চট্টগ্রাম শহরের ব্যস্ততার মাঝেও এমন কিছু জায়গা আছে, যেগুলো শুধু একটি স্থান নয়, শহরের সংস্কৃতি ও ইতিহাসের অংশ হয়ে উঠেছে। চেরাগী পাহাড় তেমনই একটি পরিচিত নাম। আড্ডা, সাহিত্য, সংস্কৃতি আর নগরজীবনের নানা গল্পের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে জড়িয়ে আছে এই এলাকা।
চেরাগী পাহাড় চট্টগ্রাম শহরের আন্দরকিল্লা ও জামালখান এলাকার কাছাকাছি একটি ঐতিহাসিক স্থান। শহরের পুরোনো অংশে অবস্থান হওয়ায় আশপাশের এলাকাজুড়ে ছড়িয়ে আছে নানা ঐতিহাসিক স্থাপনা, পুরোনো সড়ক ও নগরজীবনের স্মৃতি। ফলে চট্টগ্রাম ঘুরতে গেলে দর্শনীয় স্থাপনার পাশাপাশি শহরের নিজস্ব সংস্কৃতি অনুভব করতেও চেরাগী পাহাড়ে যেতে পারেন।
চেরাগী পাহাড় নামটির সঙ্গেও জড়িয়ে আছে নানা লোককথা। প্রচলিত একটি কাহিনি অনুযায়ী, একসময় এখানে চেরাগ বা প্রদীপ জ্বালানোর সঙ্গে সম্পর্কিত একটি ঘটনা থেকেই জায়গাটির নাম ‘চেরাগী পাহাড়’ হয়েছে। তবে এই নামের ইতিহাস নিয়ে স্থানীয়ভাবে একাধিক মত প্রচলিত রয়েছে।
সময়ের সঙ্গে চেরাগী পাহাড় চট্টগ্রামের সাংস্কৃতিক পরিসরের একটি পরিচিত আড্ডাস্থলে পরিণত হয়েছে। সাহিত্যিক, শিল্পী, সাংবাদিক, সংস্কৃতিকর্মী ও তরুণদের আনাগোনায় জায়গাটি পেয়েছে আলাদা পরিচিতি। বিভিন্ন সময় সাংস্কৃতিক আয়োজন, আলোচনা ও আড্ডার কারণেও চেরাগী পাহাড়ের নাম উঠে আসে।
ভ্রমণকারীদের জন্য চেরাগী পাহাড়ের আকর্ষণ মূলত এর ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক আবহে। এখানে এসে চট্টগ্রামের পুরোনো নগরজীবনের স্বাদ নেওয়ার পাশাপাশি আশপাশের ঐতিহাসিক স্থানগুলোও ঘুরে দেখা যায়। বিশেষ করে একদিনের শহরভ্রমণে চেরাগী পাহাড়কে অন্য দর্শনীয় স্থানের সঙ্গে যুক্ত করলে চট্টগ্রামের ইতিহাস ও সংস্কৃতিকে কাছ থেকে বোঝার সুযোগ তৈরি হয়।
চট্টগ্রামকে পাহাড়, সমুদ্র কিংবা প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের শহর হিসাবে দেখলে তার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক বাদ পড়ে যায়। এই শহরের অলিগলিতে ছড়িয়ে আছে বহু বছরের ইতিহাস ও মানুষের সাংস্কৃতিক চর্চার গল্প। সেই গল্পেরই একটি পরিচিত অধ্যায় চেরাগী পাহাড়।