যেখানে আজও বেঁচে আছে হাছন রাজার স্মৃতি

ফিচার ডেস্ক
২৩ আগস্ট ২০২৬, ০৮:৩০আপডেট : ২৩ আগস্ট ২০২৬, ০৮:৩০

মরমী কবি ও সাধক দেওয়ান হাছন রাজার গান আজও বাঙালির হৃদয়ে বেঁচে আছে। তাঁর সৃষ্টির সঙ্গে জড়িয়ে থাকা নানা স্মৃতির মধ্যে সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার রামপাশা গ্রামের পৈতৃক বাড়ি অন্যতম। ইতিহাস, লোকসংস্কৃতি ও মরমী সাধনার স্মৃতি বহনকারী এই বাড়িটি এখনো ভ্রমণপিপাসু মানুষ ও গবেষকদের আকর্ষণ করে। বিশ্বনাথ উপজেলা প্রশাসনের সরকারি তথ্যেও হাছন রাজার বাড়িকে উপজেলার দর্শনীয় স্থান হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

জমিদারবাড়ির দীর্ঘ ইতিহাস

হাছন রাজার পৈতৃক নিবাস সিলেটের বিশ্বনাথের রামপাশায়। জেলা প্রশাসন সিলেটের একটি সরকারি প্রকাশনায় উল্লেখ করা হয়েছে, হাছন রাজার পূর্বপুরুষরা রামপাশায় বসতি স্থাপন করেন এবং সেখানে থাকা দোতলা দালানটি তাঁর পরিবারের ইতিহাস ও স্মৃতির সঙ্গে জড়িত।

ইতিহাসের বিভিন্ন বর্ণনা অনুযায়ী, হাছন রাজার বাবা দেওয়ান আলী রাজা চৌধুরী ছিলেন রামপাশার প্রভাবশালী জমিদার। রামপাশা ও সুনামগঞ্জের লক্ষণশ্রী অঞ্চলে তাঁদের জমিদারি ছিল। পরবর্তী সময়ে হাছন রাজাও জমিদারি পরিচালনার দায়িত্ব নেন।

বাড়িতে কী কী দেখা যায়?

একসময় বিশাল জমিদারবাড়ি হিসেবে পরিচিত এই স্থানে এখন মূলত পুরোনো স্থাপনার ধ্বংসাবশেষ ও ঐতিহাসিক স্মৃতিচিহ্ন দেখা যায়। রয়েছে পুরোনো দোতলা ভবন, বিশাল দীঘি, শান বাঁধানো ঘাট, প্রাচীন পাথর ও পুরোনো দেয়ালের অংশ। এসব স্থাপনা অতীতের জমিদারি ঐতিহ্যের কথা মনে করিয়ে দেয়।

বাড়ির একটি পুরোনো দোতলা ভবন দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। সময়ের সঙ্গে ভবন ও আশপাশের স্থাপনার অনেকটাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। লতাগুল্মে ঢেকে যাচ্ছে পুরোনো স্থাপনাগুলোও।

বাড়ির আশপাশে রয়েছে পুরোনো কবরস্থানও। ফলে শুধু স্থাপত্য নয়, পারিবারিক ইতিহাসের দিক থেকেও জায়গাটির গুরুত্ব রয়েছে।

হাছন রাজার স্মৃতির খোঁজে পর্যটক

হাছন রাজার গান ও জীবনদর্শনের প্রতি আগ্রহ থেকে অনেক মানুষ রামপাশার এই বাড়িতে আসেন। দেশি-বিদেশি লোকসংস্কৃতি গবেষকদেরও এই স্থান পরিদর্শনের কথা বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

বাড়ির সামনে থাকা বিশাল দীঘি ও খোলা জায়গা ভ্রমণকারীদের জন্য বাড়তি আকর্ষণ তৈরি করে। অতীতে এই জায়গায় সাংস্কৃতিক আয়োজনও হয়েছে।

তবে রয়েছে আক্ষেপও

ঐতিহাসিক গুরুত্ব থাকা সত্ত্বেও হাছন রাজার পৈতৃক বাড়িটির বর্তমান অবস্থা নিয়ে রয়েছে হতাশা। ২০২৫ সালের প্রতিবেদনে বাড়িটিকে ভগ্নদশায় থাকার কথা উল্লেখ করে বলা হয়, অযত্ন ও অবহেলায় অনেক স্মৃতিচিহ্ন হারিয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।

স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের দাবি—বাড়িটি সংরক্ষণ করে এখানে হাছন রাজা স্মৃতি জাদুঘর, গবেষণাকেন্দ্র বা সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হোক। এতে হাছন রাজার জীবন, গান ও দর্শন নতুন প্রজন্মের কাছে আরও সহজে তুলে ধরা সম্ভব হবে।

কীভাবে যাবেন?

সিলেট শহর থেকে সড়কপথে বিশ্বনাথের রামপাশা গ্রামে যাওয়া যায়। স্থানীয় যানবাহন, সিএনজি অটোরিকশা কিংবা অন্যান্য পরিবহনে রামপাশা পৌঁছে হাছন রাজার বাড়ি ঘুরে দেখা সম্ভব। একটি ভ্রমণবৃত্তান্তে সিলেট শহর থেকে রামপাশার দূরত্ব প্রায় ১৪ কিলোমিটার বলা হয়েছে।

ভ্রমণপ্রেমীদের জন্য

যারা শুধু প্রাকৃতিক সৌন্দর্য নয়, ইতিহাস, লোকসংস্কৃতি, জমিদারি ঐতিহ্য ও মরমী সাহিত্য দেখতে চান, তাঁদের জন্য রামপাশার হাছন রাজার বাড়ি হতে পারে অন্যরকম একটি গন্তব্য।

সবুজের মধ্যে দাঁড়িয়ে থাকা পুরোনো স্থাপনা, বিশাল দীঘি, প্রাচীন ঘাট আর হাছন রাজার স্মৃতিবিজড়িত পরিবেশ মিলে জায়গাটি সিলেটের সাংস্কৃতিক পর্যটনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠতে পারে।

হাছন রাজার গান আজও মানুষের মুখে মুখে। কিন্তু তাঁর স্মৃতিবিজড়িত রামপাশার বাড়িটি যেন সময়ের সঙ্গে হারিয়ে না যায় এটাই এখন বড় প্রত্যাশা।

/এমএএল/
সম্পর্কিত
ইতিহাসের সাক্ষী, অথচ অযত্নে, যে স্থাপনাগুলো বাঁচানো জরুরি
ইতিহাসের সাক্ষী চট্টগ্রামের আন্দরকিল্লা শাহী জামে মসজিদ
হেঁটেই ঘুরুন লন্ডন, দেখুন শহরের অন্য রূপ
সর্বশেষ খবর
বাংলাদেশিসহ ২৪ নাবিক নিয়ে ওড়িশা উপকূলে জাহাজডুবি, উদ্ধার ২
বাংলাদেশিসহ ২৪ নাবিক নিয়ে ওড়িশা উপকূলে জাহাজডুবি, উদ্ধার ২
বর্ষায় চুলকানি-খুশকি দূরে রেখে চুল রাখুন ঝলমলে
বর্ষায় চুলকানি-খুশকি দূরে রেখে চুল রাখুন ঝলমলে
৬১ বছরে চেহারা বদলাতে নতুন চ্যালেঞ্জ আমিরের
৬১ বছরে চেহারা বদলাতে নতুন চ্যালেঞ্জ আমিরের
ভিয়ারিয়ালের বিপক্ষে ফিরছেন আলভারেজ
ভিয়ারিয়ালের বিপক্ষে ফিরছেন আলভারেজ
সর্বাধিক পঠিত
সুখবর পেলেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত সুলিভান, শাস্তি পেলেন মেসি 
সুখবর পেলেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত সুলিভান, শাস্তি পেলেন মেসি 
নতুন দায়িত্বে চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন 
নতুন দায়িত্বে চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন 
পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান কি ছুটিতে যাচ্ছেন?
পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান কি ছুটিতে যাচ্ছেন?
মাছ কেটে স্বাবলম্বী তারা 
মাছ কেটে স্বাবলম্বী তারা 
৪০ ক্যামেরা বসিয়েও খোঁজ মেলেনি সুন্দরবনের সেই বাঘিনীর
৪০ ক্যামেরা বসিয়েও খোঁজ মেলেনি সুন্দরবনের সেই বাঘিনীর