X
বুধবার, ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৩
১৭ মাঘ ১৪২৯

ইতিহাস নিয়ে সাজানো-গোছানো ময়নামতি ওয়ার সিমেট্রি (ভিডিও)

শাহরিয়ার নোবেল, কুমিল্লা
১৯ নভেম্বর ২০২০, ১৭:১৮আপডেট : ১৯ নভেম্বর ২০২০, ১৭:১৯

কুমিল্লায় অবস্থিত ময়নামতি ওয়ার সিমেট্রি একটি কমনওয়েলথ যুদ্ধ সমাধি। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে বার্মায় নিহত ৪৫ হাজার কমনওয়েলথ সৈনিকের স্মৃতিরক্ষার্থে মিয়ানমার, আসাম ও বাংলাদেশে ৯টি রণ সমাধিক্ষেত্র তৈরি হয়। বাংলাদেশে কুমিল্লা ছাড়াও চট্টগ্রামে আছে আরেকটি কমনওয়েলথ রণ সমাধিক্ষেত্র।

১৯৪৬ সালে তৈরি হয় ময়নামতি ওয়ার সিমেট্রি। কুমিল্লা শহর থেকে প্রায় ৯ কিলোমিটার দূরে কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্টের খুব কাছেই এই যুদ্ধ সমাধি। এটি কমনওয়েলথ কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। তারাই পরিচালনা করে সমাধিক্ষেত্র। প্রতিবছর নভেম্বরে সব ধর্মের ধর্মগুরুদের সমন্বয়ে এতে প্রার্থনাসভা হয়ে থাকে।

সমাধিক্ষেত্রটিতে ৭৩৬টি কবর আছে। এর মধ্যে অধিকাংশই সেই সময় হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করা সৈনিকদের। যুদ্ধের পরও বিভিন্ন স্থান থেকে কিছু লাশ স্থানান্তরের মাধ্যমে ময়নামতিতে সমাহিত করা হয়। যুক্তরাজ্য, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা, অবিভক্ত ভারত, রোডেশিয়া, পূর্ব আফ্রিকা, পশ্চিম আফ্রিকা, মিয়ানমার, বেলজিয়াম, পোল্যান্ড, জাপানের সৈন্যরা সমাহিত আছেন এই ওয়ার সিমেট্রিতে।

প্রবেশমুখে একটি তোরণ আছে। ভেতরে প্রশস্ত পথ, এর দু’পাশে সারি সারি কবর ফলক। ধর্ম অনুযায়ী সৈন্যদের কবর ফলকে নাম, মৃত্যুর তারিখ, পদবীর পাশাপাশি ধর্মীয় প্রতীক লক্ষণীয়। মুসলমানদের কবর ফলকে আরবি লেখা, খ্রিস্টানদের কবর ফলকে ক্রুশ উল্লেখযোগ্য।

প্রশস্ত পথের সম্মুখে সিঁড়ি দেওয়া বেদি। এর ওপরে রয়েছে খ্রিস্টধর্মীয় পবিত্র প্রতীক ক্রুশ। বেদির দু’পাশে আরও দুটি তোরণ ঘর। তোরণ ঘর দিয়ে সমাধিক্ষেত্রের পেছন দিকের অংশে যাওয়া যায়। সেখানে আছে আরও বহু কবর ফলক। প্রতি দুটি কবর ফলকের মাঝখানে শোভা পাচ্ছে একটি করে ফুল গাছ।

পুরো সমাধিক্ষেত্রেই রয়েছে প্রচুর গাছ। সম্মুখ অংশের প্রশস্ত পথের পাশেই ব্যতিক্রম একটি কবর। একসঙ্গে ২৩টি কবর ফলক দিয়ে এটি ঘিরে রাখা হয়েছে। সমাধিক্ষেত্রটি সুন্দর, পরিপাটি ও ইতিহাসসমৃদ্ধ।

প্রতিবছর দেশ-বিদেশের বিপুলসংখ্যক দর্শনার্থী সৈন্যদের প্রতি সম্মান জানাতে ময়নামতি ওয়ার সিমেট্রিতে ঘুরতে আসেন। সমাধিক্ষেত্রে ঢুকতে কোনও টিকিটের প্রয়োজন হয় না। করোনাভাইরাস মহামারির কারণে দর্শনার্থীদের প্রবেশ সীমিত রাখা হয়েছে।

/জেএইচ/
সর্বশেষ খবর
ইন্দিরা ও রাজীব গান্ধী হত্যাকাণ্ড নিয়ে যে বিতর্ক জন্ম দিলেন বিজেপির মন্ত্রী
ইন্দিরা ও রাজীব গান্ধী হত্যাকাণ্ড নিয়ে যে বিতর্ক জন্ম দিলেন বিজেপির মন্ত্রী
‘ইউক্রেন অস্ত্র না পেলে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়বে ইউরোপে’
‘ইউক্রেন অস্ত্র না পেলে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়বে ইউরোপে’
স্যার এ এফ রহমান হল ডিবেটিং ক্লাবের সভাপতি- রায়হান, সম্পাদক মেহেদী
স্যার এ এফ রহমান হল ডিবেটিং ক্লাবের সভাপতি- রায়হান, সম্পাদক মেহেদী
ভারতে বহুতল ভবনে আগুন, নিহত ১৪
ভারতে বহুতল ভবনে আগুন, নিহত ১৪
সর্বাধিক পঠিত
প্রাইজবন্ডের ড্র, প্রথম পুরস্কার ০০৮৮৭০৮
প্রাইজবন্ডের ড্র, প্রথম পুরস্কার ০০৮৮৭০৮
আবাসিক হোটেলটিতে গেলেই গোপন ক্যামেরায় ধারণ করা হতো ভিডিও
আবাসিক হোটেলটিতে গেলেই গোপন ক্যামেরায় ধারণ করা হতো ভিডিও
সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দিচ্ছিল বিএসএফ, বিজিবির বাধা
সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দিচ্ছিল বিএসএফ, বিজিবির বাধা
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসে চাকরির সুযোগ
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসে চাকরির সুযোগ
যুক্তরাষ্ট্রের ‘বার্মা অ্যাক্ট’ আঞ্চলিক সংঘর্ষ বাড়াতে পারে
সেমিনারে বিশ্লেষকরাযুক্তরাষ্ট্রের ‘বার্মা অ্যাক্ট’ আঞ্চলিক সংঘর্ষ বাড়াতে পারে