X
মঙ্গলবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২২
১২ আশ্বিন ১৪২৯

৫০ বছরেও ভাগ্য বদলায়নি বীর মুক্তিযোদ্ধার

দুলাল আবদুল্লাহ, রাজশাহী
০৩ আগস্ট ২০২১, ০৯:১৭আপডেট : ০৩ আগস্ট ২০২১, ০৯:৪৭

যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছেন। বাংলাদেশ আজ স্বল্পোন্নত থেকে উন্নয়নশীল রাষ্ট্রে উন্নীত হতে পেরেছে। একসময় দারিদ্র্য-দুর্ভিক্ষে জর্জরিত বাংলাদেশ আজ বিশ্বজয়ের নবতর অভিযাত্রায় এগিয়ে চলছে। কিন্তু স্বাধীনতার ৫০ বছরেও ভাগ্য বদলাতে পারেননি রাজশাহীর পবা উপজেলার হুজরিপাড়া ইউনিয়নের শরিষা কুড়ি কলেজপাড়া এলাকার হতদরিদ্র বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রহমান। মাসে সরকারিভাবে পাওয়া মুক্তিযোদ্ধা ভাতা থেকে কিছু টাকা বাঁচিয়ে পাঁচ শতক জায়গার ওপর টিনের ঘর বানিয়ে বসবাস করছেন দেশের এই সূর্য সন্তান।

জরাজীর্ণ ঘরে মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রহমানের বসবাস জানা গেছে, বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রহমানের তিন ছেলে ও তিন মেয়ে। তিন মেয়েকে বিয়ে দিয়েছেন। বড় ছেলে মিনারুল ইসলাম আলাদা সংসার করছেন। বর্তমানে স্ত্রী ও দুই ছেলে এবং তাদের স্ত্রীসহ ছয় জনের সংসারের খরচ চালাচ্ছেন তিনি। অর্থের অভাবে ছেলেমেয়েকে শিক্ষিত করে গড়ে তুলতে পারেননি। ছেলেরা কৃষিকাজের সঙ্গে জড়িত।

দেশ স্বাধীনের ৫০ বছরেও নিজের ভাগ্যের কেন পরিবর্তন হয়নি জানতে চাইলে ৬৫ বছর বয়সী বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রহমান বলেন, ‘নিজের কোনও আবাদি জমি ছিল না। বর্তমানেও নেই। অন্যের জমিতে কাজ করে সংসার চালাই। এতে করে ছেলেমেয়েদের নিয়ে সংসার করে বাড়তি কিছু করতে পারিনি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের প্রথম মেয়াদ থেকে ৩০০ টাকা থেকে এখন ১২ হাজার টাকা করে প্রত্যেক মাসে সরকারি ভাতা পেয়ে আসছি। সোনালী ব্যাংক পবা উপজেলার বায়া শাখায় ভাতা উত্তোলনের তালিকায় তৃতীয় স্থানে আমার নাম রয়েছে।’

 খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ৭ নম্বর সেক্টরের ৪ নম্বর সাব-সেক্টরের অধীনে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন আব্দুর রহমান। মুক্তিযুদ্ধের সময় তার আনুমানিক বয়স ছিল ১৬ বছর। পবা উপজেলার দারুশা প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেছেন তিনি।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যখন স্বাধীনতার ডাক দিয়েছেন, তখন তরুণ আব্দুর রহমান ডাকে সাড়া দিয়ে দেশ স্বাধীনের প্রস্তুতি নেন। এরই অংশ হিসেবে প্রথমে ভারতের পানিপিয়া ক্যাম্পে যোগদান করেন। পরে ভারতের শিলিগুড়িতে প্রশিক্ষণের জন্য যান। সেখানে প্রশিক্ষণ শেষ করে আবার বাংলাদেশে ফিরে আসেন। এরপর পবা থানার দুয়ারি এলাকায় ব্রিজ অপারেশন, তানোর থানায় পাকিস্তানি বাহিনীসহ তার অনুসারী রাজাকার, আলবদর এবং বিহারিদের সঙ্গে যুদ্ধ করেন। একের পর এক অভিযানে অংশ নিয়ে দেশ স্বাধীনের অংশীদার হন আব্দুর রহমান।

 বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রহমান বলেন, ‘বাংলার মানুষ পাকিস্তানি বাহিনীর অত্যাচার, নিপীড়ন ও নির্যাতন থেকে যাতে মুক্তি পায় সে জন্য যুদ্ধে গিয়েছিলাম। তখন ভাবিনি দেশ স্বাধীন হলে আমি আর্থিকভাবে লাভবান হবো। দেশ স্বাধীনের পর যে সম্মান পেয়েছি তা অনেক। তবে আমাদের মতো দরিদ্র মুক্তিযোদ্ধাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন শেখ হাসিনা। আমাদের আগের চেয়ে বহুগুণে সম্মানিত করছেন। সেই সঙ্গে আর্থিকভাবে সহায়তা করছেন। এতে আমি গর্ববোধ করছি।’

 তিনি আরও বলেন, ‘যতদিন বেঁচে আছি ততদিন যেন মাথা গোঁজার জন্য ভালোভাবে বসবাসের ঠাঁই পাই। আমি এখন অসুস্থ। তাই চিকিৎসার জন্য সরকারি-বেসরকারিভাবে কেউ সহায়তা করলে অনেক ভালো হতো। যে ভাতা পাই তা দিয়ে সংসার চালিয়ে চিকিৎসা খরচ চালাতে পারি না।’

 

/এএম/
সম্পর্কিত
‘আগামী নির্বাচনে মানুষ নৌকায় ভোট দিয়ে জবাব দেবে’
‘আগামী নির্বাচনে মানুষ নৌকায় ভোট দিয়ে জবাব দেবে’
চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসককে নিয়ে যা বললেন ১০১ বীর মুক্তিযোদ্ধা
চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসককে নিয়ে যা বললেন ১০১ বীর মুক্তিযোদ্ধা
‘বীর নিবাস’ পাচ্ছে ফেনীর ৩ শতাধিক বীর মুক্তিযোদ্ধা পরিবার
‘বীর নিবাস’ পাচ্ছে ফেনীর ৩ শতাধিক বীর মুক্তিযোদ্ধা পরিবার
হাজারো মানুষের অংশগ্রহণে বীর বিক্রম শওকত আলীর দাফন সম্পন্ন
হাজারো মানুষের অংশগ্রহণে বীর বিক্রম শওকত আলীর দাফন সম্পন্ন
বাংলা ট্রিবিউনের সর্বশেষ
বঙ্গমাতা সেতুর পিলারে মালবাহী জাহাজের ধাক্কা
বঙ্গমাতা সেতুর পিলারে মালবাহী জাহাজের ধাক্কা
আদিতির হত্যাকারীর বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ
আদিতির হত্যাকারীর বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ
কয়েক ঘণ্টার মধ্যে পিবিআই’র চুরি হওয়া মালামাল উদ্ধার
কয়েক ঘণ্টার মধ্যে পিবিআই’র চুরি হওয়া মালামাল উদ্ধার
শিল্পকলায় নাট্যকেন্দ্রের ১৫তম প্রযোজনা
শিল্পকলায় নাট্যকেন্দ্রের ১৫তম প্রযোজনা
এ বিভাগের সর্বশেষ