ইংল্যান্ডের শ্রপশায়ার অঞ্চলের ১৮৫ মাইল দীর্ঘ পদযাত্রার পথকে ছোট ছোট অংশে ভাগ করে পর্যটকদের জন্য তৈরি করা হয়েছে বিশেষ ভ্রমণ পরিকল্পনা। ট্রেনে সহজে পৌঁছে প্রকৃতির সৌন্দর্য, ঐতিহাসিক স্থাপনা, বন্যপ্রাণী এবং স্থানীয় খাবারের স্বাদ নেওয়ার সুযোগ রয়েছে এই পথে।
দু’দিনের এই ভ্রমণের নাম ‘হার্ট অব দ্য হিলস’। যাত্রা শুরু ঐতিহাসিক শ্রুসবেরি শহর থেকে। টিউডর যুগের স্থাপত্য, স্বাধীনভাবে পরিচালিত দোকান এবং নানা রেস্তরাঁয় সমৃদ্ধ শহরটি ঘুরে দেখার পাশাপাশি এখানে প্রায় ৪০০ বছর পর বিভারের বংশবিস্তারের খবরও বিশেষ আকর্ষণ তৈরি করেছে। শহরের কাছে ‘ওল্ড রিভার বেড’ প্রকৃতি সংরক্ষণ এলাকায় বন্যপ্রাণী পুনর্বাসন প্রকল্প দেখার সুযোগ রয়েছে।
শ্রুসবেরি থেকে হাঁটতে হাঁটতে পথ এগিয়ে যায় শান্ত গ্রাম, সবুজ পাহাড় ও বনভূমির মধ্য দিয়ে। পথে রয়েছে ‘লিথ হিল কান্ট্রি পার্ক’, ওয়াইল্ডারলি হিল এবং দ্বাদশ শতকের সেন্ট মার্গারেটস গির্জা। এই অঞ্চলের ইতিহাসের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে ‘সিন-ইটার’ নামে পরিচিত এক অদ্ভুত প্রথার স্মৃতিও।
পদযাত্রার অন্যতম আকর্ষণ ‘দ্য ব্রিজেস’ পানশালা। অনি নদীর তীরে অবস্থিত এই জায়গায় ঐতিহ্যবাহী পরিবেশের পাশাপাশি অতিথিদের থাকার ব্যবস্থাও রয়েছে। স্থানীয় খামারে উৎপাদিত উপকরণ দিয়ে তৈরি খাবার এখানকার বিশেষত্ব। কাছেই রয়েছে ষোড়শ শতকের ঐতিহ্যবাহী হোটেল ‘লায়ন অ্যান্ড ফিজ্যান্ট’।
দ্বিতীয় দিনে প্রায় ১২ মাইল পথ পেরিয়ে গন্তব্য বিশপস ক্যাসল। পথে স্টিপারস্টোনসের জাতীয় প্রকৃতি সংরক্ষণ এলাকায় কোয়ার্টজাইট পাথরের খাঁজকাটা শৈলশিরা এবং ‘ডেভিলস চেয়ার’ নামে পরিচিত পাথুরে চূড়া দেখা যায়। খোলা পাহাড়ি তৃণভূমি, পাখির ডাক ও বিস্তীর্ণ প্রাকৃতিক দৃশ্য এই পথের আকর্ষণ বাড়িয়ে দেয়।
বিশপস ক্যাসলে পৌঁছে দেখা যায় কাঠের কাঠামোয় তৈরি ঐতিহ্যবাহী বাড়িঘর। শহরের ‘পোয়েট্রি ফার্মেসি’ও ব্যতিক্রমী আকর্ষণ এখানে ওষুধের বদলে অনুভূতি অনুযায়ী বেছে নেওয়া কবিতার পঙ্ক্তি পাওয়া যায়। এ ছাড়া রয়েছে ঐতিহাসিক দুর্গের অবশিষ্টাংশ এবং সুন্দর বাগানসহ ‘ক্যাসল হোটেল’।
প্রকৃতি, ইতিহাস, সুস্বাদু খাবার ও গ্রামীণ আতিথেয়তায় শ্রপশায়ার ওয়ের এই ছোট্ট অংশ সপ্তাহান্তের পদযাত্রার জন্য আকর্ষণীয়। পুরো পথ হাঁটার সময় না থাকলেও ট্রেন ও স্থানীয় পরিবহণের সাহায্যে এই অঞ্চলের সৌন্দর্য উপভোগ করা সম্ভব।