ডিজনির দুই থিম পার্কে বন্ধ দরজার ওপাশে...

Send
জার্নি ডেস্ক
প্রকাশিত : ০৯:৪০, মে ০৯, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ০৯:৪০, মে ০৯, ২০২০

ম্যাজিক কিংডমের মূল সড়কে যুক্তরাষ্ট্রের পতাকা উত্তোলন করা হয় প্রতিদিন সকালেওয়াল্ট ডিজনি কোম্পানির থিম পার্কগুলো করোনাভাইরাস দুর্যোগের কারণে গত মার্চের মাঝামাঝি থেকে বন্ধ রয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা ও ক্যালিফোর্নিয়ায় অবস্থিত দুটি পার্ক। এগুলো আবার কবে খুলবে তা জানা নেই কারও।
তবে দরজা বন্ধ থাকলেও পার্কে ভূতুড়ে পরিবেশ নেই। প্রতিদিনের কার্যক্রম ঠিকই চলছে। প্রাণীরাও বাচ্চা প্রসব করছে। শুধু দর্শনার্থী নেই, এই যা!

ফ্লোরিডার ওয়াল্ট ডিজনি ওয়ার্ল্ড রিসোর্টে প্রথা অনুযায়ী প্রতিদিন সকালে ম্যাজিক কিংডমের মূল সড়কে যুক্তরাষ্ট্রের পতাকা উত্তোলন করা হয়। তিনজন নিরাপত্তারক্ষীর পতাকা তোলার একটি ভিডিও শেয়ার করেছে ডিজনি পার্কস ব্লগ।

ওয়াল্ট ডিজনি ওয়ার্ল্ড রিসোর্টের সভাপতি জশ ডি’মারোওয়াল্ট ডিজনি ওয়ার্ল্ডের সভাপতি জশ ডি’মারো বলেন, ‘আমাদের পৃথিবী এখন অনেক আলাদা দেখাচ্ছে। তবে এই পার্কে এখনও আমেরিকান পতাকা উড়ছে। আমাদের নিরাপত্তারক্ষীরা ম্যাজিক কিংডমে প্রতিদিন সকালে এই কাজ করছে দেখে আমি অনুপ্রাণিত।’

ওয়াল্ট ডিজনি ওয়ার্ল্ড রিসোর্ট ঘুরে দেখার সময় তোলা একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করেছেন জশ ডি’মারো। তিনি জানান, এপকট পার্কের কর্মীরা এখনও দৃষ্টিনন্দন ফুল বাগান ও মিকি মাউসের পরিচর্যা করছে।

ম্যাজিক কিংডমে স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রতি সম্মান জানানো হয়গত মাসে ওয়াল্ট ডিজনি ওয়ার্ল্ড রিসোর্ট কর্তৃপক্ষ কোভিড-১৯ রোগের সঙ্গে লড়াই করা স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করেছে। এজন্য ম্যাজিক কিংডমের সিন্ডেরেলা’স ক্যাসেল নীল রঙের আলোয় সাজানো হয়।

ওয়াল্ট ডিজনি ওয়ার্ল্ডের অ্যানিমেল কিংডমের একজন কর্মী শজারু শাবকের দেখাশোনা করছেনফ্লোরিডার অ্যানিমেল কিংডমের কর্মীরা নতুন দুই প্রাণীর জন্ম হওয়ায় ব্যস্ত সময় কাটিয়েছে। এর মধ্যে পার্ক বন্ধ হওয়ার আগে কন্যা শজারু পৃথিবীর আলো দেখেছে গত ২৫ ফেব্রুয়ারি। তার যত্ন নিচ্ছে একটি দল। লকডাউন চলাকালে পার্কের সব প্রাণীর দেখাশোনা করছে তারা।

অ্যানিমেল কিংডমের নতুন আরেক বাসিন্দা শিশু জেব্রা। তার নাম রাখা হয়েছে ‘আশা’। সে জন্মেছে গত ২১ মার্চ। ৬৫ পাউন্ড ওজনের এই জেব্রা আধাঘণ্টা পরই দাঁড়িয়েছে।

ওয়াল্ট ডিজনি ওয়ার্ল্ডের অ্যানিমেল কিংডমের নতুন বাসিন্দা ‘আশা’অন্যদিকে ক্যালিফোর্নিয়ার ডিজনিল্যান্ড রিসোর্টের পারফরমাররা ঘরে বসে অনুশীলন চালিয়ে যাচ্ছেন। তারা মূলত ডিজনিল্যান্ড পার্কের মূল সড়কে দর্শনার্থীদের বিনোদন দিয়ে থাকেন।

পার্কটিতে ওয়াল্ট ডিজনি’স অ্যাপার্টমেন্টে ভিক্টোরিয়ান ঢঙের বাতি জ্বালানো হয় প্রতি রাতে। কয়েক দশক ধরে চলছে এই প্রথা। ডিজনিল্যান্ডের সভাপতি রেবেকা ক্যাম্পবেল বলেন, ‘আমাদের পারফরমার ও অতিথিদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হিসেবে একজন ব্যক্তির স্মৃতিতে এটি জ্বলে, যিনি জানালা দিয়ে নিচে সুখী পরিবার দেখতেন। এখন অনিশ্চয়তায় ভরা বিশ্বেও সেই আলো বরাবরের মতো উজ্জ্বল।’

ডিজনিল্যান্ড পার্কে প্রতি রাতে আলোকিত হচ্ছে ওয়াল্ট ডিজনির অ্যাপার্টমেন্টজানা গেছে, ২০২১ সালের আগে আমেরিকায় ডিজনির থিম পার্কগুলো খোলার সম্ভাবনা নেই। কারণ সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার নিয়মকানুন মানতে ব্যাপক প্রস্তুতি দরকার। এছাড়া বিভিন্ন দেশে আরোপিত ভ্রমণের বিধিনিষেধ তো আছেই। তাই দর্শনার্থীও তেমন আসতে পারবে বলে মনে হয় না।  

পার্ক বন্ধ রাখায় ব্যাপক লোকসান গুনতে হচ্ছে। গত মাসে ওয়াল্ট ডিজনি কোম্পানি জানায়, প্রতি মাসে তাদের ১ লাখ কর্মীর বেতন দিতে ৫০ কোটি ডলার প্রয়োজন।

তথ্যসূত্র: ডেইলি মেইল

/জেএইচ/
টপ