বিদেশ ভ্রমণের পরিকল্পনায় ইউরোপের প্যারিস, লন্ডন কিংবা ইতালির জাদুঘরগুলোর নামই সাধারণত আগে আসে। তবে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি দর্শনার্থীর ভিড় যে জাদুঘরে, সেটি ইউরোপে নয়, চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে। থিমড এন্টারটেইনমেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের (টিইএ) সমীক্ষা অনুযায়ী, ২০২৫ সালে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি মানুষ ঘুরে দেখেছেন চীনের প্যালেস মিউজিয়াম। ‘ফরবিডেন সিটি’ নামেও পরিচিত এই ঐতিহাসিক প্রাসাদে গত বছর দর্শনার্থীর সংখ্যা ছিল ১ কোটি ৯০ লাখের বেশি।
মিং ও ছিং রাজবংশের আমলের শিল্পকর্ম, প্রত্নবস্তু ও ঐতিহাসিক নিদর্শনে সমৃদ্ধ এই জাদুঘর চীনের ইতিহাস ও রাজকীয় জীবনযাত্রার পরিচয় তুলে ধরে। একই তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে বেইজিংয়ের সামার প্যালেস। তৃতীয় স্থানে সম্রাট ছিন শি হুয়াংয়ের সমাধিস্থল জাদুঘর, যা টেরাকোটা আর্মির জন্য বিখ্যাত। শীর্ষ পাঁচে রয়েছে প্যারিসের ল্যুভর ও ফ্রান্সের ভার্সাই জাদুঘরও।
কেন দেখবেন ফরবিডেন সিটি
বিশ্বের বৃহত্তম প্রাসাদ কমপ্লেক্স হিসেবে পরিচিত ফরবিডেন সিটি নির্মিত হয়েছিল ১৪০৬ থেকে ১৪২০ সালের মধ্যে। চীনের একাধিক রাজবংশের সম্রাটদের আবাসস্থল ও প্রশাসনিক কেন্দ্র ছিল এটি। ১৯২৪ সাল পর্যন্ত সাধারণ মানুষের প্রবেশাধিকার ছিল না এই প্রাসাদে। সম্রাট ও তাঁর অনুমোদিত ব্যক্তিরাই কেবল এখানে প্রবেশ করতে পারতেন। ১৯২৫ সালে শেষ সম্রাটের সিংহাসন ত্যাগের পর প্রাসাদটির নাম হয় প্যালেস মিউজিয়াম।
এখানে ঘুরে দেখতে পারেন আউটার কোর্ট ও থ্রি গ্রেট হলস। মধ্যযুগীয় চীনা স্থাপত্যের অনন্য নিদর্শন এই স্থাপনাগুলি। হল অব সুপ্রিম হারমনি ছিল রাজকীয় গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠান আয়োজনের স্থান। এ ছাড়া ট্রেজার গ্যালারির নাইন ড্রাগন স্ক্রিন এবং পূর্ব ও পশ্চিম প্রাসাদও দর্শনার্থীদের আকর্ষণ করে। কাছেই রয়েছে বেইজিংয়ের বিখ্যাত তিয়েনআনমেন স্কোয়ার। ফলে একই সফরে শহরের আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দর্শনীয় স্থান ঘুরে দেখার সুযোগ রয়েছে।
কখন যাবেন, টিকিট কত
প্যালেস মিউজিয়াম সারা বছর খোলা থাকলেও প্রতি সোমবার সাধারণত বন্ধ থাকে। ১ এপ্রিল থেকে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত সকাল সাড়ে ৮টা থেকে বিকেল ৫টা এবং ১ নভেম্বর থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত সকাল সাড়ে ৮টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের প্রবেশের সুযোগ থাকে।
ব্যস্ত মৌসুমে প্রবেশমূল্য ৬০ ইউয়ান, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১ হাজার ১২০ টাকা। অন্য সময়ে টিকিটের দাম ৪০ ইউয়ান বা প্রায় ৭৫০ টাকা। টিকিট দ্রুত শেষ হয়ে যেতে পারে বলে আগেভাগে বুকিং করা ভালো। বাংলাদেশ থেকে বেইজিং ভ্রমণের পরিকল্পনা করলে চীনের ভিসার নিয়ম, বিমানভাড়া ও থাকার খরচ আগেই জেনে নিন। জাদুঘরের টিকিটের দাম ও প্রবেশের সময়ও যাত্রার আগে সরকারি ওয়েবসাইটে যাচাই করে নেওয়া জরুরি।