দিনাজপুরের আশুরার বিল ও জাতীয় উদ্যানের নতুন রূপ

Send
হালিম আল রাজী, হিলি
প্রকাশিত : ২৩:০২, মে ২৮, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ২৩:০৪, মে ২৮, ২০২০

আশুরার বিলে পদ্মপদ্ম, শাপলা, কচুরিপানার ফুলের চাদরে ঢেকে গেছে বিল। অতিথি পাখির কিচিরমিচির শব্দে মুখরিত চারদিক। বনের শাল, সেগুন, গামার, কড়ই ও জাম গাছে নতুন পাতার রঙ। দিনাজপুরের নবাবগঞ্জে অবস্থিত আশুরার বিল ও শেখ রাসেল জাতীয় উদ্যানে এখন এমন মনোরম পরিবেশ।

করোনাভাইরাসের বিস্তার রোধে দেশে চলছে সাধারণ ছুটি। এ কারণে বিল ও বনে দর্শনার্থীদের পদচারণা নেই। এ সময় প্রকৃতিতে দেখা যাচ্ছে নতুন সাজ। বিভিন্ন ধরনের অতিথি পাখি বিচরণ করছে। শাপলা, পদ্মসহ কচুরিপানার ফুলে ফুলে ভরে গেছে বিলের পানি। সুনসান নীরবতা ও পাখিদের কিচিরমিচির শব্দে চারদিকে দারুণ আবহ।

শেখ রাসেল জাতীয় উদ্যানকোভিড-১৯ মহামারির কারণে প্রশাসনিকভাবে পর্যটক উপস্থিতি নিষিদ্ধ রয়েছে আশুরার বিলে। জনসমাগম বন্ধ হওয়ার দুই মাসে বদলে গেছে বিল ও বনের রূপ। এখন বেশ অপরূপ লাগছে জায়গাটি। জীববৈচিত্র্যের সৌন্দর্য দেখা যাচ্ছে। সব মিলিয়ে অপরূপ সৌন্দর্যের লীলাভূমিতে পরিণত হয়েছে বিল ও বন।

আশুরার বিলে পদ্মস্থানীয় এলাকাবাসী রফিকুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘করোনাভাইরাসের কারণে লোকজন আসা বন্ধ থাকায় বিলে ও বনে এখন নিরিবিলি পরিবেশ। তাই প্রকৃতি স্বরূপে সেজেছে। ফলে বিপুলসংখ্যক অতিথি পাখি আসছে। আগেও পাখি আসতো, কিন্তু এত বেশি দেখিনি। বিশেষ করে ভোর থেকে শুরু করে সকাল ৮টা-৯টা পর্যন্ত তিন-চার হাজার অতিথি পাখির দেখা মেলে রোজ। বিকাল ৫-৬টা থেকে রাতভর এখানে পাখি থাকে।’

শেখ রাসেল জাতীয় উদ্যাননবাবগঞ্জ বিট কর্মকর্তা খায়রুল ইসলাম মনে করেন, জনসমাগম না থাকার সুবাদে শেখ রাসেল জাতীয় উদ্যান ও আশুরার বিলের রূপ বেড়েছে। শাপলা ও পদ্ম ফুলে বিল ছেয়ে গেছে। বনের গাছগুলো নতুন পাতায় সেজেছে। সেই সঙ্গে পরিযায়ী পাখিরা বিল ও বনে মনের আনন্দে উড়ে বেড়াচ্ছে। সব মিলিয়ে নয়নাভিরাম পরিবেশ।

আশুরার বিলে অতিথি পাখিসচেতনভাবে পর্যটন কার্যাবলী পরিচালনা করলে প্রকৃতির সৌন্দর্য ধরে রাখা সম্ভব বলে মনে করেন এই বিট কর্মকর্তা। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমরা যারা দায়িত্বে নিয়োজিত আছি, সবাই যদি সজাগ থাকি তাহলে বিল ও বনটি নতুনের মতো রাখতে পারবো।’

আশুরার বিলে পদ্মবিট কার্যালয় সূত্র জানায়, ৫১৭ দশমিক ৬১ হেক্টর সংরক্ষিত বনাঞ্চল নিয়ে শেখ রাসেল জাতীয় উদ্যান। এতে ২০-৩০ প্রজাতির গাছ রয়েছে। আগে এটি ছিল শালবন। ২০১০ সালে জাতীয় উদ্যান স্বীকৃতি পেয়েছে এই জায়গা। পরবর্তী সময়ে এর নাম রাখা হয় শেখ রাসেল জাতীয় উদ্যান। বনের মধ্যে ৩৬০ হেক্টর এলাকাজুড়ে অবস্থিত দর্শনীয় আশুরার বিলকে মাছের অভয়াশ্রম হিসেবে ঘোষণা দেয় কর্তৃপক্ষ। এখানে বিভিন্ন প্রজাতির দেশীয় মাছ পাওয়া যায়।

আশুরার বিলএকসময় অবহেলা ও সুষ্ঠু পরিকল্পনার অভাবে আশুরার বিলের জৌলুস মলিন হতে বসে। দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ দখলে থাকা দর্শনীয় এই স্থান উপজেলা প্রশাসন নিজেদের আয়ত্তে নেয়। বিলের পানি ধরে রাখার জন্য রয়েছে ক্রস রাবার ড্যাম। একইসঙ্গে বিল ও বনের মধ্যে সংযোগ স্থাপনের জন্য গড়ে তোলা হয় দেশের বৃহত্তম জেড আকৃতির ফজিলাতুন্নেছা মুজিব আঁকাবাঁকা কাঠের সেতু। এরপর থেকে আশুরার বিল ও জাতীয় উদ্যান পর্যটকদের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে।

/জেএইচ/
টপ