না করলেও মাঠে ফুটবল খেলে দেশের স্বাধীনতার জন্য লড়াই-সংগ্রাম করেছে। যারা স্বাধীন বাংলা ফুটবল দল নামেই পরিচিত। ভারতের বিভিন্ন শহরে ফুটবল খেলে জনমত গড়ে অর্থ সংগ্রহ করেছে দলটি। যুদ্ধের সময় জাকারিয়া পিন্টু-কাজী সালাউদ্দিন-নওশেরুজ্জামানদের কম ত্যাগ স্বীকার করতে হয়নি। কোনও সময় আধপেটা থাকতে হয়েছে, কখনোবা ঘুমানোর জায়গাও ঠিকমতো জোটেনি!

তারপরও তাদের দমানো যায়নি। শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে গেছেন মাতৃভূমির জন্য। আর সেই দলটির সবচেয়ে কনিষ্ঠ সদস্য ছিলেন কাজী সালাউদ্দিন। মাত্র সাড়ে ১৬ বছর বয়সে দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে যোগ দিয়েছিলেন অন্যদের সঙ্গে। স্বাধীন না হওয়া পর্যন্ত দলটির সঙ্গে থেকে বিভিন্ন শহরে প্রদর্শনী ম্যাচ খেলেছেন। লাল-সবুজ পতাকার জন্য গড়েছেন জনমত।

দেশের জন্য ফুটবল খেলে লড়াই করতে যাচ্ছেন, তাই ধরেই নিয়েছিলেন সামনে বিপদসংকুল রাস্তা অপেক্ষায়মান। আর পরতে পরতে সেই বাধা অতিক্রমও করে গেছেন।

সেই দিনগুলো মনে পড়লে এখনও নস্টালজিক হয়ে পড়েন দেশের ফুটবলের জীবন্ত কিংবদন্তি কাজী সালাউদ্দিন, ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ডাকে স্বাধীনতা সংগ্রামে অংশ নিই। পেছনে ফিরে আর তাকাইনি। জানি এই লড়াই-সংগ্রামে কঠিন পথ পাড়ি দিতে হবে। তারপরও পিছপা হইনি। লক্ষ্য ছিল, যেভাবেই হোক দেশকে স্বাধীন করতে সরাসরি ভূমিকা রাখতে হবে। সেটাই করার চেষ্টা করেছি।’

সাড়ে ৮ মাসব্যাপী ফুটবল খেলে নানান সময় বিভিন্ন ধরনের কষ্ট সহ্য করতে হয়েছে। সালাউদ্দিন সেই স্মৃতি রোমন্থন করলেন এভাবে, ‘আমাদের এমনও দিন গেছে আধপেটা খেয়ে থাকতে হয়েছে। দেখা গেছে খাবার সংকট। তাই আমরা বেশি সময় ধরে অনুশীলন করে গেছি। যেন একবেলা না খেতে হয়। এমন সময় কেটেছে আমাদের একাধিক দিন। তারপরও আমরা ভেঙে পড়িনি।’

খাবারের পাশাপাশি আবাসন সংকটও ছিল তীব্র। একটা বাসার মধ্যে পুরো দল থেকেছে। সেখানেই রান্না-বান্না। বলতে গেলে দুর্বিষহ জীবন কেটেছে। সালাউদ্দিনের ভাষায়, ‘এক বাসাতে যদি ৩০ জন থাকে, ঘুমায়, বাথরুম একটি, তাহলে বুঝে নিন কতটুকু কষ্ট সহ্য করতে হয়েছে। তারপরও আমরা মুখ বুঝে মেনে নিয়েছি। কারণ তো সেই একটাই— দেশকে যে করেই হোক স্বাধীন করতে হবে।’

একপর্যায়ে দেশ স্বাধীন হলো। যে যার মতো দেশে ফিরে এলো। কলকাতা থেকে তখন অন্যদের মতো অনেক কষ্টে ঢাকায় এসেছিলেন সালাউদ্দিন। ধানমন্ডির বাসায় তখন তাকে দেখে অন্যরা চিনতেই পারেনি! সেই সাড়ে ১৬ বছরের তরুণ সালাউদ্দিন এখন সাফ ও বাফুফের সভাপতি হিসেবে এক যুগের বেশি সময় ধরে আছেন। মাঝে স্বাধীনতার পরে তারকা খেলোয়াড় কিংবা কোচ হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেছেন। বাংলাদেশের প্রথম সুপারস্টার বললে তার নামই সবার আগে চলে আসে।

তবে সেজন্য স্বাধীন দেশকেই সামনে আনছেন সবার আগে, ‘দেশ স্বাধীন হয়েছে বলেই আমি আজ এই পর্যন্ত এসেছি। তা না হলে তো আসতে পারতাম না।’

 

 

/টিএ/কেআর/
আগুন-লাঠি নিয়ে খেলতে এলেই সমুচিত জবাব: ওবায়দুল কাদের
আগুন-লাঠি নিয়ে খেলতে এলেই সমুচিত জবাব: ওবায়দুল কাদের
সেনাবাহিনীর অবস্থা নিয়ে মুখ খুললেন জাতীয়তাবাদী রুশ রাজনীতিক
সেনাবাহিনীর অবস্থা নিয়ে মুখ খুললেন জাতীয়তাবাদী রুশ রাজনীতিক
চট্টগ্রামে ইয়াবাসহ যুবক গ্রেফতার
চট্টগ্রামে ইয়াবাসহ যুবক গ্রেফতার
মেসিকে পরীর চুমু, চঞ্চলের সংলাপ ‘বোঝনাই ব্যাপারটা’!
আর্জেন্টিনার জয়ে ফেরামেসিকে পরীর চুমু, চঞ্চলের সংলাপ ‘বোঝনাই ব্যাপারটা’!
সর্বাধিক পঠিত
পোল্যান্ডের জয়ে আরও চাপে মেসিরা
পোল্যান্ডের জয়ে আরও চাপে মেসিরা
ইউক্রেন ইস্যুতে অবস্থান স্পষ্ট করলো ন্যাটো
ইউক্রেন ইস্যুতে অবস্থান স্পষ্ট করলো ন্যাটো
আবারও নাসিমের অনুসারীদের পেটালো বিএনপির সমর্থকরা
আবারও নাসিমের অনুসারীদের পেটালো বিএনপির সমর্থকরা
মেসি-ফের্নান্দেজের গোলে আর্জেন্টিনার জয়
মেসি-ফের্নান্দেজের গোলে আর্জেন্টিনার জয়
ম্যাজিস্ট্রেটের মামলায় কারাগারে স্বামী
ম্যাজিস্ট্রেটের মামলায় কারাগারে স্বামী