৫০ বছরেও ভাগ্য বদলায়নি বীর মুক্তিযোদ্ধার

দুলাল আবদুল্লাহ, রাজশাহী
০৩ আগস্ট ২০২১, ০৯:১৭আপডেট : ০৩ আগস্ট ২০২১, ০৯:৪৭

যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছেন। বাংলাদেশ আজ স্বল্পোন্নত থেকে উন্নয়নশীল রাষ্ট্রে উন্নীত হতে পেরেছে। একসময় দারিদ্র্য-দুর্ভিক্ষে জর্জরিত বাংলাদেশ আজ বিশ্বজয়ের নবতর অভিযাত্রায় এগিয়ে চলছে। কিন্তু স্বাধীনতার ৫০ বছরেও ভাগ্য বদলাতে পারেননি রাজশাহীর পবা উপজেলার হুজরিপাড়া ইউনিয়নের শরিষা কুড়ি কলেজপাড়া এলাকার হতদরিদ্র বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রহমান। মাসে সরকারিভাবে পাওয়া মুক্তিযোদ্ধা ভাতা থেকে কিছু টাকা বাঁচিয়ে পাঁচ শতক জায়গার ওপর টিনের ঘর বানিয়ে বসবাস করছেন দেশের এই সূর্য সন্তান।

জরাজীর্ণ ঘরে মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রহমানের বসবাস জানা গেছে, বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রহমানের তিন ছেলে ও তিন মেয়ে। তিন মেয়েকে বিয়ে দিয়েছেন। বড় ছেলে মিনারুল ইসলাম আলাদা সংসার করছেন। বর্তমানে স্ত্রী ও দুই ছেলে এবং তাদের স্ত্রীসহ ছয় জনের সংসারের খরচ চালাচ্ছেন তিনি। অর্থের অভাবে ছেলেমেয়েকে শিক্ষিত করে গড়ে তুলতে পারেননি। ছেলেরা কৃষিকাজের সঙ্গে জড়িত।

দেশ স্বাধীনের ৫০ বছরেও নিজের ভাগ্যের কেন পরিবর্তন হয়নি জানতে চাইলে ৬৫ বছর বয়সী বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রহমান বলেন, ‘নিজের কোনও আবাদি জমি ছিল না। বর্তমানেও নেই। অন্যের জমিতে কাজ করে সংসার চালাই। এতে করে ছেলেমেয়েদের নিয়ে সংসার করে বাড়তি কিছু করতে পারিনি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের প্রথম মেয়াদ থেকে ৩০০ টাকা থেকে এখন ১২ হাজার টাকা করে প্রত্যেক মাসে সরকারি ভাতা পেয়ে আসছি। সোনালী ব্যাংক পবা উপজেলার বায়া শাখায় ভাতা উত্তোলনের তালিকায় তৃতীয় স্থানে আমার নাম রয়েছে।’

 খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ৭ নম্বর সেক্টরের ৪ নম্বর সাব-সেক্টরের অধীনে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন আব্দুর রহমান। মুক্তিযুদ্ধের সময় তার আনুমানিক বয়স ছিল ১৬ বছর। পবা উপজেলার দারুশা প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেছেন তিনি।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যখন স্বাধীনতার ডাক দিয়েছেন, তখন তরুণ আব্দুর রহমান ডাকে সাড়া দিয়ে দেশ স্বাধীনের প্রস্তুতি নেন। এরই অংশ হিসেবে প্রথমে ভারতের পানিপিয়া ক্যাম্পে যোগদান করেন। পরে ভারতের শিলিগুড়িতে প্রশিক্ষণের জন্য যান। সেখানে প্রশিক্ষণ শেষ করে আবার বাংলাদেশে ফিরে আসেন। এরপর পবা থানার দুয়ারি এলাকায় ব্রিজ অপারেশন, তানোর থানায় পাকিস্তানি বাহিনীসহ তার অনুসারী রাজাকার, আলবদর এবং বিহারিদের সঙ্গে যুদ্ধ করেন। একের পর এক অভিযানে অংশ নিয়ে দেশ স্বাধীনের অংশীদার হন আব্দুর রহমান।

 বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রহমান বলেন, ‘বাংলার মানুষ পাকিস্তানি বাহিনীর অত্যাচার, নিপীড়ন ও নির্যাতন থেকে যাতে মুক্তি পায় সে জন্য যুদ্ধে গিয়েছিলাম। তখন ভাবিনি দেশ স্বাধীন হলে আমি আর্থিকভাবে লাভবান হবো। দেশ স্বাধীনের পর যে সম্মান পেয়েছি তা অনেক। তবে আমাদের মতো দরিদ্র মুক্তিযোদ্ধাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন শেখ হাসিনা। আমাদের আগের চেয়ে বহুগুণে সম্মানিত করছেন। সেই সঙ্গে আর্থিকভাবে সহায়তা করছেন। এতে আমি গর্ববোধ করছি।’

 তিনি আরও বলেন, ‘যতদিন বেঁচে আছি ততদিন যেন মাথা গোঁজার জন্য ভালোভাবে বসবাসের ঠাঁই পাই। আমি এখন অসুস্থ। তাই চিকিৎসার জন্য সরকারি-বেসরকারিভাবে কেউ সহায়তা করলে অনেক ভালো হতো। যে ভাতা পাই তা দিয়ে সংসার চালিয়ে চিকিৎসা খরচ চালাতে পারি না।’

 

/এএম/
সম্পর্কিত
নোয়াখালীতে প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনমুক্তিযোদ্ধাদের অসম্মান করলে গণঅভ্যুত্থান হবে, রাজাকারদের পাকিস্তানে পাঠানো হবে
জামায়াত সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে আরেক মুক্তিযোদ্ধাকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার
জামায়াতে যোগ দেওয়া মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডারকে বহিষ্কার
সর্বশেষ খবর
মৌমাছির রানি হয়ে ওঠার রহস্য কী
মৌমাছির রানি হয়ে ওঠার রহস্য কী
তিন বছর নয়, এলডিসি উত্তরণ নিয়ে কীভাবে ভুল করলো দেশের প্রায় সব মিডিয়া
তিন বছর নয়, এলডিসি উত্তরণ নিয়ে কীভাবে ভুল করলো দেশের প্রায় সব মিডিয়া
অধিনায়ক হিসেবে ফিরেই জয় দেখলেন কুশল মেন্ডিস
অধিনায়ক হিসেবে ফিরেই জয় দেখলেন কুশল মেন্ডিস
মার্কিন সেনা হত্যা করলে যুদ্ধবিরতি শেষ, উপদেষ্টাদের জানালেন ট্রাম্প
মার্কিন সেনা হত্যা করলে যুদ্ধবিরতি শেষ, উপদেষ্টাদের জানালেন ট্রাম্প
সর্বাধিক পঠিত
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম