ফ্লাইটের টিকিট কাটার সময় নামের একটি ছোট ভুলও ভ্রমণের পরিকল্পনা নষ্ট করে দিতে পারে। পাসপোর্ট বা পরিচয়পত্রের সঙ্গে টিকিটে থাকা নামের মিল না থাকলে বিমানবন্দরে যাত্রীকে নানা জটিলতার মুখে পড়তে হতে পারে। সম্প্রতি নামের অসঙ্গতির কারণে এক যাত্রীকে বিমানে উঠতে না দেওয়ার ঘটনা আবারও বিষয়টি সামনে এনেছে।
টিকিটে নাম কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?
বিমান সংস্থাগুলো সাধারণত টিকিটে থাকা যাত্রীর নাম পরিচয়পত্রের সঙ্গে মিলিয়ে দেখে। আন্তর্জাতিক ভ্রমণের ক্ষেত্রে বিশেষ করে পাসপোর্টে থাকা নাম অনুযায়ী টিকিট তৈরি করা গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স-এর নির্দেশনাতেও পাসপোর্ট বা গ্রহণযোগ্য পরিচয়পত্রে থাকা নাম অনুযায়ী টিকিট করার কথা বলা হয়েছে।
নামে ভুল থাকলে বিমানবন্দরে যাত্রীকে বিমানে উঠতে বাধা দেওয়া হতে পারে। তাই টিকিট হাতে পাওয়ার পরই নাম, জন্মতারিখসহ প্রয়োজনীয় তথ্য মিলিয়ে দেখা নিরাপদ।
বানানে সামান্য ভুল হলে কী করবেন?
সব ধরনের ভুলের নিয়ম এক নয়। কিছু বিমান সংস্থা ছোটখাটো বানান ভুল সংশোধনের সুযোগ দেয়। যেমন কয়েকটি ক্ষেত্রে অল্পসংখ্যক অক্ষরের ভুল, নামের ক্রম পরিবর্তন বা উপাধিতে সংশোধন করা যায়।
তবে নামের বড় ধরনের পরিবর্তন, অন্য ব্যক্তির নামে টিকিট পরিবর্তন বা অতিরিক্ত নাম যোগ করার ক্ষেত্রে আলাদা নিয়ম ও খরচ থাকতে পারে। তাই ভুল ধরা পড়ার সঙ্গে সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিমান সংস্থা বা যে প্রতিষ্ঠান থেকে টিকিট কেনা হয়েছে, তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা জরুরি।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সে কী নিয়ম?
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বর্তমান নির্দেশনা অনুযায়ী, টিকিট বুকিং সম্পন্ন হওয়ার পর যাত্রীর নাম পরিবর্তন, সংশোধন বা পরিমার্জনের সুযোগ নেই। ভুল নামে টিকিট তৈরি হলে বাতিল করে প্রযোজ্য কর্তন সাপেক্ষে অর্থ ফেরত নিয়ে সঠিক নামে নতুন টিকিট করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
ভ্রমণ সংস্থা বা অনলাইন ভ্রমণসেবার মাধ্যমে টিকিট কিনলে সংশোধন বা ফেরতের জন্য সাধারণত সেই প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গেই যোগাযোগ করতে হয়।
টাকা ফেরত পাওয়া যাবে কি?
এটি নির্ভর করে টিকিটের শর্ত, বিমান সংস্থা এবং টিকিট কোথা থেকে কেনা হয়েছে তার ওপর। কিছু ক্ষেত্রে নামের ভুলের কারণে টিকিট বাতিল করে নতুন টিকিট নিতে হতে পারে এবং বাতিলের জন্য নির্ধারিত অর্থ কেটে নেওয়া হতে পারে।
ভারতের ক্ষেত্রে দেশটির বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের সংশোধিত নিয়ম অনুযায়ী নির্দিষ্ট শর্তে টিকিট বুকিংয়ের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে অতিরিক্ত বাতিল বা পরিবর্তন ফি ছাড়াই পরিবর্তন বা বাতিলের সুযোগ রয়েছে। তবে এটি ভারতীয় বিমান সংস্থার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। বাংলাদেশ থেকে যাত্রার ক্ষেত্রে একই নিয়ম ধরে নেওয়া যাবে না।
বাংলাদেশি যাত্রীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়
বাংলাদেশ থেকে বিদেশে যাওয়ার ক্ষেত্রে টিকিট করার সময় পাসপোর্টে যে বানান ও নামের ক্রম রয়েছে, সেটিই হুবহু ব্যবহার করা সবচেয়ে নিরাপদ। বিশেষ করে প্রথম নাম, শেষ নাম এবং মাঝের নাম থাকলে সেগুলোর বানান ভালোভাবে মিলিয়ে দেখা উচিত।
টিকিট হাতে পাওয়ার পর ভুল চোখে পড়লে বিমানবন্দরে গিয়ে সমাধানের চেষ্টা না করে যাত্রার আগেই বিমান সংস্থা বা টিকিট বিক্রেতার সঙ্গে যোগাযোগ করা ভালো। কারণ কিছু বিমান সংস্থা যাত্রার নির্দিষ্ট সময়ের আগে নাম সংশোধনের আবেদন গ্রহণ করে না।
একটি ছোট বানান ভুলের কারণে যেন পুরো ভ্রমণ পরিকল্পনা ভেস্তে না যায়, তাই টিকিট কেনার পর কয়েক মিনিট সময় নিয়ে পাসপোর্টের সঙ্গে যাত্রীর নাম মিলিয়ে নেওয়াই হতে পারে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তুতি।