সংসদ সদস্য নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মের বাবা মাসুম বিল্লাহর থানায় দায়ের করা এজাহারে নজরুল ইসলাম, তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলাম ছাড়াও ঘটক ওবায়দুর রহমানকেও আসামি করা হয়েছে।
এজাহারে বলা হয়েছে, “আমি (মাসুম বিল্লাহ) পেশায় একজন মুদি দোকানদার। আমার তিন মেয়ে। ভিকটিম মরিয়ম (১৯) আমার বড় মেয়ে। ১ নম্বর আসামি জিএম নজরুল ইসলাম (৭৫) আমার বড় মেয়ের স্বামী। ২ নম্বর আসামি মোছা. মাকছুদা ইসলাম (৬৫) আমার মেয়ে ভিকটিম মরিয়মের (১৯) স্বামীর প্রথম স্ত্রী। ৩ নম্বর আসামি মো. ওবায়দুর রহমান (৩৮) আমার শ্যালক।
“গত জুন/২০২৬ তারিখ ১ নম্বর আসামির সহিত আমার মেয়ের ইসলামী শরীয়াহ মোতাবেক বিবাহ হয়। ১ নম্বর আসামি সংসদ সদস্য হওয়ায় তিনি আমার মেয়ে ভিকটিম মরিয়ম (১৯) ও ১ নম্বর আসামির প্রথম স্ত্রী ২ নম্বর আসামি মোছা. মাকছুদা ইসলাম (৬৫)-সহ শেরেবাংলা নগর থানাধীন মানিক মিয়া এভিনিউ এলাকাস্থ সংসদ ভবনের বিপরীত পাশে ন্যাম ভবনের ৫ নম্বর বিল্ডিংয়ের ৩য় তলায় ২০৩ নম্বর বাসায় বসবাস করিত। ৩ নম্বর আসামি মো. ওবায়দুর রহমানের (৩৮) প্রত্যক্ষ প্ররোচনায় ১ নম্বর আসামির সহিত আমার মেয়ে ভিকটিম মরিয়মের (১৯) বিবাহ হয়। বিবাহের পর থেকেই ১ নম্বর ও ২ নম্বর আসামি তাদের বর্তমান ঠিকানার বাসায় আমার মেয়ে ভিকটিম মরিয়মকে (১৯) রেখে তাকে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করত বলে আমার মেয়ে বিভিন্ন সময় আমাদেরকে মোবাইল জানায়।
“তারই ধারাবাহিকতায় রবিবার তারিখ বিকাল অনুমান সাড়ে ৫টায় ১ নম্বর আসামি আমাকে মোবাইল ফোনে দ্রুত তাহাদের বর্তমান ঠিকানার বাসায় যেতে বলে। তখন আমি আমার শ্যালিকা সুফিয়াকে সাথে নিয়ে একটি সিএনজিযোগে ১ নম্বর আসামির বর্তমান ঠিকানায় আসি। বাসায় এসে দেখি যে অনেক লোকজন সেখানে উপস্থিত আছে। তখন আমি জানতে পারি যে ১ নম্বর আসামির বর্তমান ঠিকানার বাসার ভেতরের রুমে আমার মেয়ে ভিকটিম মরিয়ম (১৯) ওড়না দিয়ে ফ্যানের সাথে গলায় ফাঁস দিয়ে ঝুলে আছে মর্মে তাহারা জানালা দিয়ে দেখিয়াছে। রুমের দরজা ভেতর থেকে লাগানো আছে।
“তখন আমার উপস্থিতিতে শেরেবাংলা নগর পুলিশের সহায়তায় সাক্ষী মো. সাইদুল ইসলাম (৩৬), (পিডাব্লিউডিতে প্লাম্বার হিসেবে অস্থায়ী কর্মরত) সাবল দিয়ে দরজা ভেঙ্গে ভেতরে প্রবেশ করিয়া আমার মেয়ের দেহ ওড়না দিয়ে ফ্যানের সাথে গলায় ফাঁস দিয়ে ঝুলে আছে মর্মে আমরা দেখতে পাই। তখন আমার মেয়ের বিছানার উপরে তাহার লেখা একটি সুসাইড নোট পাই। যাহাতে লেখা আছে ‘শুধু মায়ায় পড়েছি বলে বারবার তোমার কাছে নত হই, তাহা না হলে যতোটা সস্তা ভাবছো ততটা সস্তা আমি নই... আমি অতি বিশ্বাস করে যুদ্ধে নেমে ছিলাম। তার সাথে জিততে পারিনি হেরে গেলাম ময়দানে। জিতবোই বা কেমনে যুদ্ধের শেষ প্রান্তে যেয়ে দেখি তুমিতো ছিলে বিপক্ষের সেনাপতি। আমি হেরেছি, তুমি জিতেছো কারণ আমি তোমাকে বিশ্বাস করেছিলাম বলেই তো ঠকিয়ে জিততে পেরেছো। আমি ধ্বংসের শেষে দাড়িয়ে মুখে হাসি রেখেছি, ভেবে নাও এই হাসির কারণই হবে তোমার ধ্বংসের কারণ’-সহ আরও অনেক কিছু লেখা আছে। আমি ঘটনাস্থলে উপস্থিত লোকজনদের জিজ্ঞাসাবাদে জানতে পারি ৩টা থেকে সাড়ে ৫টার মধ্যবর্তী যেকোনও সময়ে আমার মেয়ে ঘটনাস্থলে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেছে।”
“শেরেবাংলা নগর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হইয়া আমার মেয়ে মরিয়মের (১৯) লাশের সুরতহাল রিপোর্ট প্রস্তুত করিয়া লাশ মর্গে প্রেরণ করেন। ৩ নম্বর আসামি মো. ওবায়দুর রহমানের (৩৮) প্রত্যক্ষ প্ররোচনায় ১ নম্বর আসামির সহিত আমার মেয়ের বিয়ে হয়। পরবর্তীতে ১ নম্বর আসামি জিএম নজরুল ইসলাম এবং ২ নম্বর আসামি মোছা. মাকছুদা ইসলাম-দ্বয়ের শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন সহ্য করতে না পারিয়া এবং আসামিদের প্ররোচনায় আমার মেয়ে মরিয়ম আত্মহত্যা করিয়াছে।”
“উক্ত ঘটনার বিষয়ে আমার পরিবারের লোকজনের সাথে আলাপ-আলোচনা করিয়া থানায় আসিয়া এজাহার দায়ের করিতে বিলম্ব হইলো।”









