X
বুধবার, ২৬ জানুয়ারি ২০২২, ১২ মাঘ ১৪২৮
সেকশনস
ট্রাভেলগ

ঘুরে আসুন চন্দ্রনাথের চূড়ায়

আপডেট : ২৮ অক্টোবর ২০১৮, ১৯:১৭

বিরুপাক্ষ মন্দিরের চূড়া চন্দ্রনাথ পাহাড় হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের জন্য পুণ্যভূমি। একইসঙ্গে পর্যটকদের জন্যও বেশ আকর্ষণীয় জায়গা। কিছুদিন আগে দ্বিতীয়বারের মতো চন্দ্রনাথের চূড়া থেকে ঘুরে এলাম। চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড বাজার থেকে সকাল ৯টার মধ্যে নাশতা সেরে সাত বন্ধু মিলে রওনা হলাম। সিএনজিতে চড়ে সোজা পাহাড়ের পাদদেশে। এরপর ট্রেকিংয়ের সুবিধার জন্য বাঁশের লাঠি কিনে নিলাম। শুরু হলো আমাদের চন্দ্রনাথ মিশন।

শুরুর দিকে রাস্তা প্রায় সমতল। তাই কারও তেমন কষ্ট হয়নি। জগন্নাথ মন্দিরের কাছে যেতেই চোখে পড়লো চন্দ্রনাথের চূড়া। সেখান থেকে বিরুপাক্ষ মন্দিরও দেখা যায়। একদিকে খাড়া ঢালু, আরেকদিকে সামনে সুউচ্চ পাহাড়। দেখতে বেশ চমৎকার। সেখানে একটি দোকান দেখে খানিকটা জিরিয়ে নিলাম। এখনও মূল ট্রেকিং শুরু হয়নি। ওপরে ওঠার জন্য ক্লান্তি দূর করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

কিছুক্ষণ বিশ্রাম নেওয়ার পর আবারও শুরু হলো আমাদের পথচলা। অল্প কিছুদূর সামনে যেতেই খাড়া সিঁড়ি। সেখানে পথটা দু’ভাগ হয়ে গেছে। আমরা বেছে নিলাম বাঁ-দিকের পথ। কারণ, এই পথে সিঁড়ির সংখ্যা তুলনামূলক কম। সিঁড়ি ধরে এগোচ্ছি। দু’পাশের প্রকৃতি যেন আমাদের অভ্যর্থনা জানালো। ওদিকে মাথার ওপর সূর্য তখন ক্রমে চড়ে বসেছে।

ওপর থেকে পাহাড়ের ঢাল প্রখর রোদে সিঁড়ি বেয়ে একটানা আর কতক্ষণ ওঠা যায়? তাই সবাই মিলে বিশ্রাম নিলাম। সিঁড়ির ওপরেই সবাই বসে গেলো। এরপর তৃষ্ণার্ত সবাই পানির বোতলের ওপর হামলে পড়লো! আবারও একের পর এক সিঁড়ি ডিঙিয়ে যাচ্ছি। এর যেন কোনও অন্ত নেই!

সিঁড়ির দু’পাশে দেখার মতো তেমন কিছু ছিল না। তাই আমরা অবিরাম ওপরে উঠতে লাগলাম। ততক্ষণে সবার পোশাক ঘামে ভিজে একাকার। দুর্বল হয়ে পড়ার উপক্রম। তাই এবার পানির সঙ্গে মেশানো হলো স্যালাইন। পাহাড় ট্রেকিংয়ে স্যালাইন শরীরের পানিশূন্যতা দূরীকরণে বেশ কাজে দেয়।

একটু সামনে যেতেই শেষ হলো একঘেঁয়ে সিঁড়ি জার্নি। এর চেয়ে খাড়া মাটি বেয়ে ওপরে ওঠা অনেক সহজ। সিঁড়ি শেষ হতেই পাহাড়ের একদিকের ঢাল চলে এলো সামনে। ততক্ষণে আমরা অনেক ওপরে উঠে গেছি। ওপর থেকে পাহাড়ের ঢাল দেখতে খুব সুন্দর লাগে। পুরো ঢাল পল্লব আচ্ছাদিত। ওপর থেকে নিচে তাকাতেই আমরা বিস্মিত ও বিমোহিত। সেখানে অল্প সময়ের জন্য যাত্রাবিরতি দিয়ে ছবি তোলায় মেতে উঠলো সবাই।

সিঁড়ি বেঁয়ে ওপরে উঠতে উঠতে ঘেমে একাকার সবাই আবার হাঁটা শুরু। পাহাড়ের ওপর মেঠো পথ খুবই সরু। একজনের বেশি পাশাপাশি হাঁটা যায় না। দু’পাশ ঝোপঝাড়ে ভর্তি। ওই পথ ধরেই চলছি আমরা। আরেকটু কাছে যেতেই দেখা দিলো বিরুপাক্ষ মন্দিরের চূড়া। দেখতে কাছে মনে হলেও গন্তব্য ছিল বেশ দূরে। মন্দিরের গোড়ায় যেতে আরও কয়েকবার যাত্রাবিরতি দিতে হয়েছে। অবশেষে মন্দিরের পাদদেশে গিয়ে পৌঁছাতেই সবাই হাঁপাতে লাগলো।

ক্লান্তি কাটাতে সিঁড়িতেই শুয়ে পড়লাম। বিরুপাক্ষ মন্দির থেকে চারদিকের দৃশ্যাবলি দারুণ। পশ্চিমে তাকালে সীতাকুণ্ড বাজার পেরিয়ে বঙ্গোপসাগর দেখা যায়। তিনদিকে পাহাড়ি ঢাল নিচে নেমে গেছে অনেকখানি। এই ঢালের সৌন্দর্য দেখলে আপনাআপনি প্রশান্তি চলে আসে। মন্দিরের আরেকদিক দিয়ে চন্দ্রনাথের চূড়ার রাস্তা চলে গেছে। চূড়ায় আরোহণকারী অভিযাত্রীরা বিরুপাক্ষ মন্দিরকে বেজক্যাম্প হিসেবে ব্যবহার করেন। লম্বা খাড়া পথ পেরিয়ে এখানে এসে দীর্ঘ সময় বিশ্রাম নেন সবাই। আমরা প্রায় আধঘণ্টা বিশ্রাম নেওয়ার পাশাপাশি চারপাশের সৌন্দর্য উপভোগ করলাম।

চন্দ্রনাথের চূড়া থেকে নিচের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য কিছুক্ষণ পর আবারও সদলবলে চন্দ্রনাথের চূড়াপানে যাত্রা শুরু হলো। সম্মুখে তাকালেই চন্দ্রনাথ মন্দির দেখা যাচ্ছিল। এদিকে পথ অনেক সমতল। তাই খুব দ্রুতই মন্দিরের কাছে চলে গেলাম। এরপর দু’বার ছোটখাটো বিশ্রাম নিয়ে পৌঁছালাম আরাধ্য চন্দ্রনাথের চূড়ায়। আমাদের গোটা টিম সামিট সম্পন্ন করলো। যদিও আমরা যারা পাহাড় ট্রেকিং করি, তাদের কাছে চন্দ্রনাথে পৌঁছানো নিতান্তই মামুলি অর্জন।

চন্দ্রনাথ পাহাড়ের একেবারে চূড়ায় চন্দ্রনাথ মন্দির অবস্থিত। মন্দিরে পুরোহিতরা প্রার্থনা করছেন। হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা নিজেদের জন্য কল্যাণ কামনায় ধ্যানমগ্ন। মন্দিরের একপাশে বিশ্রামাগার। সেখান থেকে তিনদিকের পরিবেশ দেখা যায়।

ওই দেখা যায় চন্দ্রনাথ মন্দির চন্দ্রনাথ পাহাড়ের পূর্ব পাশের পরিবেশের বর্ণনা আলাদা করে না দিলেই নয়। চূড়া থেকে পূর্ব পাশ দেখলে পাহাড়ে ওঠার ক্লান্তি ও অবসাদ নিমিষেই দূর হয়ে যায়। পুরো এলাকাজুড়ে ঘন সবুজ উপত্যকা। অসংখ্য ছোট ছোট টিলা ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে। খুব সকালে এখানে জমা হয় মেঘ। দক্ষিণ দিকে তাকালেই সীতাকুণ্ড ইকোপার্ক আর পশ্চিমে দেখা যায় বঙ্গোপসাগর। মন্দিরের বিশ্রামাগারে গা এলিয়ে প্রকৃতি উপভোগ করলাম।

নিরিবিলি প্রকৃতির সান্নিধ্যে কিছু মুহূর্ত কাটাতে চাইলে ঘুরে আসতে পারেন চন্দ্রনাথ পাহাড়ে। যদিও পাহাড়ে উঠতে কিছুটা কষ্ট হবে। কিন্তু চূড়ায় ওঠার পর মনোরম প্রাকৃতিক সৌন্দর্য সব কষ্ট ভুলিয়ে দেবে।

/সিএ/জেএইচ/এমওএফ
সম্পর্কিত
একা বিমান চালিয়ে বিশ্বভ্রমণের ইতিহাস গড়েছে এই কিশোরী
একা বিমান চালিয়ে বিশ্বভ্রমণের ইতিহাস গড়েছে এই কিশোরী
২০২২ সালে ভ্রমণে যে ২০টি এয়ারলাইন সবচেয়ে নিরাপদ
২০২২ সালে ভ্রমণে যে ২০টি এয়ারলাইন সবচেয়ে নিরাপদ
পানির নিচে প্রায় সাড়ে ১৩ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে হাইওয়ে টানেল
পানির নিচে প্রায় সাড়ে ১৩ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে হাইওয়ে টানেল
নেপালের থার্পু চুলি অভিযানে বাংলাদেশি দুই তরুণ
নেপালের থার্পু চুলি অভিযানে বাংলাদেশি দুই তরুণ
সর্বশেষসর্বাধিক

লাইভ

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
একা বিমান চালিয়ে বিশ্বভ্রমণের ইতিহাস গড়েছে এই কিশোরী
একা বিমান চালিয়ে বিশ্বভ্রমণের ইতিহাস গড়েছে এই কিশোরী
২০২২ সালে ভ্রমণে যে ২০টি এয়ারলাইন সবচেয়ে নিরাপদ
২০২২ সালে ভ্রমণে যে ২০টি এয়ারলাইন সবচেয়ে নিরাপদ
পানির নিচে প্রায় সাড়ে ১৩ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে হাইওয়ে টানেল
পানির নিচে প্রায় সাড়ে ১৩ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে হাইওয়ে টানেল
নেপালের থার্পু চুলি অভিযানে বাংলাদেশি দুই তরুণ
নেপালের থার্পু চুলি অভিযানে বাংলাদেশি দুই তরুণ
পাখি আর দর্শনার্থীদের সৈকত তুরস্কের মারমারা
পাখি আর দর্শনার্থীদের সৈকত তুরস্কের মারমারা
© 2022 Bangla Tribune