ভারতের সুখনা হ্রদ পেলো আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি, ঘুরে আসতে পারেন আপনিও

ফিচার ডেস্ক
২২ অক্টোবর ২০২৬, ১৫:৩১ আপডেট : ২২ অক্টোবর ২০২৬, ১৫:৩১

ভারতের চণ্ডীগড় শহরে পাহাড়ের ছায়ায় শান্ত পরিবেশে সময় কাটানোর জন্য পরিচিত সুখনা হ্রদ। এবার জলাভূমিটি পেল আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি। রামসার কনভেনশনের আন্তর্জাতিক গুরুত্বসম্পন্ন জলাভূমির তালিকায় যুক্ত হয়েছে সুখনা হ্রদ। ফলে জলাভূমিটির প্রাকৃতিক পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য ও সংরক্ষণের বিষয়টি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আরও গুরুত্ব পেয়েছে।

রামসার তালিকায় সুখনা জলাভূমিকে ২৬০২ নম্বর স্থান দেওয়া হয়েছে। এর অন্তর্ভুক্তির ফলে ভারতে রামসার স্বীকৃতিপ্রাপ্ত জলাভূমির সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০৩টিতে। ভারতের কেন্দ্রীয় পরিবেশমন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এ খবর জানিয়ে বলেন, চণ্ডীগড়ের সুখনা হ্রদ এবং উত্তর প্রদেশের সৌজ ঝিল রামসার তালিকায় সর্বশেষ যুক্ত হয়েছে।

সুখনা লেকে সুর্যাস্ত দেখা (ছবি: সংগৃহীত)

কেন গুরুত্বপূর্ণ রামসার স্বীকৃতি?

আন্তর্জাতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ জলাভূমি সংরক্ষণের উদ্দেশে ১৯৭১ সালে ইরানের রামসার শহরে একটি আন্তর্জাতিক চুক্তি গৃহীত হয়। শহরটির নাম অনুসারে চুক্তিটি পরিচিত রামসার কনভেনশন নামে। যেসব জলাভূমি জীববৈচিত্র্য রক্ষা, বন্য প্রাণীর আবাসস্থল বজায় রাখা এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে, সেগুলোকে এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

রামসার স্বীকৃতির অর্থ কোনও জলাভূমিতে সব ধরনের কর্মকাণ্ড বন্ধ করে দেওয়া নয়। বরং জলাভূমির বাস্তুতন্ত্র রক্ষা, প্রাকৃতিক সম্পদের দায়িত্বশীল ব্যবহার এবং দীর্ঘমেয়াদি সংরক্ষণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

পাহাড়ের কোলে সুখনা হ্রদ

চণ্ডীগড়ের সেক্টর ১-এ অবস্থিত সুখনা হ্রদ তৈরি করা হয় ১৯৫৮ সালে। শিবালিক পাহাড় থেকে নেমে আসা মৌসুমি সুখনা ছোয়ে জলধারায় বাঁধ নির্মাণের মাধ্যমে এর সৃষ্টি। বৃষ্টির পানিনির্ভর এই হ্রদের পেছনে রয়েছে সবুজ পাহাড়ের সারি। শহরের ব্যস্ত রাস্তা ও কোলাহল ছেড়ে কিছুটা সময় প্রকৃতির কাছে কাটাতে স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি পর্যটকেরাও এখানে আসেন।

হ্রদের পানিতে পাহাড়ের ছায়া, খোলা আকাশ আর চারপাশের সবুজ পরিবেশে তৈরি হয়েছে শান্ত এক পরিসর। সকালে হাঁটাহাঁটি, বিকালে পানির ধারে বসে থাকা কিংবা শীতকালে পাখি দেখার জন্য সুখনা হ্রদে যেতে পারেন ভ্রমণপিপাসুরা।

নির্দিষ্ট ভাড়ায় টিকিট কেটে নৌকায় করে ঘুরে দেখতে পারবেন পুরো লেক (ছবি: সংগৃহীত)

নৌকায় ঘোরা থেকে পাখি দেখা

সুখনা হ্রদে গেলে নৌকায় চড়ার অভিজ্ঞতা নিতে পারেন। এখানে প্যাডেল বোটসহ বিভিন্ন ধরনের নৌকায় ঘোরার ব্যবস্থা রয়েছে। পানির ওপর দিয়ে এগিয়ে যেতে যেতে চারপাশের পাহাড় ও প্রাকৃতিক দৃশ্য দেখা যায়। নৌকায় চড়ার জন্য অবশ্য আলাদা টিকিট কিনতে হয়।

সকালে হ্রদের পাড় ধরে হাঁটা কিংবা দৌড়ানোর জন্যও জায়গাটি বেশ জনপ্রিয়। তুলনামূলক নিরিবিলি পরিবেশে সময় কাটাতে চাইলে ভোরে যাওয়া ভালো। দিনের অন্য সময়ে পানির ওপর আলো-ছায়ার পরিবর্তনও উপভোগ করা যায়।

সুখনা লেকে শীতকালে বসে পরিযায়ী পাখির মেলা (চবি: সংগৃহীত)

শীতকালে পরিযায়ী পাখি দেখতে আগ্রহীদের জন্য সুখনা হ্রদ হতে পারে ভালো একটি জায়গা। এখানে বিভিন্ন প্রজাতির জলচর পাখি দেখা যায়।

হ্রদের এক প্রান্তে রয়েছে গার্ডেন অব সাইলেন্স। সেখানে বসা অবস্থায় বুদ্ধের একটি মূর্তি রয়েছে। নিরিবিলি পরিবেশে কিছুক্ষণ বসে থাকা কিংবা ব্যস্ততা থেকে বিরতি নেওয়ার জন্য বাগানটি ঘুরে দেখতে পারেন। এ ছাড়া হ্রদের আশপাশে ছবি তোলা, পানির ধারে বসে সময় কাটানো এবং স্থানীয় খাবারের দোকানে হালকা নাশতা খাওয়ার সুযোগও রয়েছে।

কখন যাবেন, কোথায় থাকবেন?

সুখনা হ্রদের ঠিকানা ভারতের চণ্ডীগড়ের সেক্টর ১। সাধারণ দর্শনার্থীদের প্রবেশমূল্য নেই। প্রতিদিন সকাল ৫টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত হ্রদটি খোলা থাকে। তবে সময়সূচি পরিবর্তিত হতে পারে। শীতকাল পাখি দেখার জন্য বিশেষভাবে উপযোগী। তবে হাঁটাহাঁটি, ছবি তোলা কিংবা শান্ত পরিবেশে সময় কাটানোর জন্য বছরের অন্য সময়েও যাওয়া যায়।

কীভাবে পৌঁছাবেন?

বাংলাদেশ থেকে সুখনা হ্রদে যেতে হলে প্রথমে ভারতের চণ্ডীগড়ে পৌঁছাতে হবে। বিমানে গেলে চণ্ডীগড়ের শহীদ ভগৎ সিং আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ট্যাক্সি বা ক্যাবে হ্রদে যাওয়া যায়। ট্রেনে চণ্ডীগড় জংশন রেলওয়ে স্টেশনে পৌঁছে অটোরিকশা, ট্যাক্সি বা অন্য স্থানীয় যানবাহন ব্যবহার করা যায়। উত্তর ভারতের বিভিন্ন শহর থেকে সড়কপথেও চণ্ডীগড়ে যাওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে।

কাছেই রয়েছে রক গার্ডেন

সুখনা হ্রদ ঘুরে দেখার পরিকল্পনা করলে কাছের রক গার্ডেনেও যেতে পারেন। শিল্পী নেক চাঁদের তৈরি এই বাগানে পরিত্যক্ত ও পুনর্ব্যবহৃত সামগ্রী দিয়ে তৈরি নানা ভাস্কর্য রয়েছে। একই দিনে সুখনা হ্রদ ও রক গার্ডেন ঘুরে দেখলে চণ্ডীগড়ের প্রকৃতি ও শিল্পকর্ম দুইয়েরই স্বাদ পাওয়া যাবে।

রামসার স্বীকৃতির পর সুখনা হ্রদ চণ্ডীগড়ের পরিচিত জলাশয়ের পাশাপাশি আন্তর্জাতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ জলাভূমি হিসাবেও নতুন পরিচিতি পেয়েছে। ভ্রমণে গেলে এর প্রাকৃতিক পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখা, পাখিদের বিরক্ত না করা এবং জলাভূমির সংরক্ষণবিধি মেনে চলা জরুরি।

 

/এমএএল/
সম্পর্কিত
ভারতীয় ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করার আশ্বাস হাইকমিশনারের
অনলাইন বুকিংয়ে প্রতারণার ঝুঁকি, বুকিংডটকম-এর বিরুদ্ধে ইইউর তদন্ত
মুক্তির প্রথম সপ্তাহেই ইতিহাস গড়লো রজনীকান্তের ‘জেলার ২’
সর্বশেষ খবর
ভারতীয় ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করার আশ্বাস হাইকমিশনারের
ভারতীয় ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করার আশ্বাস হাইকমিশনারের
মন্দিরে অঝোরে কাঁদলেন সারা, কারণ অজানা
মন্দিরে অঝোরে কাঁদলেন সারা, কারণ অজানা
৪৪ বছরেই কি থামতে হচ্ছে অ্যান্ডারসনকে? 
৪৪ বছরেই কি থামতে হচ্ছে অ্যান্ডারসনকে? 
আইনের শাসনে দুই ধাপ এগিয়েছে বাংলাদেশ, তবু পিছিয়ে বহু দেশের চেয়ে
আইনের শাসনে দুই ধাপ এগিয়েছে বাংলাদেশ, তবু পিছিয়ে বহু দেশের চেয়ে
সর্বাধিক পঠিত
ঢাকার কাছেই মিলতে পারে গ্যাস, কূপ খননের পরিকল্পনা
ঢাকার কাছেই মিলতে পারে গ্যাস, কূপ খননের পরিকল্পনা
সাত দিন পর কারামুক্ত হলেন ককরোচ নেতা সৌরভ-রাঙ্কা
সাত দিন পর কারামুক্ত হলেন ককরোচ নেতা সৌরভ-রাঙ্কা
ডিভি লটারি ২০২৭: আবেদন শুরু হচ্ছে কবে?
ডিভি লটারি ২০২৭: আবেদন শুরু হচ্ছে কবে?
অর্ধেক টাকা খরচের পর সাড়ে ৬ হাজার কোটির প্রকল্প বাতিল, এবার হবে মহাসড়ক
অর্ধেক টাকা খরচের পর সাড়ে ৬ হাজার কোটির প্রকল্প বাতিল, এবার হবে মহাসড়ক
যুবদল নেতার লাশের গোসলের সময় বের হলো রহস্য, মাথার খুলির ভেতরে বুলেট
যুবদল নেতার লাশের গোসলের সময় বের হলো রহস্য, মাথার খুলির ভেতরে বুলেট