ভ্রমণে বেরোনোর আগে পোশাক, প্রসাধনী, প্রয়োজনীয় ওষুধ, চার্জার সব কিছুরই জায়গা করে দিতে হয় ব্যাগে। এর মধ্যেই যদি সঙ্গে রাখতে হয় একাধিক জোড়া জুতা, তখন প্যাকিং আরও কঠিন হয়ে ওঠে। জুতা আকারে তুলনামূলক বড়, ওজনও কম নয়। তার ওপর বাইরে পরে হাঁটার কারণে তলায় ধুলো-ময়লা লেগে থাকে। ফলে পোশাকের সঙ্গে একই ব্যাগে রাখার সময় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার বিষয়টিও মাথায় রাখতে হয়।
তবে একটু কৌশল জানলে একাধিক জুতাও অল্প জায়গায় সুন্দর করে গুছিয়ে নেওয়া সম্ভব। আলাদা বিশাল ব্যাগ না নিয়েও কী ভাবে জুতাগুলোকে নিরাপদে রাখা যায়, রইল তার কয়েকটি সহজ উপায়।
জুতার ভেতরের জায়গাটুকুও কাজে লাগান
প্যাকিংয়ের সময় জুতার ভেতরের ফাঁকা অংশ সাধারণত অব্যবহৃতই থেকে যায়। অথচ এই জায়গাটুকু কাজে লাগাতে পারলে ব্যাগে বেশ কিছুটা অতিরিক্ত স্থান তৈরি করা যায়।
জুতার ভেতরে গুঁজে রাখতে পারেন মোজা, রুমাল, ছোট তোয়ালে বা অন্যান্য নরম জিনিস। অন্তর্বাস রাখলে অবশ্যই আলাদা পাউচ বা প্যাকেটে ভরে নেবেন। ছোট চার্জার, ইয়ারফোন কিংবা অন্য কোনও ছোট আনুষঙ্গিক জিনিসও জুতার ভেতরে রাখা যায়।
এতে শুধু জায়গাই বাঁচবে না, জুতার ভিতরটা ফাঁকা না থাকায় সেটি চাপ খেয়ে বেঁকে যাওয়ার আশঙ্কাও কিছুটা কমবে।
জুতোর তলা ঢেকে নিন
জুতা প্যাক করার সবচেয়ে বড় সমস্যা হল এর তলায় লেগে থাকা ময়লা। নতুন জামাকাপড়ের পাশে সেই জুতো রাখলে পোশাক নোংরা হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই জুতার জন্য আলাদা শু-ব্যাগ না থাকলেও সহজ কিছু উপায় কাজে লাগানো যায়।
একটি পরিষ্কার শাওয়ার ক্যাপ দিয়ে জুতার তলার অংশ ঢেকে নিতে পারেন। জুতার আকারের সঙ্গে এটি সহজেই মানিয়ে যায় এবং ব্যাগের ভেতরের অন্য জিনিসের সঙ্গে তলার সরাসরি সংস্পর্শও আটকায়।
বাড়িতে পুরনো, পরিষ্কার ও বড় মাপের মোজা থাকলেও তা কাজে লাগাতে পারেন। জুতার জোড়া আলাদা আলাদা মোজার মধ্যে ঢুকিয়ে নিলে তলা ঢাকা থাকবে এবং জুতাগুলোও ব্যাগের ভেতর সহজে গুছিয়ে রাখা যাবে।
পাশাপাশি না রেখে উল্টো করে সাজান
এক জোড়া জুতা পাশাপাশি রেখে দিলে ব্যাগে অনেকটা জায়গা চলে যায়। তার বদলে একটি জুতার সামনের অংশের সঙ্গে অন্যটির গোড়ালি মিলিয়ে রাখলে জায়গা কম লাগে। অর্থাৎ দু’টি জুতাকে এমনভাবে সাজাতে হবে, যাতে একটি আরেকটির ফাঁকা অংশের সঙ্গে খাপ খেয়ে যায়।
বিশেষ করে স্যুটকেসে এই কৌশল বেশ কার্যকর। ভারী জুতা থাকলে সেগুলো ব্যাগের নিচের দিকে বা চাকার কাছাকাছি রাখা ভালো। এতে ব্যাগের ওজনের ভারসাম্য বজায় থাকে এবং তার ওপর রাখা পোশাকের ওপরেও অতিরিক্ত চাপ পড়ে না।
জুতার ধরন বুঝে জায়গা ঠিক করুন
সব জুতা একইভাবে প্যাক করা যায় না। ভারী স্নিকার্স বা বুটের মতো জুতা সাধারণত ব্যাগের নিচের দিকে রাখা সুবিধাজনক। তুলনায় পাতলা স্যান্ডেল বা স্লিপার্স সহজেই পাশের ফাঁকা জায়গায় ঢুকিয়ে দেওয়া যায়।
একাধিক জোড়া নেওয়ার প্রয়োজন হলে আগে থেকেই ঠিক করে নিন, কোন জুতাটি সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করবেন। যে জোড়াটি সবচেয়ে বেশি জায়গা নেয়, সেটি সম্ভব হলে পরে যাত্রা করুন। এতে ব্যাগের ভেতরে বড় জুতার জন্য আলাদা জায়গা তৈরি করতে হবে না।
তবে দীর্ঘ যাত্রায় পায়ে আরামদায়ক জুতা পরাই ভালো। শুধুমাত্র জায়গা বাঁচাতে অস্বস্তিকর জুতা পরে ঘণ্টার পর ঘণ্টা যাতায়াত করা ঠিক নয়।
চাইলে ব্যবহার করতে পারেন শু-অর্গানাইজার
যারা নিয়মিত ভ্রমণ করেন, তাদের জন্য আলাদা শু-ব্যাগ বা শু-অর্গানাইজার বেশ কাজে আসতে পারে। বাজারে এমন বিভিন্ন ধরনের ব্যাগ পাওয়া যায়, যেখানে একাধিক জোড়া জুতো আলাদা ঘরে রাখা যায়। এতে জুতার ময়লা পোশাকের সঙ্গে মেশার সম্ভাবনা কমে এবং ব্যাগ খোলার সময়ও সবকিছু গুছিয়ে পাওয়া যায়।
তবে আলাদা ব্যাগ কিনতেই হবে এমন নয়। আগে থেকেই বাড়িতে থাকা কাপড়ের পাউচ, পুরনো বালিশের কভার কিংবা পরিষ্কার ব্যাগ দিয়েও জুতো আলাদা করে রাখা যায়।
ভেজা জুতা সরাসরি ব্যাগে নয়
বর্ষায় বা সমুদ্রের ধারে বেড়াতে গেলে জুতা ভিজে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এমন জুতা শুকনো না করে সরাসরি ব্যাগে ঢুকিয়ে ফেললে দুর্গন্ধ তৈরি হতে পারে এবং অন্য জিনিসও নষ্ট হতে পারে।
তাই ভেজা জুতা হলে আগে যতটা সম্ভব জল ঝরিয়ে বাতাসে শুকিয়ে নিন। একান্তই ভেজা অবস্থায় প্যাক করতে হলে সেটিকে পানিরোধী আলাদা ব্যাগে রাখুন এবং সুযোগ পেলেই বের করে শুকিয়ে নিন।
কম জুত, বেশি ব্যবহার
ভ্রমণের ব্যাগ যত হালকা থাকবে, সফর তত স্বচ্ছন্দ হবে। তাই প্রতিটি পোশাকের সঙ্গে আলাদা জুতা নেওয়ার বদলে এমন জোড়া বেছে নেওয়া ভালো, যা একাধিক পোশাকের সঙ্গে মানিয়ে যায়।
একটি আরামদায়ক জুতা যাত্রাপথ ও দিনের বেশির ভাগ ঘোরাঘুরির জন্য ব্যবহার করা যেতে পারে। সঙ্গে জায়গা থাকলে অন্য একটি জোড়া রাখা যায় বিশেষ অনুষ্ঠান, রাতের বেরোনো কিংবা পোশাকের সঙ্গে সাজ মিলিয়ে নেওয়ার জন্য।
শেষ পর্যন্ত ভ্রমণের প্যাকিংয়ে আসল কৌশল হল কম জিনিসে বেশি কাজ চালানো। জুতার ভেতরের ফাঁকা জায়গা কাজে লাগানো, তলা ঢেকে রাখা, জোড়াকে সঠিকভাবে সাজানো এবং প্রয়োজন অনুযায়ী জুতা বেছে নিলেই ব্যাগ অনেক বেশি গোছানো থাকবে। ফলে ভ্রমণের শুরুতেই অতিরিক্ত লাগেজের ঝামেলায় না জড়িয়ে বরং গন্তব্যের আনন্দ উপভোগ করাই সহজ হবে।









