যুক্তরাষ্ট্রে এইচ-১বি ভিসা কর্মসূচির নিয়ম ইচ্ছাকৃতভাবে ভাঙলে নিয়োগকর্তাদের জন্য আরও কঠোর শাস্তির প্রস্তাব করা হয়েছে। দেশটির প্রতিনিধি পরিষদে উত্থাপিত নতুন একটি বিলে গুরুতর নিয়ম লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ২ লাখ ৫০ হাজার ডলার, অর্থাৎ বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২ কোটি ৪০ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানার কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে কিছু নিয়োগকর্তাকে সর্বোচ্চ ১০ বছর পর্যন্ত অভিবাসন কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া থেকে নিষিদ্ধ করার প্রস্তাবও রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রে কাজের জন্য এইচ-১বি ভিসা ব্যবহারকারী বাংলাদেশিদের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে দেশটির প্রতিনিধি পরিষদে উত্থাপিত নতুন এই বিল।
‘এইচ-১বি ভিসা ফ্রড ক্র্যাকডাউন অ্যাক্ট’ নামের বিলটি ১ অক্টোবর টেক্সাসের রিপাবলিকান প্রতিনিধি বেথ ভ্যান ডুয়েনি প্রতিনিধি পরিষদে উত্থাপন করেন। বিলটির মূল লক্ষ্য এইচ-১বি কর্মসূচিতে জালিয়াতি, প্রতারণা ও ইচ্ছাকৃত নিয়ম লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে শাস্তি আরও কঠোর করা।
বাংলাদেশিদের জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ
যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি, প্রকৌশল, গবেষণা ও অন্যান্য বিশেষায়িত পেশায় কাজ করা বিদেশি কর্মীদের জন্য এইচ-১বি ভিসা গুরুত্বপূর্ণ একটি কর্মসংস্থানভিত্তিক ভিসা। বাংলাদেশ থেকেও দক্ষ পেশাজীবীরা এই ভিসার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে কাজের সুযোগ পান। ফলে নতুন এই প্রস্তাবিত আইনটি বাংলাদেশি এইচ-১বি কর্মীদের নিয়োগ দেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।
তবে প্রস্তাবিত শাস্তি সরাসরি ভিসাধারী কর্মীদের লক্ষ্য করে নয়। মূলত এইচ-১বি কর্মীদের নিয়োগ দেওয়া প্রতিষ্ঠান বা নিয়োগকর্তারা নিয়ম ভাঙলে তাঁদের বিরুদ্ধে জরিমানা ও নিষেধাজ্ঞা আরোপের কথা বলা হয়েছে।
কতটা বাড়তে পারে জরিমানা
প্রস্তাবিত বিলে গুরুতর এইচ-১বি লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ জরিমানা ৩৫ হাজার ডলার থেকে বাড়িয়ে ২ লাখ ৫০ হাজার ডলার করার কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নিয়োগকর্তাকে অভিবাসন কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া থেকে ন্যূনতম তিন বছরের বদলে সর্বোচ্চ ১০ বছর পর্যন্ত নিষিদ্ধ করার প্রস্তাব রয়েছে।
এ ছাড়া অন্য ধরনের ইচ্ছাকৃত এইচ-১বি নিয়ম লঙ্ঘনের ক্ষেত্রেও জরিমানা বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে ৫ হাজার ডলারের জরিমানা বাড়িয়ে ১ লাখ ডলার করার কথা বলা হয়েছে। এসব অপরাধে নিয়োগকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞার মেয়াদও বাড়ানোর প্রস্তাব রয়েছে।
নথি জালিয়াতিতেও কড়া শাস্তি
শুধু এইচ-১বি কর্মসূচির নিয়ম লঙ্ঘন নয়, অভিবাসন-সংক্রান্ত নথি জালিয়াতির ক্ষেত্রেও জরিমানা বাড়ানোর প্রস্তাব রয়েছে। অর্থাৎ ভুয়া তথ্য বা জাল নথির মাধ্যমে অভিবাসন সুবিধা নেওয়ার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্টদের আরও বড় আর্থিক শাস্তির মুখে পড়তে হতে পারে।
এখনই কার্যকর হচ্ছে না
বাংলাদেশি এইচ-১বি ভিসাধারীদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এটি এখনও প্রস্তাবিত বিল, আইন নয়। প্রতিনিধি পরিষদে বিলটি উত্থাপনের পর তা সংশ্লিষ্ট কমিটির বিবেচনায় রয়েছে। আইন হিসেবে কার্যকর হওয়ার আগে কংগ্রেসের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে এবং প্রেসিডেন্টের অনুমোদন প্রয়োজন হবে।
তাই প্রস্তাবিত ২ কোটি ৪০ লাখ টাকা জরিমানা বা ১০ বছরের নিষেধাজ্ঞা এখনই কার্যকর হচ্ছে না। তবে বিলটি আইনে পরিণত হলে যুক্তরাষ্ট্রে এইচ-১বি কর্মী নিয়োগ দেওয়া বাংলাদেশিসহ বিদেশি কর্মীদের নিয়োগকর্তাদের ওপর এর প্রভাব পড়তে পারে।