উড়োজাহাজে ভ্রমণের সময় একটি বিষয় হয়তো অনেকেরই চোখে পড়েছে, উড্ডয়নের আগে এবং অবতরণের সময় কেবিনের আলো হঠাৎ কমিয়ে দেওয়া হয়। তখন জানালার পর্দাও খোলা রাখতে বলা হয়। অনেক যাত্রীই ভাবতে পারেন, এটি হয়তো কেবল পরিবেশ আরামদায়ক রাখার জন্য করা হয়। কিন্তু এর পেছনে রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ একটি নিরাপত্তাজনিত কারণ।
উড়োজাহাজের যাত্রার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়গুলোর মধ্যে রয়েছে উড্ডয়ন ও অবতরণ। এই সময় কোনও জরুরি পরিস্থিতি তৈরি হলে দ্রুত সাড়া দেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে। তাই কেবিনের আলো কমিয়ে যাত্রীদের চোখকে বাইরের পরিবেশের আলোর সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়।
ধরুন, উড়োজাহাজটি রাতে অবতরণ করছে এবং হঠাৎ কোনও কারণে জরুরি অবতরণের প্রয়োজন হলো। কেবিনের ভেতর যদি তখন উজ্জ্বল আলো জ্বলতে থাকে, বাইরে তুলনামূলক অন্ধকার পরিবেশে তাকানোর পর যাত্রীদের চোখকে নতুন আলোর সঙ্গে মানিয়ে নিতে কিছুটা সময় লাগতে পারে। আলো কমিয়ে রাখলে চোখ অন্ধকারের সঙ্গে আগে থেকেই কিছুটা মানিয়ে নিতে পারে। ফলে জরুরি পরিস্থিতিতে বাইরে বের হওয়ার পথ, জরুরি বহির্গমন কিংবা আশপাশের পরিস্থিতি দ্রুত শনাক্ত করা সহজ হয়।
শুধু রাতের ফ্লাইটেই নয়, দিনের বেলাতেও উড্ডয়ন ও অবতরণের সময় কেবিনের আলো সামঞ্জস্য করা হতে পারে। এর পাশাপাশি জানালার পর্দা খোলা রাখার নির্দেশও নিরাপত্তার সঙ্গে সম্পর্কিত। এতে যাত্রী ও কেবিন ক্রুরা বাইরে কোনও অস্বাভাবিক পরিস্থিতি- যেমন আগুন, ধোঁয়া, বাধা বা অন্য কোনও বিপদ দ্রুত দেখতে পারেন।
জরুরি বহির্গমনের পথগুলোর আলোও এ সময় বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। কেবিনের ভেতরের আলো কম থাকলে জরুরি নির্দেশনা ও বহির্গমনপথের আলোকচিহ্ন তুলনামূলকভাবে স্পষ্ট দেখা যায়। কোনও দুর্ঘটনা বা জরুরি অবতরণের মতো পরিস্থিতিতে কয়েক সেকেন্ডও গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। তাই কেবিনের আলো কমিয়ে দেওয়ার মতো ছোট একটি নিয়মও আসলে বড় ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থার অংশ।
উড়োজাহাজে যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এমন আরও অনেক নিয়ম রয়েছে, যেগুলো সাধারণ সময়ে খুব একটা চোখে পড়ে না। সিটের পিঠ সোজা রাখা, জানালার পর্দা খোলা রাখা কিংবা উড্ডয়ন ও অবতরণের সময় কেবিনের আলো কমিয়ে দেওয়া সবকিছুর পেছনেই রয়েছে সম্ভাব্য জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত ও নিরাপদভাবে সাড়া দেওয়ার প্রস্তুতি।
তাই পরেরবার উড়োজাহাজের চাকা মাটি ছাড়ার ঠিক আগে কিংবা অবতরণের মুহূর্তে কেবিনের আলো কমে গেলে অবাক হওয়ার কিছু নেই। কয়েকটি সাধারণ নিয়মের আড়ালেই যাত্রীদের নিরাপত্তার জন্য নেওয়া থাকে গুরুত্বপূর্ণ কিছু প্রস্তুতি।